এভরিবডি ফেমাস 

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ এভরিবডি ফেমাস  ।

এভরিবডি ফেমাস

 

এভরিবডি ফেমাস

চলচ্চিত্রের কাহিনী সংক্ষেপ : সুরকার বাবা এবং গায়িকা কন্যার বিখ্যাত হয়ে ওঠার পরিক্রমা।

দেশ                     :বেলজিয়াম

পরিচালক           :দমেনিক দেরুদা

লেখক                 :দমেনিক দেরুদা

রিলিজ ডেট        :১২ এপ্রিল ২০০০

মুখ্য চরিত্র            :ইড়া ভন দার

                              জোস ডি পাও

                              ওয়ারনার ডি স্পেডিট

                              ল্যাঙ্কা ফারাকার্স

                              থিকলা রিউটেন

                              অ্যালাইস রেস

 

এভরিবডি ফেমাস

কম্পিটিশনে পিছিয়ে পড়া অনেককে বলতে শোনা যায়, শুধু কাজে দক্ষতা থাকলে সাধনায় মন-প্রাণ-দরদ ঢেলে দিলেই সাফল্য লাভ করা যায় না। সাফল্য লাভের দক্ষতার পাশাপাশি কর্তৃস্থানীয় অনেককে নানাভাবে সন্তুষ্ট করতে হয়।

আক্ষেপ থাকলেও কথাগুলো যে একদম ফেলে দেয়ার নয় সে কথা নিয়ে বিদেশী চলচ্চিত্র বিভাগে অস্কারে মনোনীত বেলজিয়ামের চলচ্চিত্রকার দমেনিক দেরুদার বাস্তব ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র ‘এভরিবডি ফেমাস’। বেলজিয়ামের এক সুরকার জিন বেরিকেন এবং তার আঠারো বয়সী গায়িকা কন্যা মারবা বেরিকেন সফলতার গন্তব্যে পৌছানোর পথপরিক্রমা নিয়ে কাহিনীচিত্র ‘এভরিবডি ফেমাস’।

গানে ফেমাস হতে গেলে বোতল ফ্যাক্টরিতে বসে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আঠারো ঘণ্টা অমানুষিক পরিশ্রম করলে যে চলে না। সেটা ভালোভাবেই বোঝেন জিন বেরিকেন। তবু মন্দার বাজারে স্ত্রী-কন্যা নিয়ে দুবেলা খেয়ে-পরে সুস্থ থাকার জন্য কাজ করার যে বিকল্প নেই, সেটাই সান্ত্বনা জিন বেরিকেনের।

পিতা হিসেবে জিন বেরিকেনের একটাই চাওয়া, একদিন তার মেয়ে মারবা গান গেয়ে বেলজিয়ামবাসীর মন জয় করে আন্তর্জাতিক পরিসরে সুরের মূর্ছনা ছড়াবে। শুধু স্বপ্ন দেখবো অথচ বাস্তবের মাটিতে পা রেখে হাঁটবো না তেমনটি নন জিন বেরিকেন।

যেখানেই শোনেন গানের কম্পিটিশন সেখানেই মেয়েকে নিয়ে যান; কিন্তু অগণিত দর্শকের সামনে গান গাইতে উঠে আত্মবিশ্বাস এবং ধৈর্য দুটিই হারিয়ে ফেলে মারবা। মারবা দৈহিকভাবে খুবই মোটা। তার ধারণা, যৌন আবেদন না থাকায় দর্শক তার দিক থেকে নজর ঘুরিয়ে নেয়।

মারবা তার বান্ধবীকে বলে, আচ্ছা, আমি যখন পুতুল নাচের অনুষ্ঠানে পর্দার আড়ালে থেকে গান গাই তখন শিশুরা আনন্দে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে, পুতুলের মুখ থেকে গান শোনার জন্য ওয়ান মোর, টু মোর বলে লাফালাফি করে, অথচ আমি যখন মঞ্চে নেমে বয়স্কদের সামনে গান করি তখন তারা আমার কন্ঠের গান শোনার আগেই শারীরিক গঠন দেখেই বিব্রতবোধ করে।

কিন্তু এর মধ্যে পিতা জিন বেরিকেনের চাকরিটা চলে যায় ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে। জীবনভর যে সুরের সাধনা করেছি, সেই সুরকে অবলম্বন করে দেখি এই বেকার জীবনের একটা আকার হয় কি না। এর মধ্যে উপস্থিত হয় বেলজিয়ামের পপস্টার দেবি দেবির সঙ্গে মাঝে মাঝে চলে যেতে জিন বেরিকেনের মন চাইলেও দেবি তো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

শুধু সপ্তাহের এক রাতে বেলজিয়াম টিভি চ্যানেল এনটিওতে প্রকাশিত হয়ে সারা সপ্তাহ চুপ। ফলে সেই দেবিকে পাওয়ার আশা সামান্য এক বোতলকর্মী জেনির পক্ষে অসম্ভব। মান সম্মানের চাকরি নেই, পকেটে পয়সা নেই, তখন মাঝ পথে গাড়িটিও খারাপ হয়।

সজাগ হয়ে কষ্ট পোহানোর হাত থেকে মুক্তি পেতে শেষ সম্বল দিয়ে ফার্মেসির দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে নষ্ট হয়ে যাওয়া গাড়ির কাছে এসে জিন বেরি থা নষ্ট গাড়ি সাড়াচ্ছে আরাধ্য পপস্টার গায়িকা দেবি। দেবি বলে, গান, গান গাওয়ার বাইরে আমার একটাই শখ আর তা হলো— অচল গাড়িকে সচল করা।

গাড়ি সচল হলেও সচল দেবি অচল হয়। কারণ দেবিকে ঘুমের ওষুধ মেশানো কফি খাইয়ে কিডন্যাপ করেছে জিন বেরি। জিন বেরির প্রস্তাবে অনুগত কর্মী যুবক পল উইলি প্রথমে রাজি না হলেও পরে রাজি হয়, কারণ পল উইলির গার্লফ্রেন্ড বিখ্যাত অভিনেত্রী হওয়ার জন্য পল উইলির জমা অর্থ নিয়ে বয়ফ্রেন্ডের হাত ধরে ঘর ছেড়েছে।

ঘর খালি হয়ে যাওয়ায় একাকী নিঃসঙ্গতা, অপরদিকে কিডন্যাপ পপস্টার দেবিকে কাছ থেকে দেখতে পাওয়ার সুযোগ। খোলা চোখে পল উইলির সরলতায় দেবি মুগ্ধ হয়। কিডন্যাপ দেবি এবং কিডন্যাপের পল উইলির হৃদয়ে ভালোবাসা দানা বাঁধে।

 

এভরিবডি ফেমাস 

 

দেবির এজেন্সির মালিক মাইকেলকে জিন বেরি পরিষ্কার বলে দেবীকে ফেরত পাবে একশর্তে তা হলো— তুমি আমার এই ক্যাসেটে রেকর্ড করা সুরে ক্যাসেট রিলিজ দেবে তোমার কোম্পানি থেকে। শিল্পীর নাম মারবা।

তাকে দিয়ে গান করাবে, এনটিও টিভি চ্যানেলে যখন শিল্পী মারবা আমার সুরে গাইবে, তামাম বেলজিয়ামের পাশাপাশি বিশ্ববাসী দেখবে, তখনই আমি দেবিকে মুক্তি দেব। তার আগে নয়, দেবির এজেন্সি মালিক মাইকেল জিন বেরিকেনের শর্তে রাজি।

শর্তের কথা জানতে চায় কিডন্যাপার পল উইলি, কিডন্যাপড দেবির কাছে। পল উইলি দেবিকে বলে, আচ্ছা দেবি আজ যে তুমি এত বিখ্যাত, এই বিখ্যাত হতে যেয়ে তোমাকে কি কমপ্রোমাইজ করতে হয়েছে? প্রযোজক কিংবা পরিচালকের সাথে বিছানায় যেতে হয়েছে?

প্রতি উত্তরে কিডন্যাপড পপস্টার দেবি বলে, আমি কোনোদিন কোনো প্রযোজকের সঙ্গে বিছানায় যাইনি এবং ভবিষ্যতেও যাবো না। কারণ পরম করুণাময় আমাকে ট্যালেন্ট দিয়েছে। প্রযোজক হিসেবে বুঝে যায় দেবির কিডন্যাপ হওয়াটা মিডিয়ার গরম খবর এবং টিভির স্লট বিক্রিমূল্য শীর্ষে। ফলে যতদিন দেবিকে আড়ালে রাখা যায়। ততই লাভ।

দেবির নির্ধারিত স্লটে মারবাকে উপস্থাপনার কথা বলে মারবাকে প্রলুব্ধ করার এই তো সুযোগ। সময় আসর নার্ভাস মারবারা। তামাম বেলজিয়ামের দৃষ্টি এনটিও টিভি পর্দায়। দেবি এবং পল গোপন আস্তানা ছেড়ে পালানোর খবর জিন বেরিকেন এজেন্সি মালিক মাইকেলকে জানালেও মাইকেলের একটাই কথা— তুমি ওই আস্তানায় বসে থাকো। নড়বে না, যদি নড় তবে তোমার মেয়ের লাইভ গান করা বদ্ধ।

মেয়ের কথা ভেবে বসে থাকে। পিতা জিন বেরিকেন। অথচ এ কী! জিন বেরিকেন টিভির পর্দায় দেখছে মেয়ে তো গাইছে না বরং উপস্থাপক বলছে আমরা এখন আপনাদের নিয়ে যাচ্ছি সেই গোপন আস্তানায় যেখানে দেবি বন্দি। পর্দা সরিয়ে জানালা দিয়ে জিন বেরিকেন দেখে পুলিশ চারপাশ ঘিরে ফেলেছে এবং লাইভ ক্যামেরা তার দিকে তাক করা।

জিন তুমি ক্যামেরার সামনে বলবে যে তুমি দেবিকে হত্যা করেছো। নইলে তোমার মেয়ের গান গাওয়া বন্ধ। কথা শুনে বিধ্বস্ত জিন বেরিকেন। তার বাবার এই দশা সে টেলিভিশনের পর্দায় দেখে গান গাওয়া বাদ দিয়ে পালাতে পারলে বাঁচে।

বোতল ফ্যাক্টরির সহকর্মীরা সরাসরি সাক্ষাৎকারে বলে, ফ্যাক্টরি বন্ধের সময় তার উদ্ভট আচরণ চোখে পড়েছিল। কিন্তু কিডন্যাপ করার মতো উন্মাদ হবে তা ভাবিনি। এই যখন অবস্থা তখন ঘুরে দাঁড়ালেন পিতা জিন বেরিকেন।

টিভি ক্যামেরায় মুখ রেখে বললেন, হ্যাঁ আমি দেবিকে কিডন্যাপ করেছি। দেবি এখন আমার কাছে। আমার একমাত্র মেয়ে মারবাকে এখনই টিভির লাইভ শোতে গাইতে দিতে হবে, নইলে দেবিকে এখনই গুলি করবো। টিভিতে পিতা-কন্যা সরাসরি কথা বলে।

 

এভরিবডি ফেমাস 

 

পিতা জিন বেরিকেন বলে মা আমি যা কিছু করেছি তা আমার সুরের এবং তোমার — কন্ঠের প্রতিষ্ঠার জন্য। এখন তুমিই পারো ভালোভাবে গান গেয়ে পুলিশের গানের গুলির হাত থেকে বাঁচাতে। বাবার অনুভূতি বুঝে কণ্ঠে দরদ ঢেলে গেয়ে চলে মেয়ে মারবা। আত্মা থেকে উচ্চারিত সে গান। কথা ও সুরে গানের মূর্ছনায় ভরিয়ে তোলে মারবা। পিতা-কন্যার প্রতিষ্ঠার জয়গাথার মধ্য দিয়ে শেষ হয় চলচ্চিত্র এভরিবডি ফেমাস। 

Leave a Comment