সীমাবদ্ধ চলচ্চিত্র ১৯৭১ সালে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত চলচ্চিত্র। মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস সীমাবদ্ধ অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি নির্মিত। এটি রায় নির্মিত কলকাতা ত্রয়ী সিরিজের ২য় চলচ্চিত্র। অন্য দুটি হলো – প্রতিদ্বন্দ্বী ও জন অরণ্য।

সীমাবদ্ধ চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা — চিত্রাঞ্জলি।
- কাহিনি— শংকর।
- চিত্রনাট্য, সংগীত ও পরিচালনা – সত্যজিৎ রায়।
- চিত্রগ্রহণ – সৌমেন্দু রায়।
- শিল্প নির্দেশনা – অশোক বসু।
- সম্পাদনা— দুলাল দত্ত।
- শব্দগ্রহণ – জে.ডি. ইরানী, দুর্গাদাস মিত্র. মঙ্গেশ দেশাই।
অভিনয়-
শর্মিলা ঠাকুর, বরুণ চন্দ, পারমিতা চৌধুরী, হারীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়, অজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রশান্ত মল্লিক, রীতা দেববর্মণ, দীপঙ্কর দে, মণি আয়ার, অনিতা চট্টোপাধ্যায়, প্রমোদ গঙ্গোপাধ্যায়।

কাহিনি—
পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এ. পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে শ্যামলেন্দু চট্টোপাধ্যায় (বরুণ) হিন্দুস্থান-পিটার্স কোম্পানিতে চাকরি পায়। হিন্দুস্থান পিটার্স কোম্পানির তৈরি আলো এবং পাখার বাজারে সুনাম আছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নিজের কর্মদক্ষতায় শ্যামলেন্দু কোম্পানির সেল্স ম্যানেজার পদে উন্নীত হয়। এখন সে তার স্ত্রী দোলনচাপা (পারমিতা)কে নিয়ে কোম্পানির দেওয়া সুসজ্জিত ফ্ল্যাটে বাস করে। ক্লাবে যায়, পার্টিতে যায়, রবিবার সকালে নিয়মিত গলফ খেলতে যায়। উচ্চাকাঙ্ক্ষী শ্যামলেন্দু ভবিষ্যতে কোম্পানির একজন ডিরেক্টর হওয়ার স্বপ্ন দেখে।
দোলনের বোন সুদর্শনা (শর্মিলা), ডাক নাম টুটুল, পাটনা থেকে ছুটি কাটাতে দিদি জামাইবাবুর কাছে আসে। টুটুল সবেমাত্র এম.এ. পাস করেছে, সে ভবিষ্যতে ভারতের এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ চাকরিতে যুক্ত হতে চায়। দশ বছর আগে যখন দোলনের সাথে শ্যামলেন্দুর বিয়ে হয় তখন থেকেই টুটুল শ্যামলেন্দুর গুণমুগ্ধ, এবার কলকাতায় এসে শ্যামলেন্দুর সান্নিধ্যে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়, জামাইবাবুর কর্মতৎপরতায় সে মুগ্ধ। হঠাৎ শ্যামলেন্দু একটা সমস্যার সম্মুখীন হয়। রপ্তানির জন্য তৈরি কোম্পানির দশ হাজার পাখায় ত্রুটি ধরা পড়ে শেষ মুহূর্তে। রপ্তানি চুক্তি নাকচ হওয়ার এবং কোম্পানির সুনাম নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

শ্যামলেন্দুর কূটবুদ্ধির ফলে ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক অসন্তোষ ঘটে, এবং কোম্পানি লক আউট ঘোষণা করে, পরিণামে কোম্পানির সুনাম বজায় রেখে ত্রুটিমুক্ত করে ফ্যানগুলি রপ্তানি করার জন্য কিছুটা সময় হাতে পায়। শ্রমিক অসন্তোষের ফলে বোমার আঘাতে ফ্যাক্টরির দারোয়ান আহত হয় এবং পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।
বুদ্ধিমানের মতো পরিস্থিতির বিশ্লেষণ এবং ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে কোম্পানি শ্যামলেন্দুকে পুরস্কৃত করে। ডিরেক্টর পদে শ্যামলেন্দু উন্নীত হয়। সকলে খুশি হলেও টুটুল মন থেকে বিষয়টি মেনে নিতে পারে না, সে বুঝতে পারে সততার বিসর্জনে শ্যামলেন্দুর ডিরেক্টর পদ প্রাপ্তি ঘটেছে।
ভোগবাদী সমাজে এক দল মানুষ যে কোনো মূল্যে তার প্রার্থিত বস্তু বা পদ পাওয়ার জন্য এক ধরনের ইঁদুর দৌড়ে সামিল, সেটা বুঝতে টুটুলের অসুবিধা হয় না।
পুরস্কার
১৯৭১ সালের সেরা ছবি হিসাবে ভারতের রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক এবং ১৯৭২ সালে ভেনিসে অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র উৎসবে ফিপরেসি (FIPRESEI) পুরস্কার।
