পারভিন জামান মৌসুমী । বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

আরিফা পারভিন জামান মৌসুমী যিনি মৌসুমী নামে অধিক পরিচিত একজন বাংলাদেশী জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। মৌসুমি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবথেকে বেশী তুুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তিনি রেকর্ড সংখ্যা ১০ বছরে ১০০ ছবিতে অভিনয় করেন। তিনি প্রথম ছবি থেকে বর্তমান যুগের সব অভিনেতা অভিনেত্রীর আইডল।মৌসুমী অভিনীত প্রথম ছায়াছবি কেয়ামত থেকে কেয়ামত। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছোট পর্দার বেশ কিছু নাটক ও বিজ্ঞাপন চিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী। এছাড়া ২০০৩ সালের চলচ্চিত্র কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি পরিচালনার মাধ্যমে একজন পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। মৌসুমীর নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও আছে।

পারভিন জামান মৌসুমী । বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

প্রাথমিক জীবন

পারভিন জামান মৌসুমী ১৯৭৩ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশের খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। মৌসুমীর বাবার নাম নাজমুজ্জামান মনি এবং মায়ের নাম শামীমা আখতার জামান। ছোটবেলা থেকেই একজন অভিনেত্রী এবং গায়িকা হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি “আনন্দ বিচিত্রা ফটো বিউটি কনটেস্ট” প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন, যার উপর ভিত্তি করে তিনি ১৯৯০ সালে টেলিভিশনের বাণিজ্যিক ধারার বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে হাজির হন।

ব্যক্তিগত জীবন

পারভিন জামান মৌসুমী ১৯৯৬ সালের ২ আগষ্ট তারিখে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তাদের ফারদিন এহসান স্বাধীন (ছেলে) এবং ফাইজা (মেয়ে) নামের ২টি সন্তান রয়েছে। মৌসুমী নিজের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান “মৌসুমী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন” দেখাশুনা করে থাকেন। এছাড়াও তিনি একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হিসাবে কাজ করে থাকেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার বসুন্ধরা সিটি মার্কেটের একটি পোশাক স্টল “লেভিস” এর মালিকানার দায়িত্বে রয়েছেন।

পারভিন জামান মৌসুমী । বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

কর্মজীবন

পারভিন জামান মৌসুমী ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছায়াছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গনে পদার্পণ করেন। এই চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে ছিল অকাল প্রয়াত অভিনেতা সালমান শাহ। দুজনেরই এটি ছিল প্রথম চলচ্চিত্র। এ বছর আরও অভিনয় করেন মৌসুমী ও ওমর সানির বিপরীতে দোলা ছায়াছবিতে।

১৯৯৫ সালে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র শহীদুল ইসলাম খোকনের সাইকো-থ্রিলার বিশ্বপ্রেমিক। ১৯৯৬ সালে নিজের প্রযোজিত গরীবের রানী ও সুখের ঘরে দুখের আগুন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া চিত্রনায়ক মান্না প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র লুটতরাজ-এ অভিনয় করেন।১৯৯৯ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত আম্মাজান ও মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত মগের মুল্লুক ছায়াছবি দুটি ব্যবসাসফল হয়। ২০০১ সালে নার্গিস আক্তার পরিচালিত মেঘলা আকাশ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তার প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

২০০৩ সালে তার নিজের পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি ও দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত বীর সৈনিক ছায়াছবিতে অভিনয় করেন। ২০০৪ সালে তার অভিনীত মাতৃত্ব চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে।

পারভিন জামান মৌসুমী । বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

২০০৮ সালে একজন সঙ্গে ছিল ছায়াছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন পরিচালিত বাবা আমার বাবা ছায়াছবিতে অভিনয় করেন। ২০১০ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত গোলাপী এখন বিলাতে ছায়াছবির নাম ভূমিকায় অভিনয় করে অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে বাচসাস পুরস্কার ও দর্শক জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী (নারী) বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার।

পরের বছর মুক্তি পায় মুশফিকুর রহমান গুলজার পরিচালিত কুসুম কুসুম প্রেম, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের প্রজাপতি, ও চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত দুই পুরুষ। প্রজাপতি ছায়াছবিতে অভিনয়ের জন্য দর্শক জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী (নারী) বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৩ সালে নন্দিত কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস দেবদাস অবলম্বনে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত দেবদাস চলচ্চিত্রে “চন্দ্রমুখী” চরিত্রে অভিনয় করেন।

২০১৪ সালে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত তারকাঁটা ছায়াছবিতে আরিফিন শুভর বোনের চরিত্রে অভিনয় করেন।এছাড়া চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ প্রযোজিত এক কাপ চা ছায়াছবিতে একজন লাইব্রেরিয়ান চরিত্রে অভিনয় করেন। তারকাঁটা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য লাভ করেন তৃতীয় বারের মত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এছাড়াও এক কাপ চা চলচ্চিত্রের জন্য পান সমালোচকদের বিচারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী (নারী) হিসেবে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার।

২০১৫ সালে ঈদে মুক্তি পায় ইন্দো-বাংলা প্রযোজনায় আশোক পাতি ও আব্দুল আজিজ পরিচালিত আশিকী। ২০১৬ সালের ভালোবাসা দিবসে মুক্তি পায় মুশফিকুর রহমান গুলজার পরিচালিত ‌মন জানেনা মনের ঠিকানা। এই চলচ্চিত্রে তিনি একজন আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করেন।

২০০৩ সালে কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি দিয়ে মৌসুমী চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে পরিচালনা করেন মেহের নিগার। ২০১৬ সালে শূন্য হৃদয় নামে একটি টেলিফিল্ম পরিচালনা করছেন।

পারভিন জামান মৌসুমী ২০০৪ সালে জাহিদ হোসেন পরিচালিত মাতৃত্ব ছায়াছবিতে একটি গানে কণ্ঠ দেন। ২০০৭ সালে ইথুন বাবুর সুরে ২০১৪ সালে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত তারকাঁটা ছায়াছবিতে “কি যে শূন্য লাগে তুমিহীনা” গানে কণ্ঠ দেন। এছাড়া মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ছায়াছবি চলচ্চিত্রে “মন যা বলে বলুক” গানের গীত রচনা করেছেন।

পারভিন জামান মৌসুমী । বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

সম্মাননা

বাংলাদেশের শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনমত ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রতি তিনি ও বাংলাদেশের প্রথিতযশা জাদুকর জুয়েল আইচ ইউনিসেফ অ্যাডভোকেটের দায়িত্ব পান। ১৬ জুন ২০১৯ তারিখে মৌসুমীকে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আজীবন সম্মাননা প্রদান করে। এ সম্মাননার মাধ্যমে তিনি এ সংগঠনটির সদস্য মনোনিত হন।

পুরস্কার

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পারভিন জামান মৌসুমী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এছাড়াও অর্জন করেন একাধিক বাচসাস পুরস্কার ৫ বার ও মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন