সাধনা বসু, জন্ম কলকাতায়। ব্রহ্মানন্দ কেশব সেনের নাতনি এবং স্বনামধন্য পরিচালক মধু বসুর পত্নী। ছেলেবেলা থেকে প্রথাগত শিক্ষার সাথে নৃতো এবং সংগীতে পারদর্শিতা লাভ করেন। কথক নাচের শিক্ষা পান তারকনাথ বাগচীর কাছে এবং মণিপুরী নাচেরও তালিম নিয়েছিলেন। সংগীত শিক্ষা প্রথমে এনায়েত খানের, পরে তিমিরবরণ, এস. ডি. বর্মণ-এর কাছে। পিয়ানো শিক্ষক ছিলেন ফ্রাঙ্কো পোলো । বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী আন্না পাভলোভার সাথেও কাজ করেছেন।

সাধনা বসু । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
১৯৩০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত দালিয়া নৃত্যনাট্যে তিন্নির ভূমিকায় অভিনয় করেন। মধু বসু প্রতিষ্ঠিত ক্যালকাটা আর্ট প্লেয়ার্স এই নৃত্যনাট্যটি প্রযোজনা করেছিল। পরবর্তীকালে সাধনা বসু অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলি হল বিদ্যুৎপর্ণা, রাজনটী, সাবিত্রী, রূপকথা, মন্দির ইত্যাদি। ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদের লেখা আলিবাবা নাটকে মর্জিনার ভূমিকায় অভিনয় করে সর্বাধিক খ্যাতি পান। নাটকটি পরিচালনা করেছিলেন মধু বসু।

চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় শ্রীভারতলক্ষ্মী রিচার্স প্রযোজিত এবং মধু বসু পরিচালিত আলিবাবা (১৯৩৭) ছবিতে। গীতিনাট্যের ধাঁচে নির্মিত এই ছবিটি তৎকালীন সময়ে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। পরবর্তী কালে অভিনয় (১৯৩৮) ছবিতে নায়িকা মনীষার ভূমিকায় অভিনয় করেন। কুমকুম ছবিতে নায়িকা কুমকুমের ভূমিকায়, রাজনর্তকী (১৯৪১) ছবিতে রাজনটী মধুচ্ছন্দা এবং মীনাক্ষী (১৯৪২) ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় তিনি উল্লেখযোগ্য অভিনয় করেন।
নৃত্যে পারদর্শিতার কারণে এই ভূমিকাগুলিতে অভিনয়ের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ সুবিধা পেয়েছিলেন। দ্বিভাষিক ছবি রাজনর্তকী বা Court Dancer ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে হিন্দী ছবির জগতে প্রবেশ করেন। বম্বেতে তিনি ১৯৪৩-৫২ সাল পর্যন্ত এগারোটি ছবিতে অভিনয় করেন।

১৯৫৩ সালে কলকাতায় ফিরে মধু বসু পরিচালিত শেষের কবিতা (১৯৫৩) ছবিতে কেটির ভূমিকায় অভিনয় করেন। মা ও ছেলে (১৯৫৪), বিক্রম উব্বশী (১৯৫৪) এবং এই সত্যি (১৯৫৪) ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসা পান। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় আলিবাবা, অভিনয়, কুমকুম, রাজনর্তকী এবং মীনাক্ষী ছবিতে তিনি অভিনয়ের সাথে গানও গেয়েছিলেন।
নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সাথে সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু নৃত্যানুষ্ঠানেও আশ নিয়েছেন। তাঁর স্মৃতিচারণ “শিল্পীর আত্মকথা’ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯৩৭ আলিবাবা,
- ১৯৩৮ অভিনয়:
- ১৯৪০ : কুমকুম;
- ১৯৪১ : রাজনর্তকী,
- ১৯৪২ মীনাক্ষী,
- ১৯৫৩ শেষের কবিতা:
- ১৯৫৪ মা ও ছেলে, বিক্রম উব্বশী, এই সত্যি।
