বিকাশ রায় । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা

বিকাশ রায়ের জন্ম কলকাতার ভবানীপুরে। আদি নিবাস নদীয়া জেলার প্রিয়নগরে। ভবানীপুরে মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে ১৯৩২ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৩৬ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বি. এ. এবং ১৯৪১ সালে বি.এল. পাস করে কিছুদিন আলিপুর কোর্টে ওকালতি করেন। পরবর্তীকালে কিছুদিন রেডিওতে, সিভিল ডিফেন্স এবং বিজ্ঞাপন সংস্থা ডি. জে কিমারেও চাকরি করেন।

 

বিকাশ রায় । বাংলা চলচ্চিত্রর অভিধান

 

বিকাশ রায় । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা

 

পরিবারে অভিনয়ের চর্চা ছিল। স্কুলে পড়ার সময় চন্দ্রগুপ্ত নাটকে সেকেন্দার-এর ভূমিকায় অভিনয় করেন। এই নাটকটির পরিচালনাও তিনিই করেছিলেন। প্রেসিডেন্সি কলেজের সোশালে বৈকুন্ঠের উইল নাটকে বিনোদের ভূমিকায় অভিনয় করে প্রশংসা পান। ডি. জে. কিমারের চাকরি ছেড়ে নাটকের আকর্ষণে আবার বেতারে যোগ দেন।

জ্যোতির্ময় রায়ের সাথে পরিচয়ের সূত্রে হেমেন গুপ্তর পরিচালনায় অভিযাত্রী (১৯৪৭) ছবিতে অভিনয় করেন। ভুলি নাই (১৯৪৮) ছবিতে পুলিস অফিসারের ভূমিকায় তাঁর অসাধারণ অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছিল। এই সময় খল চরিত্রের অভিনয়ে বিকাশ রায়ের কথাই প্রথমে বিবেচিত হত।

হেমেন গুপ্ত পরিচালিত বিয়াল্লিশ (১৯৫১) ছবিতে মেজর ত্রিবেদীর ভূমিকায় তার অভিনয় এতটাই ভালো হয়েছিল যে দর্শকরা ছবি দেখছে ভুলে গিয়ে পর্দায় তাঁর উদ্দেশে জুতো ছুঁড়েছিল বলে রটনা হয়। দেবকী বসু পরিচালিত রত্নদ্বীপ (১৯৫১) ছবিতে রাখালের ভূমিকায় তিনি একদিকে খল অন্যদিকে প্রেমিকের চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেন।

 

বিকাশ রায় । বাংলা চলচ্চিত্রর অভিধান

 

১৯৫০ সালে তিনি শিল্পনির্দেশক বীরেন নাগ ও সুবোধ দাসের সাথে যৌথভাবে প্রযোজনা করেন জিঘাংসা (১৯৫১)। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন অজয় কর । এই ছবিতেও তিনি খল নায়ক আনন্দরামের ভূমিকায় অভিনয় করেন।

১৯৫৪ সালে তৈরি করেন বিকাশ রায় প্রোডাকসন্স। এই সংস্থার প্রথম ছবি সাজঘর (১৯৫৫)। তিনি নায়ক অশোকের ভূমিকায় অভিনয় করেন, ছবিতে তাঁর বিপরীতে নায়িকা ছিলেন সুচিত্রা সেন।

২৫০টির বেশি ছবিতে অভিনয়ের সাথে সাথে আটটি ছবি পরিচালনা করেন, সাতটি ছবি প্রযোজনা করেন এবং ছবির প্রয়োজনে গল্পও লেখেন দুটি ছবির জন্য।

বিকাশ রায় পরিচালিত ছবিগুলি হল অর্ধাঙ্গিনী (১৯৫৫), সূর্যমুখী (১৯৫৬), নতুন প্রভাত (১৯৫৭), বসন্ত বাহার (১৯৫৭), মরুতীর্থ হিংলাজ (১৯৫৯), রাজাসাজা (১৯৬০), কেরী সাহেবের মুন্সী (১৯৬১) এবং কাজললতা (১৯৭৫)। এর মধ্যে নতুন প্রভাত এবং রাজাসাজা ছবি দুটি তাঁর গল্প অবলম্বনে তৈরি হয়।

 

বিকাশ রায় । বাংলা চলচ্চিত্রর অভিধান

 

ছবির নায়ক বা কেন্দ্রীয় চরিত্রে তিনি পঞ্চাশটিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল রত্নদীপ (১৯৫১), ছেলে কার (১৯৫৪), মরুতীর্থ হিংলাজ (১৯৫৯), উত্তর ফাল্গুনী (১৯৬৩), অন্তরাল (১৯৬৫), কাঁচ কাটা হীরে (১৯৬৬), আরোগ্য নিকেতন (১৯৬১), দাদু (১৯৬৯), পরিণীতা (১৯৬৯) ইত্যাদি। চলচ্চিত্রাভিনয়ে তাঁর শেষ ছবি মন্দির (১৯৮৭) সালে মুক্তি পায়, ইতিমধ্যেই তিনি ১৯৮৪ সালে অভিনয় থেকে অবসর নিয়েছেন।

রঙ্গমঞ্চে তিনি শিশিরকুমার ভাদুড়ী, অহীন্দ্র চৌধুরী মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যর সাথেও অভিনয় করেছেন। চিরকুমার সভায় পূর্ণ, প্রফুল্ল নাটকে সুরেশ দুই পুরুষে অরুণ প্রভৃতি ভূমিকায় অভিনয় করে খ্যাতি পান। পরে বিশ্বরূপায় চৌরঙ্গী এবং আসামী হাজির নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৭৬ সালে তপন থিয়েটারে নহবত নাটকেও অভিনয় করেছিলেন।

বিকাশ রায় রচিত মনে পড়ে, কিছু ছবি কিছু গল্প, প্রসঙ্গ অভিনয় এবং আমি গ্রন্থগুলি। পরবর্তী কালে সংকলিত হয়ে একত্রে প্রকাশিত হয়।

 

চলচ্চিত্রপঞ্জি—
  • ১৯৪৭ অভিযাত্রী,
  • ১৯৪৮ ভুলি নাই,
  • ১৯৪৯ বামুনের মেয়ে। আভিজাত্য, দিনের পর দিন, অনন্যা, বিষের ধোঁয়া, মায়াজাল, পরশপাথর
  • ১৯৫০ ইন্দ্রজাল, বৈকুণ্ঠের উইল, কাকনতলা লাইট রেলওয়ে, গরবিনী
  • ১৯৫১ বিয়াল্লিশ, কুলহারা, রত্নদীপ, জিঘাংসা, সুনন্দার বিয়ে:
  • ১৯৫২ বাগদাদ, মেঘমুক্তি, রাত্রির তপস্যা, মন্দির,
  • ১৯৫৩ জালিয়াত, হরনাথ পণ্ডিত, মাকড়সার জাল, কেরানীর জীবন, বৈমানিক, বনহংসী, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ব্লাইন্ড লেন,
  • ১৯৫৪ মা ও ছেলে, অঙ্কুশ, নদ ও নদী, মনের ময়ূর, না, প্রফুল্ল, ঢুলী, ছেলে কার, গৃহপ্রবেশ, জয়দেব,
  • ১৯৫৫ অনুপমা, সাজঘর, প্রতীক্ষা, শাপমোচন, পথের শেষে, বিধিলিপি, প্রশ্ন, জয় মা কালী বোর্ডিং, কালো বৌ, দস্যু মোহন, দুই বোন, মেজো বৌ, অর্ধাঙ্গিনী, কালিন্দী,
  • ১৯৫৬ মহানিশা, অভাগীর স্বর্গ, কীর্তিগড়, অসবর্ণা, লক্ষহীরা, পাপ ও পাপী, চোর, আমার বৌ,
  • ১৯৫৭ শেষ পরিচয়, বড়মা, সিঁদুর, আঁধারে আলো, নতুন প্রভাত, বসন্ত বাহার, অভিষেক, অভয়ের বিয়ে, কড়ি ও কোমল, জীবনতৃষ্ণা,
  • ১৯৫৮ যোগাযোগ, নূপুর, সূর্যতোরণ:
  • ১৯৫৯ : অভিশাপ, মরুতীর্থ হিংলাজ, গলি থেকে রাজপথ, ছবি
  • ১৯৬০ মায়ামৃগ, রাজাসাজা, স্মৃতিটুকু থাক, অপরাধ;
  • ১৯৬১ কেরী সাহেবের মুন্সী, বিষকন্যা, অগ্নিসংস্কার, স্বাক্ষ পঙ্কতিলক, মধুরেণ, মা:
  • ১৯৬২ কাঁচের স্বর্গ, সঞ্চারিণী, বধু, মায়ার সংসার;
  • ১৯৬৩ উত্তর ফাল্গুনী, অবশেষে, শেষ অঙ্ক, দুই নারী, আকাশ প্রদীপ, ছায়াসুর্য, বাদশা
  • ১৯৬৪ কালস্রোত, তাহলে, বিভাগ, জীবন কাহিনী, স্বর্গ হতে বিদায়, অতুগৃহ, গোধূলি বেলায়, প্রভাতের রঙ, দীপ নেভে নাই, আরোহী সন্ধ্যাদীপের শিখা, সুভা ও দেবতার গ্রাস, কে তুমি।
  • ১৯৬৫ মহালগ্ন, অন্তরাল, ও কে, সুরের আগুন, দেবতার দীপ, অভয়া ও শ্রীকান্ত:
  • ১৯৬৬ মণিহার, গৃহসন্ধানে, অঙ্গীকার, রাজদ্রোহী, হারানো প্রেম, উত্তর পুরুষ, জোড়াদীঘির চৌধুরী পরিবার
  • ১৯৬৭ বধূবরণ, খেয়া, প্রস্তর স্বাক্ষর
  • ১৯৬৮ হংস মিথুন, তিন অধ্যায়, অদ্বিতীয়া, গড় নাসিমপুর, বৌদি:
  • ১৯৬৯ দুরস্ত চড়াই দাদু, পরিণীতা, তীরভূমি, মন নিয়ে, অগ্নিযুগের কাহিনী, অপরিচিত, আরোগ্য নিকেতন
  • ১৯৭০ কলঙ্কিত নায়ক, মেঘ কালো
  • ১৯৭১ নবরাগ, মাল্যদান, প্রথম বসন্ত, নিশাচর, ফরিয়াদ
  • ১৯৭২ বিরাজ বৌ, আলো আমার আলো ছায়াতীর, মেমসাহেব, হার মানা হার নতুন দিনের আলো
  • ১৯৭৩ আঁধার পেরিয়ে, কায়াহীনের কাহিনী, বনপলাশির পদাবলী, দুরত্ত জয়, আমি সিরাজের বেগম, বিন্দুর ছেলে, শেষ পৃষ্ঠায় দেখুন:
  • ১৯৭৪ দাবী
  • ১৯৭৫ নতুন সূর্য, কাজললতা
  • ১৯৭৬ বিশ্বমঙ্গল, শঙ্খ বিষ, নন্দিতা:
  • ১৯৭৭ রাজবংশ, সব্যসাচী, অসাধারণ, রামের সুমতি নানারঙের দিনগুলি, ভোলা ময়রা, জয়, তিন পরী ছয় প্রেমিক, কবিতা, ছোট্ট নায়ক।
  • ১৯৭৮ দুই পুরুষ, সিংহদুয়ার, মান অভিমান।
  • ১৯৭৯ ভাগ্যলিপি, যত মত তত পথ দেবদাস, দৌড়, হীরে মাণিক, জীবন যে রকম, শ্রীকান্তের উইল, ডুব দে মন কালী বলে, সমাধান শুভ সংবাদ
  • ১৯৮০ সন্ধি, রাজনন্দিনী, ঘরের বাইরে ঘর, প্রিয়তমা, পরবেশ, ভাগ্যচক্র শেষ বিচার বড় ভাই
  • ১৯৮১ ওগো বধূ সুন্দরী, সুবর্ণলতা, অবিচার, সেই সুর, দুর্গা দুর্গতিনাশিনী, স্বামী স্ত্রী. কলঙ্কিনী, পাহাড়ী ফুল:
  • ১৯৮২ প্রেয়সী, সোনার বাংলা, বন্দিনী কমলা
  • ১৯৮৩ উৎসর্গ, অর্পিতা, জ্যোৎস্না বাত্রি, জীবনমরণ
  • ১৯৮৪ দাদামণি, প্রায়শ্চিত্ত, সাগর বলাকা লাল গোলাপ, অগ্নিশুদ্ধি, শত্রু
  • ১৯৮৫ অজান্তে, আমার পৃথিবী
  • ১৯৮৬ মুক্তপ্রাণ
  • ১৯৮৭ মন্দির।

Leave a Comment