বাসবী নন্দীর জন্ম কলকাতায়, আশুতোষ কলেজ থেকে আই.এ. পাস করে বি.এ. পড়তে ভর্তি হন। শিক্ষা অসম্পূর্ণ রেখেই চলচ্চিত্র শিল্পের সাথে যুক্ত হন। উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নেন সত্যদের চৌধুরীর কাছে। সতীনাথ মুখোপাধ্যায় এবং উৎপলা সেনের কাছেও সংগীত শিক্ষা নিয়েছেন।

বাসবী নন্দী । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
বিপ্লবী অনন্ত সিংহ প্রযোজিত এবং প্রফুল চক্রবর্তী পরিচালিত যমালয়ে জীবন্ত মানুষ (১৯৫৮) ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন। এই ছবিতে তিনি ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী মাধবীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।
তার অভিনীত মিলি (দুই বেচারা, ১৯৬০), মালা (শখের চোর, ১৯৬০): বার্মিজ মেয়ে (অভয়া ও শ্রীকান্ত, ১৯৬৫); নার্স (আমি সে ও সখা, ১৯৭৫) ছাড়াও অন্যান্য চরিত্রগুলি দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে। সুশীল মজুমদার পরিচালিত রোদনভরা বসন্ত (১৯৭৪) ছবিতে করুণার এবং উত্তমকুমার পরিচালিত বনপলাশির পদাবলী ছবিতে লক্ষ্মীর ভূমিকায় বাসবীর অভিনয় দর্শকদের সাথে চলচ্চিত্র সমালোচকদেরও প্রশংসা অর্জন করে।

সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে প্রায় ২৫টি ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি ৬টি ছবিতে নেপথ্য সংগীত পরিবেশনও করেছেন। উল্লেখযোগ্য যে সব পরিচালকের সাথে কাজ করেছেন তারা হলেন কনক মুখোপাধ্যায়, হরিদাস ভট্টাচার্য, বিজয় বসু, সলিল দত্ত, অজয় করা, সুশীল মুখোপাধ্যায় প্রভৃতি।
অভিনেত্রী হিসাবে পেশাদার রঙ্গমঞ্চের সাথেও যুক্ত ছিলেন। স্টার, রংমহল, মিনার্ভা, কাশী বিশ্বনাথ, বিজন থিয়েটার প্রভৃতি মঞ্চে বিভিন্ন নাটকে অংশ নিয়েছেন। সংগীতশিল্পী হিসাবে চলচ্চিত্রে নেপথ্য সংগীত পরিবেশনের সাথে তার গাওয়া আধুনিক এবং রবী সংগীতের রেকর্ডও প্রকাশিত হয়েছে। বেতার নাটকেও নিয়মিত অংশ নিয়েছেন।
চলচ্চিত্র পঞ্জি —
- ১৯৫৮ যমালয়ে জীবন্ত মানুষ, পুরীর মন্দির
- ১৯৫৯ প্রাপ্তি, মৃতের মর্তে আগমন
- ১৯৬০ দুই বেচারা, শখের চোর
- ১৯৬১ কাঞ্চনমূল্য
- ১৯৬৪ দীপ নেভে নাই,
- ১৯৬৫ মহালগ্ন, অভয়া ও শ্রীকান্ত, রাজা রামমোহন
- ১৯৬৮ বাঘিনী
- ১৯৭০ কলঙ্কিত নায়ক,
- ১৯৭১ নবরাগ
- ১৯৭৩ বনপলাশির পদাবলী, আমি সিরাজের বেগম: কায়াহীনের কাহিনী, এক যে ছিল বাঘ।
- ১৯৭৪ রোদনভরা বসন্ত, শজারুর কাঁটা
- ১৯৭৫ আমি সে ও সখা
- ১৯৭৬ সেই চোখ
- ১৯৮০ এই তো সংসার
- ১৯৮৮ রাতের কুহেলী
- ১৯৮৯ শত্রুপক্ষ।
