বারীন সাহার জন্ম কলকাতার গড়পারে। ১৯৪৩ সালে ম্যাট্রিক পাস করে বিদ্যাসাগর কলেজে ভর্তি হন।১৯৪১-৫১ অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে কিছুদিন জেল খেটেছেন। ১৯৫২ সালে ফ্রান্স চলে যান এবং ফ্রান্সের বিখ্যাত ফিল্ম স্কুল (Institur des Nautes Etudes Cinematographiques) থেকে পরিচালনা ও সম্পাদনা বিষয়ে স্নাতক হন। ১৯৫২-৫৪ পর্যন্ত ফ্রান্সে ছিলেন।

বারীন সাহা । বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক
১৯৫৪ সালেই ইতালির রোমে Centro Sperimentale di Cinematografiaতে দু বছর হাতে কলমে কাজ শেখেন।১৯৫৯ এ দেশে ফিরে তাঁর প্রথম কাহিনিচিত্র তেরো নদীর পারে (১৯৬১) ছবিটির কাজ শুরু করেন। ছবিটির সবটাই বহির্দৃশ্যে তোলা হয়েছিল। ডিস্ট্রিবিউটারদের অসহযোগিতায় ছবিটি ঐ সময় মুক্তি পায় নি। ১৯৬৬ সালে ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় প্যারিসে এবং ঐ বছর লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রদর্শিত হয়।

১৯৬৯ সালে বাদল সরকারের কাহিনি অবলম্বনে তৈরি করেন শনিবার ছবি। এই ছবিটি সবটাই ইনডোরে করা। এই বছরই তেরো নদীর পারে এবং শনিবার এক সাথে কলকাতায় মুক্তি পায়। চলচ্চিত্র ভাষার অসাধারণ প্রয়োগ থাকলেও ছবিটি দর্শক সমাদর থেকে বঞ্চিত হয়। ১৯৭০-৭১ সালে দুটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন। মাছের ভেডির উপর তৈরি ভাসা (১৯৭১) এবং অন্ধ্রপ্রদেশের চেঞ্চু ট্রাইবদের নিয়ে তৈরি দ্য চেঞ্চুস (১৯৭১) সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল।
চলচ্চিত্র মাধ্যমটির উপর অসাধারণ দখল থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রযোজক তাঁকে দিয়ে ছবি করানোর জন্য এগিয়ে আসে নি। সত্তরের দশকের প্রথম দিকে টেগোর সোসাইটি ফর বা ডেভেলপমেন্টের হয়ে গ্রামে চলে যান সমাজসেবার কাজে। প্রথমে গাইঘাটায় ও পরে দণ্ডকারণ্যে গ্রামের মানুষদের মধ্যে সমাজসেবার কাজে নিজেকে নিয়োজিতও করেন। পরবর্তীকালে কিছুদিন বাঁকুড়ায় কাজ করার পর মেদিনীপুরের নামালডিহায় চলে যান। সেখানে বাচ্চাদের জন্য স্কুল তৈরি, মহিলাদের জন্য তাঁত এবং গ্রামের মানুষদের স্বনির্ভর করার কাজে নিজেকে ব্যাপৃত রাখেন।
আজীবন সৎ এই চলচ্চিত্র পরিচালক তাঁর জীবদ্দশায় যথাযোগ্য মর্যাদা পান নি। যদিও একটি মাত্র কাহিনিচিত্র নির্মাণ করেই তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নিজের স্থান করে নিয়েছেন। ১৯৯৩ সালে তাঁর জীবনাবসান হয়।
চলচ্চিত্রপঞ্জি—
- তেরো নদীর পারে (১৯৬১),
- শনিবার (১৯৬৯),
- ভাসা (১৯৭০),
- দা চেঞ্চুস (১৯৭১)
প্রসঙ্গত এই ছবিগুলিতে চিত্রগ্রহণের কাজ তিনি নিজেই করেছিলেন। এছাড়াও চিত্রগ্রাহক হিসাবে তিনি তিনটি ছবিতে কাজ করেন, সেগুলি হল নেতারহাট বিদ্যালয়, বীরসা এন্ড দ্য ন্যাজিক ডল, এবং পোর্ট্রেট অফ এ সিটি। শেষ ছবিটির পরিচালক চিদানন্দ দাশগুপ্ত।
প্রকাশনা –
বারীন সাহা চলচ্চিত্রাক্ষর সংকলন ও বিন্যাস শিবাদিতা দাশগুপ্ত এবং সন্দীপন ভট্টাচার্য। কলকাতা, মনচাষা, ২০০
