বিয়াল্লিশ চলচ্চিত্রঃ বাংলা চলচ্চিত্র বা বাংলা সিনেমা ১৮৯০ সালে ভারতের কলকাতায় বায়োস্কোপ নামে শুরু হয়েছিল। ১৮৯৮ খ্রিষ্টাব্দের কলকাতায় বাঙালিদের মধ্যে প্রথম বায়োস্কোপ কোম্পানি গঠন করেন তৎকালীন ঢাকার বগজুরী গ্রামের হীরালাল সেন (১৮৬৬-১৯১৭)। তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নাম রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানি। তিনিই ছিলেন বাংলার প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতা।

বিয়াল্লিশ চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা — ফিল্ম ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া
- প্রযোজক — হেমেন গুপ্ত।
- কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা— হেমেন গুপ্ত।
- সংগীত পরিচালনা – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।
- চিত্রগ্রহণ – জি. কে. মেহতা।
- শিল্প নির্দেশনা – বীরেন নাগ।
- শব্দগ্রহণ – মান্না লাডিয়া।
- সম্পাদনা—অর্ধেন্দু চট্টোপাধায়।
- গীতিকার – তড়িৎকুমার ঘোষ।
অভিনয়
মঞ্জু দে, সুরুচি সেনগুপ্ত, লীলা ঘোষ, অমিতা সরকার, বিকাশ রায়, প্রদীপকুমার, কালী সরকার, শম্ভু মিত্র, শ্যামল দত্ত, হরিমোহন বসু, বঙ্কিম ঘোষ, সরোজ সেনগুপ্ত, অনিল গাঙ্গুলী, মধু ঘোষাল, শঙ্কর বসু, নীলরতন বন্দ্যোপাধ্যায়, গোপাল দত্ত, কিশোরী পাইন।

কাহিনি—
১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ঢেউ অন্য জায়গার মতো আছড়ে পড়ে বাংলার প্রত্যন্ত গ্রাম আলিনানেও, গ্রামের কিছু মানুষ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার আওয়াজু তোলে ‘করেঙ্গে ইয়ে মরেঙ্গে’। গান্ধীজীর গ্রেপ্তার আন্দোলনকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
পুলিসের অত্যাচারে দাসু (শম্ভু) কামারের মেয়ে ময়না মারা যায়। কংগ্রেস কর্মী অজয় (প্রদীপ) ও তার স্ত্রী বীণার (মঞ্জু) নেতৃত্বে গ্রামের মানুষ এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দাসু নিজের কামারশালে তৈরি ছুরি গ্রামের মেয়েদের হাতে তুলে দেয়। বিশ্বাসঘাতক মণ্ডল মহাজন এই খবর মেজর ত্রিবেদীর (বিকাশ) কানে পৌঁছে দেয়। ত্রিবেদীর উদ্যোগে শুরু হয় গ্রামবাসীদের উপর অত্যাচার।
স্বৈরাচারের দ্বিতীয় বলি দাসু। বিপ্লবের লেলিহান শিখা সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিপ্লবীরা ব্রিটিশ ঘাঁটি ধ্বংস করার চেষ্টা করে, এই রকম একটি দলের নেতৃত্ব দেয় বীণা। ত্রিবেদীর লোকেরা অজয়ের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং অজয়কে গ্রেপ্তার করে। অজয়-বীণার বাচ্চা ছেলেটি আগুনে পুড়ে মারা যায়। শত্রুর কবল থেকে অজয়কে উদ্ধার করে দলের কর্মীরা।
ত্রিবেদীর অর্ডারে সৈন্যরা নিরস্ত্র জনতার উপর গুলি চালায়, গুলিতে অজয়ের ঠাকুমার মৃত্যুতে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ব্রিটিশ সৈন্যরা গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। গ্রামের জমিদার বাড়িতে, পুলিসের দপ্তরে, ইউনিয়ন জ্যাক নামিয়ে ভারতের জাতীয় পতাকা তোলা হয়।
স্বাধীন ভারতে, পশ্চিমবঙ্গের সেন্সর বোর্ড এই ছবি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যদিও মাদ্রাজের সেন্সর বোর্ড এই ছবিকে সেন্সর সার্টিফিকেট দেয়। শেষ পর্যন্ত আদালতের আদেশে ছবি মুক্তি পায়।
