বিনতা রায়: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস শতাধিক বর্ষের ইতিহাস আর বাংলা কাহিনিচিত্রের প্রায় একশত বৎসরের ইতিবৃত্ত। সত্তরের দশকের মধ্যবর্তী সময় থেকে বাংলা চলচ্চিত্রে একদল নতুন পরিচালকের আবির্ভাবে বাংলা চলচ্চিত্র আবারও সমৃদ্ধ হল। এদের প্রায় সকলেই সক্রিয় ভাবে না হলেও ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং এদের মধ্যে কারো কারো তথ্যচিত্র বা স্বল্পদৈর্ঘ্য চিত্র তৈরি করার অভিজ্ঞতা ছিল।

বিনতা রায় । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
জন্ম বিহারের পাটনায়। নিউ থিয়েটার্স প্রযোজিত দিকশূল (১৯৪৩) ছবিতে নেপথ্য গায়িকা হিসাবে চলচ্চিত্র শিল্পে যোগ দেন। চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় নিউ থিয়েটার্স প্রযোজিত এবং বিমল রায় পরিচালিত উদয়ের পথে (১৯৪৪)। এই ছবিতে তিনি নায়িকা গোপার ভূমিকায় অভিনয়ের পাশাপাশি নেপথা গায়িকা হিসাবেও অংশ নেন।
এই ছবির জনপ্রিয়তা তাকে গায়িকা অভিনেত্রী হিসাবে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসে। বিমল রায় ছাড়াও হেমেন গুপ্ত, জ্যোতির্ময় রায়, তপন সিংহ, রাজেন তরফদার, পিনাকী মুখোপাধ্যায়, মৃণাল সেন প্রভৃতি পরিচালকের সাথে কাজ করেছেন।

গোপার ভূমিকায় রাধামোহনের বিপরীতে অভিনয় ছাড়াও তাঁর অভিনীত সমতা (দিনের পর দিন, ১৯৪৯) এবং শাস্তি (শঙ্খবাণী, ১৯৫১) চরিত্রদুটি প্রশংসিত হয়েছিল। সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে মাত্র ১৭টি বাংলা ছবির পাশাপাশি কয়েকটি হিন্দী ছবিতেও অভিনয় করেছেন।
স্বামী জ্যোতির্ময় রায় পরিচালিত দিনের পর দিন (১৯৪৯) এবং টাকা আনা পাই (১৯৫৬) ছবিতে অভিনয়ের সঙ্গে নেপথ্য সংগীতশিল্পী হিসাবেও কাজ করেছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ছবিগুলির সংগীত পরিচালক ছিলেন যথাক্রমে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং সত্যজিৎ মজুমদার।
গায়িকা হিসাবে তাঁর গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর লেখা কয়েকটি ছোটগল্প, চিত্রনাট্য এবং প্রবন্ধও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। চলচ্চিত্রাভিনয়ের পাশাপাশি মঞ্চে এবং বেতার নাটকেও অংশ নিয়েছেন।
প্রকাশিত গ্রন্থ
- বিনতা রায়
বিবিধ রচনা
- কলকাতা, থীমা, ২০০৪।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯৪৩ দিকশূল
- ১৯৪৪ উদয়ের পথে
- ১৯৪৭ অভিযাত্রী,
- ১৯৪৯ দিনের পর দিন;
- ১৯৫০ মানদণ্ড,
- ১৯৫১ শঙ্খবাণী,
- ১৯৫৬ টাকা আনা পাই, মা
- ১৯৫৭ কাঁচামিঠে;
- ১৯৬০ শখের চোর
- ১৯৬৩ শ্রেয়সী:
- ১৯৬৪ জতুগৃহ,
- ১৯৬৭ আকাশ ছোঁয়া;
- ১৯৭২ আলো আমার আলো, ছায়াতীর, কলকাতা ৭১. ছিন্নপত্র:
- ১৯৭৩ নতুন দিনের আলো।
