অভিনেত্রী পূর্ণিমা । বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

অভিনেত্রী পূর্ণিমার আসল নাম দিলারা হানিফ রীতা একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, তিনি চলচ্চিত্র জগতে পূর্ণিমা নামে অধিক পরিচিত ও জনপ্রিয়। পূর্ণিমার চলচ্চিত্র জগতে পথচলা শুরু হয়েছিল জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত এ জীবন তোমার আমার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।এ সময় তিনি মাত্র নবম শ্রেণীতে পড়তেন। তার প্রথম ছবির নায়ক ছিলেন রিয়াজ। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ওরা আমাকে ভাল হতে দিল না (২০১০) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে তিনি তার প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

অভিনেত্রী পূর্ণিমা । বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

প্রাথমিক জীবন

অভিনেত্রী পূর্ণিমা ১৯৮৪ সালের ১১ জুলাই বাংলাদেশের চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। তার বেড়ে ওঠা ঢাকায়।

কর্মজীবন

অভিনেত্রী পূর্ণিমার চলচ্চিত্রে আগমন জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত এ জীবন তোমার আমার দিয়ে।২০০৩ সালে মুক্তি পায় তার সব থেকে সফল ছবি মতিউর রহমান পানু পরিচালিত মনের মাঝে তুমি। এটি বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় বাংলাদেশের সবথেকে সফল ছবির মধ্যে অন্যতম।

২০০৬ সালে রবীন্দ্রনাথের শুভাসিনী গল্প অবলম্বনে নির্মিত সুভা চলচ্চিত্রে তিনি নাম ভূমিকায় একজন বাক প্রতিবন্ধী চরিত্রে অভিনয় করেন। একই বছর তার অন্যতম বাণিজ্যিক সফল ছায়াছবি হৃদয়ের কথা মুক্তি পায় এবং এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী (নারী) বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেন।

২০০৭ সালে তিনি ধোকা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সমালোচক শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী (নারী) বিভাগে পুরস্কৃত হন এবং মনের সাথে যুদ্ধ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী (নারী) বিভাগে মনোনীত হন।

২০০৮ সালে তার অভিনীত আরেকটি বাণিজ্যিক সফল ছায়াছবি আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা মুক্তি পায়। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এর তারকা জরিপ ও সমালোচক শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী (নারী) বিভাগে মনোনীত হন।

অভিনেত্রী পূর্ণিমা । বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

২০১১ সালে চিত্রনায়ক আলমগীর প্রযোজিত শাহ আলম কিরণ পরিচালিত মাটির ঠিকানা মুক্তি পায়। ছায়াছবিটি বাণিজ্যিক সফলতা লাভ করে। পাশাপাশি মুক্তি পায় আরেক চিত্রনায়ক সোহেল রানা প্রযোজিত আহমেদ নাসির পরিচালিত মায়ের জন্য পাগল।[১৩] এটিও বাণিজ্যিক সফলতা লাভ করে ও পূর্ণিমা মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এর তারকা জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী (নারী) বিভাগে মনোনয়ন লাভ করেন।

অভিনেত্রী পূর্ণিমা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি টিভি নাটকেও কাজ করেছেন। ২০১১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়ান দিবস উপলক্ষে তার ছোটগল্প ল্যাবরেটরি অবলম্বনে মাহবুবা ইসলাম সুমির পরিচালনায় ল্যাবরেটরি নাটকে সেজুতি চরিত্রে অভিনয় করেন।

২০১৮ সাল থেকে তিনি তারকাদের নিয়ে আলাপচারিতা অনুষ্ঠান “এবং পূর্ণিমা” উপস্থাপনা করছেন। এই বছর তিনি মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত হ্যালো ৯১১-লাভ ইমার্জেন্সি, রাজিবুল ইসলাম রাজিব পরিচালিত রোদ্দুরে পেয়েছি তোমার নাম টেলিছবি এবং আবির খান পরিচালিত ম্যানিকুই টেলিভিশন নাটকের অনুবর্তী পর্বে কাজ করেন।

অভিনীত চলচ্চিত্র

পূর্ণিমা অভিনীত জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে এফ আই মানিক পরিচালিত অপরাধ-নাট্যধর্মী লাল দরিয়া (২০০২), মতিউর রহমান পানু পরিচালিত প্রণয়ধর্মী মনের মাঝে তুমি (২০০৩), চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত যুদ্ধভিত্তিক মেঘের পরে মেঘ (২০০৪) ও নাট্যধর্মী সুভা, এবং এস এ হক অলিক পরিচালিত প্রণয়ধর্মী হৃদয়ের কথা (২০০৬) ও আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা (২০০৮)। পূর্ণিমার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় রিয়াজের বিপরীতে। রিয়াজের বিপরীতেই ২৫টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

অভিনেত্রী পূর্ণিমা । বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

ব্যক্তিগত জীবন

২০১০ সালে ঘোষনা দিয়েই ফাহাদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী পূর্ণিমা। বিয়ের পরে চলচ্চিত্রকে বিদায় জানিয়ে জাপানে স্থায়ী হবেন এমন ঘোষনা দিলেও পরে ফিরে আসেন। ফাহাদের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েও সংবাদ হন পূর্ণিমা। বর্তমানে স্বামীর সাথে চট্টগ্রামে থাকছেন তিনি।  ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় পূর্ণিমা রাজধানীর উত্তরাস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

  • বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী – ওরা আমাকে ভাল হতে দিল না (২০১০)

মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার

  • বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড চ্যানেল আই পুরস্কার

  • মনোনীত: শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী – ২০১১

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন