মধু বসু । বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক

মধু বসু, জন্ম কলকাতায়। স্বনামধন্য ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র দত্তর নাতি। ছোটবেলায় শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করেছেন। বিদ্যাসাগর কলেজে পড়ার সময় শিশিরকুমার ভাদুড়ীর সান্নিধ্যে আসেন, ঐ সময় ইউনিভারসিটি ইনস্টিটিউটে শিশির ভাদুড়ী পরিচালিত নাটকে অভিনয়ও করেছেন। ১৯২৩ সালে ম্যাডান থিয়েটার্সে যোগ দেন অভিনেতা হিসাবে।

 

মধু বসু । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

মধু বসু । বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক

 

১৯২৪ সালে জে.জে. ম্যাডান পরিচালিত তুর্কীর ছবিতে সহপরিচালক হিসাবে কাজ করেন। হিমাংশু রায় পরিচালিত প্রেম সন্ন্যাস (১৯২৫) ছবিতেও সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন, এই ছবিতে একটি ছোট ভূমিকায় অভিনয়ও করেছিলেন। ১৯.২৫এ নিরঞ্জন পালের সাথে জার্মানীতে যান, UFA স্টুডিওতে সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসাবে কাজ শুরু করেন।

১৯২৬ সালে লন্ডন যান, সেখানে Gainshorough স্টুডিওতেও কিছুদিন সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসাবে শিক্ষানবিশি করেন। জার্মানী ও লন্ডনে থাকাকালীন ফ্রিজ ল্যাং এবং আলফ্রেড হিচককের সান্নিধ্যে এসেছিলেন। ১৯২৭ সালে হিমাংশু রায়ের আহ্বানে দেশে ফিরে আসেন। ঐ বছরই ক্যালকাটা আর্ট প্লেয়ার্স (CAP) এর প্রতিষ্ঠা করেন।

 

মধু বসু । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

এই সংস্থা তৎকালীন সময়ে অনেকগুলি নাটক মঞ্চস্থ করে। রাজনটী, বিদ্যুৎপর্ণা, সাবিত্রী, রূপকথা, আলিবাবা ইত্যাদি নাটকগুলি দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছিল। অভিজাত পরিবারের মেয়েদের মঞ্চে আনার কৃতিত্ব CAPর প্রাপ্য। স্ত্রী সাধনা বসু ছাড়াও মঞ্জু দে, সুপ্রভা মুখার্জীকে মঞ্চে অভিনয় করতে নিয়ে আসেন ।

১৯২৮ সালে ম্যাডান থিয়েটার্সে যোগ দেন গিরিবালা (১৯৩০) ছবিটি পরিচালনা করেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের কাহিনি অবলম্বনে এই ছবিতেই প্রথম লিখিত চিত্রনাট্যের ব্যবহার এবং বহির্দৃশ্যের চিত্রগ্রহণের সময় ঝকঝকা (Reflector) ব্যবহৃত হয় বলে ধীরাজ ভট্টাচার্য তাঁর আত্মজীবনীমূলক লেখায় উল্লেখ করেছেন।

সবাক যুগে তাঁর পরিচালনায় প্রথম বাংলা ছবি আলিবাবা (১৯৩৭)। ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদের লেখা গীতিনাট্যর সার্থক রূপায়ণ। এটি প্রযোজনা করে শ্রীভারতলক্ষ্মী পিকচার্স। ছবিটি ঐ সময়ে অসাধারণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই ছবিতে তিনি নিজে আবদাল্লার ভূমিকায় এবং সাধনা বসু মর্জিনার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। পরের ছবি অভিনয় (১৯৩৮) শ্রীভারতলক্ষ্মী পিকচার্সের প্রযোজনায় তৈরি হয়েছিল।

 

মধু বসু । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

পরবর্তীকালে তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবি দ্বিভাষিক কুমকুম (১৯৪০) সাগর মুভিটোনের প্রযোজনায় তৈরি এবং ওয়াদিয়া মুভিটোনের দ্বিভাষিক ছবি রাজনর্তকী (১৯৪১)। ১৯৪২ সালে নিউ থিয়েটার্সের হয়ে পরিচালনা করেন মীনাক্ষী। মাইকেল মধুসুদন (১৯৫০) তাঁর শেষ উল্লেখযোগ্য ছবি, এই ছবিতে উৎপল দত্ত মাইকেলের ভূমিকায় অভিনয় করেন।

রবীন্দ্রনাথের কাহিনি অবলম্বনে তাঁর ছবি শেষের কবিতা (১৯৫৩) ছবিতে অমিত রায়ের ভূমিকায় নির্মলকুমার এবং লাবণ্যর ভূমিকায় দীপ্তি রায় অভিনয় করেছিলেন। ১৯৬৪ সালে তাঁর শেষ ছবি বীরেশ্বর বিবেকানন্দ মুক্তি পায়।

 

প্রকাশনা –

মধু বসু লিখিত আত্মজীবনীমূলক ‘আমার জীবন’ গ্রন্থটি ১৯৬৭ সালে বাক সাহিত্য থেকে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে গ্রন্থটি পুনর্মুদ্রিত হয়েছে।

চলচ্চিত্রপঞ্জি —
  • ১৯৩০ গিরিবালা, ডালিয়া।
  • ১৯৩২ খাইবার ফ্যালকন।
  • ১৯৩৫ সেলিমা,
  • ১৯৩৬ বালা কি রাত
  • ১৯৩৭ আলিবাবা:
  • ১৯৩৮ অভিনয়:
  • ১৯৪০ কুমকুম,
  • ১৯৪১ রাজনর্তকী,
  • ১৯৪২ মীনাক্ষী
  • ১৯৪৭ গিরিবালা,
  • ১৯৫০ মাইকেল মধুসূদন
  • ১৯৫৩ রাখী, শেষের কবিতা
  • ১৯৫৪ বিক্রম উব্বশী:
  • ১৯৫৬ মহাকবি গিরিশচন্দ্র, পরাধীন, শুভলগ্ন
  • ১৯৯৪ ধীরেশ্বর বিবেকানন্দ।

Leave a Comment