নিমাই ঘোষ হুগলী জেলার পাহাড়পুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। আসল নাম বিমলেন্দু, ডাক নাম নিমাই। অল্প বয়সে ঢাকায় মামার বাড়ি চলে যান। মামার ছবি তোলার দোকানে কাজের সুযোগে স্থির চিত্র তোলা, প্রিন্ট করার কাজে হাতেখড়ি। ছবি দেখার শুরু এই সময় থেকেই।

নিমাই ঘোষ
নিমাই ঘোষ ১৯৩১ সালে ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতায় আসেন, ১৯৩৩ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে অরোরা ফিল্ম কোম্পানিতে যোগ দেন চিত্রগ্রাহক বিভূতি দাসের সহকারী হিসাবে, পরে অশোক সেনের অধীনে শিক্ষানবিশ হিসাবেও কাজ করেন। শ্রমিক মালিক দ্বন্দ্বে শ্রমিকদের পক্ষ নেওয়ার কারণে চাকরি যায়। ১৯৪২ সালে ভারতীয় গণনাট্য সংঘে যোগ দেন, ‘নবান্ন’ নাটকে অভিনয় করেন।
স্বাধীন চিত্রগ্রাহক হিসাবে প্রথম কাজ খগেন রায়ের পরিচালনায় প্রতিমা (১৯৪৬) ছবিতে। ১৯৪৬-৫০ সাল পর্যন্ত আরও পাঁচটি ছবিতে স্বাধীন চিত্রগ্রাহক হিসাবে কাজ করেছেন। গণনাট্য সংঘের সাথে যোগাযোগের সুত্রে বিমল দের সঙ্গে পরিচয় এবং পরিচালক হিসাবে আত্মপ্রকাশ স্বর্ণকমল ভট্টাচার্যের ‘নোঙর ছেঁড়া নৌকো’ গল্প অবলম্বনে বিমল নের প্রযোজনা তৈরি করলেন ছিন্নমূল (১৯৫০) ছবি।

গণনাট্য সংঘের অভিনেতা অভিনেতৃদের সাথে প্রকৃত উপায়রাও এই ছবিতে অভিনয় করেছেন। রাশিয়ার বিখ্যাত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব | Padovkun ছবিটি দেখেন এবং ‘Pravda এই ছবিটির বিষয়ে লেখেন। অতিথি হিসাবে রাশিয়ায় যান। ছবিটি কালো ডি ভ্যারি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। কলকাতায় ফেরার পর কোনো কাজ না পেয়ে K Subhramanium এবং M.S. Krishnan-এর ডাকে মাদ্রাজ চলে যান।
১৯৫২ থেকে তামিল ছবিতে চিত্রগ্রাহক হিসাবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তী কালে কয়েকটি কানাডা ছবিতেও চিত্রগ্রহণের কাজ করেছেন। দুটি তামিল ছবি (Paathaar Theriyudu Paar এবং Sooravali) পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কিছু তথ্যচিত্র ও বিজ্ঞাপন চিত্রও নির্মাণ করেছেন।

১৯৫২ সাল থেকেই মাদ্রাজে চলচ্চিত্র কর্মীদের সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন। তাঁর নেতৃত্বে মাদ্রাজ চলচ্চিত্র কর্মীরা Raw Film সংক্রান্ত ঐতিহাসিক প্রতিবাদে মুখর হন।
১৯৬৩ সালে Madras Polytechnic-এর চলচ্চিত্র বিভাগে অতিথি অধ্যাপক ও পরীক্ষক হিসাবে যোগ দেন। এছাড়াও মাদ্রাজে বিভিন্ন ফিল্ম স্কুলে শিক্ষক হিসাবেও যুক্ত ছিলেন।
১৯৮০ সালে China Peoples Friendship Asoociation এর প্রতিনিধি হিসাবে চীনে যান। তামিল ছবি পরিচালনার জন্য নিমাই ঘোষ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার পাশাপাশি ১৯৮১ সালে ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ অফ ইন্ডিয়া এবং ১৯৮২ সালে ফিল্ম এ্যন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া তাকে চলচ্চিত্রে আজীবন অবদানের জন্য সম্বর্ধনা আপন করে।
চলচ্চিত্রপঞ্জি ( চিত্রগ্রাহক ) —
- প্রতিমা (১৯৪৬),
- ঘরোয়া (১৯৪৭),
- জাগরণ (১৯৪৭),
- উমার প্রেম (১৯৪৮),
- যার যেথা ঘর (১৯৪৯),
- কালসাপ (১৯৫১)
চলচ্চিত্রপঞ্জি ( পরিচালক ) —
- ছিন্নমূল (১৯৫০)।
এই ছবির চিত্রনাট্য তৈরির পাশাপাশি চিত্রগ্রহণও করেছিলেন।
প্রকাশনা—
ছিন্নমূল নিমাই ঘোষের প্রবন্ধ বক্তৃতা সাক্ষাৎকার এবং তাঁর জীবন ও কাজ সম্পর্কে আলোচনা। সম্পাদনা করেছেন সুনীপা বসু ও শিবাদিত্য দাশগুপ্ত। মনচাষা, কলিকাতা কর্তৃক প্রকাশিত, ২০০৩। আরও দেখুন ছিন্নমূল।
