অভিনেত্রী নূতন । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

ঢাকাই ছবির একসময়ের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নূতন । তার আসল নাম ফারহানা আমিন রত্না, তবে তিনি নূতন নামেই সর্বাধিক পরিচিত তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় এ অভিনেত্রী। ১৯৬৯ সালে মুস্তফা মেহমুদ পরিচালিত নতুন প্রভাত চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার বাংলাদেশী চলচ্চিত্র শিল্পে অভিষেক ঘটে। তিনি ১৯৯১ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত স্ত্রীর পাওনা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

অভিনেত্রী নূতন । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

জন্ম ও শৈশব

অভিনেত্রী নূতন ১৯৫৬সালে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নূতন। শৈশবে গান দিয়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হলেও পরবর্তীতে নৃত্য এবং মঞ্চ অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন তিনি।

চলচ্চিত্রে অভিনয়

১৯৭০ সালে তার প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তি পায় এবং তিনি এখনো অভিনয় করে যাচ্ছেন। তার আরেকটি পরিচয় হল তিনি একজন সফল চলচ্চিত্র প্রযোজক। তার বড় বোন গীতার হাত ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগে থেকেই তিনি গান, নাচ এবং অভিনয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন। শৈশবে তিনি গান শিখেন। পরবর্তীতে নৃত্যের প্রতি আগ্রহ থেকে নাচ শিখেন। তারপর ময়মনসিংহের মঞ্চ নাটকের সাথে জড়িত হন এবং সফলতা অর্জন করেন।

তার বড় বোন গীতা চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন। তিনি নূতনকে নায়িকা বানানোর আগ্রহ নিয়ে অভিনেত্রী সুমিতা দেবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। সুমিতা দেবী নতুন প্রভাত নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মানের জন্য নতুন নায়ক নায়িকার খোঁজে ছিলেন। তার ইচ্ছে ছিল নায়িকার নাম থাকবে নূতন এবং নায়কের নাম হবে প্রভাত।

অভিনেত্রী নূতন । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

নায়িকা হিসেবে তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি পারিবারিক নাম রত্না থেকে ‘নূতন’ হয়ে যান। প্রভাত নামে নতুন একজন অভিনেতা নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে তিনি অভিনয় করেন নি, তার বিপরীতে অভিনয় করেন আনসার। নতুন প্রভাত পরিচালনা করেছিলেন মোস্তফা মেহমুদ। আর এভাবেই ১৯৭০ সালে রূপালী পর্দায় তার অভিষেক ঘটে।

প্রথম ছবিতেই নূতন পরিচিতি অর্জনে সক্ষম হন। স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে প্রথম মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রশংসিত হন। কিছুদিন নিয়মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও প্রায় পাঁচ বছর তিনি চলচ্চিত্র থেকে দূরে ছিলেন। নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘পাগলা রাজা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আবারও নতুনভাবে যাত্রা শুরু করেন।

‘স্ত্রীর পাওনা’ চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন। তার প্রযোজনা সংস্থার নাম বিএন প্রোডাকশন। তার প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘চান সুরুজ’। এরপর ‘কাবিন’, ‘সাহস’, ‘রূপের রাণী গানের রাজা’, ‘নাচে নাগিন’, ‘শত্রু ধ্বংস’সহ আরও বেশ কয়েকটি ছবি প্রযোজনা করেন তিনি।

অভিনেত্রী নূতন । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

ব্যক্তিগত জীবন

জন্মসূত্রে তিনি হিন্দু ধর্মাবলাম্বী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হন এবং প্রযোজক-পরিচালক রুহুল আমিন বাবুলকে বিয়ে করেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা

অভিনেত্রী নূতন ১৯৮৭ সালে বাচসাস এবং ১৯৯১ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৫ বাংলাসিনে অ্যাওয়ার্ড এ আজীবন সম্মাননা পান ।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন