জয়া আহসান । বাংলাদেশী মডেল ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

জয়া আহসান বা জয়া মাসউদ একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় বাংলাদেশী মডেল ও অভিনেত্রী। জয়া পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রেও কাজ করেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ পর্যন্ত চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ছয়টি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ও তিনটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পূর্বসহ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন।জয়া আহসান চলচ্চিত্রে আগমনের পূর্বে দীর্ঘদিন টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন। অভিনয় শুরুর আগে নাচ এবং গানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন তিনি, রবীন্দ্রসঙ্গীতের উপর ডিপ্লোমা এবং আধুনিক সঙ্গীতের উপর প্রশিক্ষণও নেয়া আছে তার।

জয়া আহসান । মডেল ও অভিনেত্রী

জয়ার শৈশব

জয়া আহসান জন্মগ্রহণ করেন গোপালগঞ্জ জেলায়। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা এ এস মাসউদ এবং মা রেহানা মাসউদ ছিলেন একজন শিক্ষিকা। তারা দুই বোন এক ভাই। অভিনয় শুরুর আগে জয়া নাচ ও গানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি ছবি আঁকা শিখেছিলেন। তিনি একটি সংগীত স্কুলও পরিচালনা করেন।

জয়ার দাম্পত্যজীবন

জয়া আহসান এবং মডেল ফয়সাল আহসান ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। তিনি জয়া মাসউদ নামে ক্যারিয়ার শুরু করলেও বিয়ের পর নামের শেষে আহসান যোগ করে জয়া আহসান হয়ে যান। বিয়ের পর তারা ধানমন্ডিতে একটি ফাস্টফুডের দোকানও খুলেছিলেন। কিন্তু তাদের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় নি, ২০১১ সালে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়।

জয়ার অভিনীত চলচ্চিত্র

জয়া আহসানের অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ব্যাচেলর, মুক্তি পায় ২০০৪ সালে। তিনি নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত, সৈয়দ শামসুল হক এর নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস অবলম্বনে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত, গেরিলা চলচ্চিত্রে বিলকিস বানু চরিত্রে অভিনয় করেন। তিনি রেদওয়ান রনি পরিচালিত চোরাবালি চলচ্চিত্রে সাংবাদিক নবনী আফরোজ চরিত্রে অভিনয় করে টানা দুইবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এরপর তিনি অনিমেষ আইচ পরিচালিত জিরো ডিগ্রী (২০১৫) ও অনম বিশ্বাস পরিচালিত দেবী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে আরও দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

জয়া আহসান । মডেল ও অভিনেত্রী

টলিউড থেকে শুরু করে ইন্টারন্যাশনাল খ্যাতি প্রাপ্ত এই অভিনেত্রী বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশেই তার প্রতিবার গুনে নিজেকে আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু করে তুলেছেন। কখনো তার বোল্ড চরিত্র আবার কখনো তার ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে উঠে এসেছে নানা বিতর্ক। তার সময়কালে তিনি আমাদের বিজয়া, গেরিলার মতো অসাধারণ চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন যা দর্শকদের অন্তরে চিরভাস্বর।

দুই বাংলার জনপ্রিয় মুখ জয়া আহসান। বিজ্ঞাপন আর নাটকের গণ্ডি পেরিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন ২০০৪ সালে, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ দিয়ে। আর কলকাতায় তাঁর প্রথম ছবি ‘আবর্ত’। এরই মধ্যে কাজ করেছেন খ্যাতিমান অনেক নির্দেশকের নির্দেশনায়। অভিজ্ঞতার ঝুলিতে চার-চারবার জমা পড়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পুরস্কার। পেয়েছেন ভারতের ফিল্মফেয়ার। হেঁটেছেন কান উৎসবের রেড কার্পেটে। ‘দেবী’ দিয়ে নাম লিখিয়েছেন প্রযোজনায়।

জয়া আহসান । মডেল ও অভিনেত্রী

পুরস্কার ও সম্মাননা

এনেছি সূর্যের হাসি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ের পর জয়া আহসান জাতিসংঘের নারী ও শিশু সহায়তা বিভাগের শুভেচ্ছা দূত হন। ২০১৬ সালে তিনি চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ইন্সপায়ারিং ওমেন অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। ২০২২ সালে বিনি সুতোয় চলচ্চিত্রের জন্য তিনি বাংলা ভাষার জনপ্রিয় সাময়িকী আনন্দলোক সেরা অভিনেত্রী সম্মাননা অর্জন করেন।তিনি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ সমালোচকদের বিচারে শ্রেষ্ঠ নারী চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী বিভাগে মনোনীত হন এবং ২০১৭ সালে প্রদত্ত ৪০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন।রাজকাহিনী ছায়াছবিতে অভিনয়ের জন্য ১৬তম টেলি সিনে পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন