কোহিনূর আক্তার সুচন্দা । অভিনেত্রী ও পরিচালক

কোহিনূর আক্তার সুচন্দা যশোরে জন্ম নেয়া বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও পরিচালক। তিনি ১৯৬০-এর দশকে অভিনয় জীবন শুরু করেন। তার ছোট বোন ববিতা ও চম্পা ঢালিউডের দুই অভিনেত্রী। অভিনেতা রিয়াজ তার চাচাত ভাই। ২০০৮ সালে হাজার বছর ধরে চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছিলেন। এছাড়া ২০১৯ সালে তাঁকে আজীবন সম্মাননা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করা হয়।

কোহিনূর আক্তার সুচন্দা । অভিনেত্রী ও পরিচালক

প্রাথমিক জীবন

সুচন্দার আসল নাম কোহিনূর আক্তার সুচন্দা, ডাক নাম চাটনি। ১৯৪৭ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর যশোরের সাতক্ষীরায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা এএসএম নিজামউদ্দীন আইয়ূব একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করতেন। মা ডাঃ বেগম জাহান আরা ছিলেন একজন হোমিও চিকিৎসক। তিন বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে সুচন্দা সবার বড়।

সুচন্দা যশোর মোমেন গার্লস স্কুলে ও যশোর মাইকেল মধূসূদন কলেজে পড়ালেখা করেন। স্কুল কলেজের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। তিনি যশোরে কিশোরী নৃত্যশিল্পী হিসাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। পিতার চাকরি বদলীর কারণে ঢাকায় চলে আসেন এবং ঢাকা সিটি কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। যশোরে থাকাকালীন শকুন্তলা নাটকে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন।

কোহিনূর আক্তার সুচন্দা । অভিনেত্রী ও পরিচালক

পারিবারিক জীবন

১৯৬৭ সালে বেহুলায় অভিনয় করার সময় চিত্র পরিচালক জহির রায়হানের সাথে তাঁর ভাব বিনিময় হয় এবং ১৯৬৭ সালে তাকে বিয়ে করেন। জহির রায়হান ১৯৭২ সালের ৩০শে জানুয়ারি বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খোঁজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। তাঁদের দুই ছেলে, আরাফাত রায়হান অপু ও তপু রায়হান। আরাফাত রায়হান অপু একজন ব্যাংকার ও তপু রায়হান একজন ব্যবসায়ী। ১৯৭৬ সালে সুচন্দা ব্যবসায়ী এম রেজাউল মালিককে বিয়ে করেন। তাদের দুই মেয়ে রয়েছে, রাফাইয়াৎ মালিক ও রাফাইয়া মালিক।

অভিনয় জীবন

কোহিনূর আক্তার সুচন্দা ১৯৬৫ সালে অভিনয় শুরু করেন প্রখ্যাত অভিনেতা কাজী খালেকের একটা প্রামাণ্যচিত্রে। সুভাষ দত্ত পরিচালিত কাগজের নৌকা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। পরবর্তীকালে, ১৯৬৭ সালে হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে চলচ্চিত্র বেহুলায় অভিনয় করেন। এতে তিনি রাজ্জাকের বিপরীতে অভিনয় করেন।তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছবি জীবন থেকে নেয়া। এছাড়াও ৬০ এর দশকের শেষের দিকে গোলাম মুস্তফার বিপরীতে চাওয়া পাওয়া, আজিমের বিপরীতে নয়নতারা, রাজ্জাকের বিপরীতে সুয়োরানী দুয়োরানী এবং ৭০ এর দশকে যে আগুনে পুড়ি, কাচের স্বর্গ, অশ্রু দিয়ে লেখা তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র।

 

কোহিনূর আক্তার সুচন্দা । অভিনেত্রী ও পরিচালক

অভিনয়ের পাশপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন। জহির রায়হানের জীবদ্দশায় টাকা আনা পাই ও প্রতিশোধ চলচ্চিত্র দুটি প্রযোজনা করেন। এছাড়াও তিনকন্যা, বেহুলা লখীন্দর, বাসনা ও প্রেমপ্রীতি চলচ্চিত্রগুলো প্রযোজনা করেন। তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘সবুজ কোট কালো চশমা’। ২০০৫ সালে স্বামী জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের আলোকে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন এবং সেরা প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

বেহুলা’ ছবিতে কাজ করতে গিয়ে পরিচালক জহিরের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কোন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া তাড়াহুড়া করে বিয়ে করেন তারা।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন