বিল্বমঙ্গল চলচ্চিত্র: বাংলা চলচ্চিত্র বা বাংলা সিনেমা ১৮৯০ সালে ভারতের কলকাতায় বায়োস্কোপ নামে শুরু হয়েছিল। ১৮৯৮ খ্রিষ্টাব্দের কলকাতায় বাঙালিদের মধ্যে প্রথম বায়োস্কোপ কোম্পানি গঠন করেন তৎকালীন ঢাকার বগজুরী গ্রামের হীরালাল সেন (১৮৬৬-১৯১৭)। তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নাম রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানি। তিনিই ছিলেন বাংলার প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতা।
তার তোলা খণ্ডচিত্র (নাটক থেকে) সীতারাম, আলীবাবা, দোললীলা, ভ্রমর, হরিরাজ বুদ্ধ ১৯০১ খ্রিষ্টাব্দের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতার স্টার থিয়েটার ও ক্ল্যাসিক থিয়েটারে প্রদর্শিত হয়। তিনি প্রামাণ্য চিত্র, বিজ্ঞাপন চিত্র এবং সংবাদচিত্রও নির্মাণ করেন।

বিল্বমঙ্গল চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা — এলফিনস্টোন বায়োস্কোপ কোম্পানি।
- পরিচালনা – ম্যাডান থিয়েটার্স লিমিটেড।
অভিনয়-
কে এম হর
কাহিনি—
ব্রাহ্মণ সন্তান বিশ্বমঙ্গল বারবনিতা চিন্তামণির (গহর) প্রেমে পড়ে। পিতার মৃত্যুর দিনেও সে চিন্তামণির বাড়িতে যায় এবং চিন্তামণি কর্তৃক উৎসিত এবং প্রত্যাখ্যাত হয়ে নিজেকে অন্ধ করে দেয়।

বিষমঙ্গল কৃষ্ণভজনায় নিজেকে নিয়োজিত করে, পরবর্তীকালে কৃষ্ণের কৃপায় দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায় এবং ভক্ত সুরদাস নামে সমাজে পরিচিতি লাভ করে। অন্যদিকে চিন্তামণিও এই পাপঞ্জীবন ত্যাগ করে কৃষ্ণভজনার মধ্য দিয়ে ভগবান কৃষ্ণের কৃপা লাভ করে। কৃষ্ণভজনার মধ্য দিয়েই তারা আবার পরস্পরের সাক্ষাৎ পায়। এই ছবিতে ভারতীয় সংগীত বাজিয়ে শোনানোর ব্যবস্থা ছিল বলে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
একই কাহিনি অবলম্বনে বিশ্বমঙ্গল (১৯৩৩) ইষ্ট ইন্ডিয়া ফিল্মস-এর প্রযোজনায় এবং তিনকড়ি চক্রবর্তীর পরিচালনায় তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীকালে পিনাকী মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ভক্ত বিশ্বমঙ্গল (১৯৬৪) এবং গোবিন্দ রায় পরিচালিত বিশ্বমঙ্গল (১৯৭৬) ছবি দুটিও একই কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত।
বাংলা ছাড়াও হিন্দীতে ১৯২৯, ১৯৩২, ১৯৪২, ১৯৪৮- ১৯৫৪ এবং গুজরাটি ভাষায় ১৯৪৭ সালে বিশ্বমঙ্গল নির্মিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ভারতীয় পুরাণ কাহিনির জনপ্রিয় এই আখ্যান অবলম্বনে বিভিন্ন নাট্যকার নাটকও রচনা করেছেন, সবচেয়ে জনপ্রিয় গিরিশচন্দ্র ঘোষের নাট্যরূপ স্টার থিয়েটারে ১২ই জুন ১৮৮৬ তারিখে প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল। এই নাটকে অমৃতলাল মিত্র বিশ্বমঙ্গলের এবং বিনোদিনী চিন্তামণির ভূমিকায় অভিনয় করেন।
