স্ত্রীর পত্র চলচ্চিত্র

স্ত্রীর পত্র চলচ্চিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর কাহিনি ও তারই গীত দিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র। পূর্ণেন্দু পত্রী এই ছবিটির চিত্রনাট্য লেখেন, শিল্প নির্দেশনা দেন ও পরিচালনা করেন।

 

স্ত্রীর পত্র চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

 

স্ত্রীর পত্র চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা গ্রুপনী।
  • কাহিনি ও গীতরচনা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও শিল্প নির্দেশনা — পূর্ণেন্দু পত্রী।
  • সংগীত পরিচালনা – রামকুমার চট্টোপাধ্যায়।
  • চিত্রগ্রহণ শক্তি বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • শব্দগ্রহণ – বলরাম বারুই।
  • সম্পাদনা — অরবিন্দ ভট্টাচার্য,
অভিনয়—

মাধবী মুখোপাধ্যায়, স্মিতা সিংহ, রাজেশ্বরী রায়চৌধুরী, অসীম চক্রবর্তী, রূপক মজুমদার, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, নিমু ভৌমিক, শ্যামল ঘোষ, সন্তোষ দত্ত, বেলারাণী, প্রণব চট্টোপাধ্যায়, বিমল দেব, শৈলেন মুখোপাধ্যায়, ধীরেন রায়, সীতা মুখোপাধ্যায়।

কণ্ঠ সংগীত —

রামকুমার চট্টোপাধ্যায়, দীনেন্দ্র চৌধুরী, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

স্ত্রীর পত্র চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

 

কাহিনি—

১৯০৫ এর বঙ্গভঙ্গর প্রস্তাব এবং দেশ জুড়ে এর প্রতিবাদে মানুষের অংশগ্রহণ এই পটভূমিকায় কলকাতার এক বর্ধিষ্ণু পরিবারের কাহিনি অবলম্বনে এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র বাড়ির মেজ বৌ মৃণাল (মাধবী)। বাড়ির কর্তা চন্দ্রনাথ (অসীম), তাঁর হুকুমে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেদের এই বাড়িতে প্রবেশ নিষেধ। বড় বৌ (স্মিতা)-এর খুড়তুতো বোন বিন্দু (বেলারাণী) মা-বাবাকে হারিয়ে এ বাড়িতে আশ্রয় নেয়। বড়বাবুর হুকুমে বড় বৌ নিজের খুড়তুতো বোনকে একটু অন্নের জন্য দাসীবৃত্তিতে বহাল করতে বাধ্য হন।

মৃণাল বিন্দুর প্রতি এই ব্যবহার মানতে পারে না। বাড়ির লোকেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে মৃণাল বিন্দুকে নিজের কাছে টেনে নেয়। বাড়ির সকলের সাথেই মৃণালের বিরোধ শুরু হয়। একটা গয়না চুরির অপবাদে বড় কর্তার প্ররোচনায় বড় বৌ বিন্দুকে মারেন, মৃণাল ক্ষোভে ফেটে পড়ে।

চন্দ্রনাথ বিন্দুর বিয়ে ঠিক করেন, কিন্তু বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই বিন্দু ফিরে আসতে বাধ্য হয়, কারণ বিন্দুর বর পাগল। মৃণাল আবার বিন্দুকে নিজের কাছে আশ্রয় দেয়। বিন্দুর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে নিয়ে যেতে আসে। বড়কর্তার হুকুমে বিন্দু নিজেই শ্বশুরবাড়ি ফিরে যায়।

কিছুদিন বাদে মৃণাল জানতে পারে বিন্দু নিরুদ্দেশ, মৃণাল তার ভাই শরৎকে বিন্দুর খবর নিতে অনুরোধ জানায়। মৃণালের স্বামী ইন্দ্রনাথের (রূপক) হুকুমে শরতের বাড়িতে ঢোকা বন্ধ হয়। মৃণাল পিসিমার সাথে পুরী বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। শরৎকে অনুরোধ করে বিন্দুকে পুরীতে তার কাছে নিয়ে আসতে।

পুরীতে শরৎ মৃণালের সাথে একাই দেখা করে জানায় বিন্দু আত্মহত্যা করেছে। এই আত্মহত্যা মৃণালকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। সে ইন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানায় ‘আমি আর তোমাদের সাতাশ নম্বর মাখন বড়ালের গলিতে ফিরব না।’

এই ছবি চলচ্চিত্র সমালোচকদের সাথে সাথে দর্শকদেরও প্রশংসা লাভ করেছিল।

পুরস্কার

ছবিটি ১৯৭২ সালের বাংলা ভাষায় নির্মিত সেরা ছবি হিসাবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

Leave a Comment