সাগরিকা চলচ্চিত্র হল একটি জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্র যা পরিচালনা করেন অগ্রগামী। এই চলচ্চিত্রটি ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ সালে এস.সি. প্রোডাকশনস ব্যানারে মুক্তি পেয়েছিল এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন রবীন চট্টোপাধ্যায়। এই চলচ্চিত্রটির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন, উত্তম কুমার, কমল মিত্র, পাহাড়ী সান্যাল এবং অনুপ কুমার।

সাগরিকা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা—এস. সি. প্রোডাকসন্স।
- প্রযোজক – সুকুমার কুমার।
- কাহিনি — নিতাই ভট্টাচার্য।
- চিত্রনাট্য ও পরিচালনা— অগ্রগামী।
- চিত্রগ্রহণ – বিজয় ঘোষ।
- শিল্প নির্দেশনা – সুধীর খান।
- শব্দগ্রহণ —- জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
- সম্পাদনা- সন্তোষ গঙ্গোপাধ্যায়।
- সংগীত পরিচালনা- রবীন চট্টোপাধ্যায়।
- গীতিকার — গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, প্রণব রায়, নিতাই ভট্টাচার্য।
অভিনয়-
উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন, জহর গঙ্গোপাধ্যায়, পাহাড়ী সান্যাল, কমল মিত্র, জীবেন বসু, নীতীশ মুখোপাধ্যায়, সন্তোষ সিংহ, সলিল দত্ত, অনুপকুমার, যমুনা সিংহ, নমিতা সিংহ, তপতী ঘোষ।

নেপথ্য সংগীত —
শ্যামল মিত্র, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কাহিনি—
মেডিক্যাল কলেজের কৃতী ছাত্র অরুণাংশু মৈত্র (উত্তম) ভালোবেসেছিল সহপাঠী সাগরিকাকে (সুচিত্রা)। সাগরিকা তাকে ভুল বোঝে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে সাগরিকার অভিযোগের কারণে অরুণাংশুর স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নষ্ট হয়।
অরুণাংশু বাধ্য হয়ে তাদের গ্রামের জমিদারের (জহর) কন্যা বাসন্তীকে (যমুনা) বিয়ে করার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পায়। বাসন্তীর বাবা কন্যাকে বিলেত ফেরত ডাক্তারের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য ভাইঝি সাগরিকার শরণাপন্ন হন।

ইতিমধ্যেই সাগরিকা নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিল এবং অরুণের ক্ষতির জন্য নিজের দায় স্বীকার করে অরুণের কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। এখন বাসন্তীর দায়িত্ব নিয়ে তার হয়ে অরুণকে চিঠি লিখতে গিয়ে সে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। হঠাৎই খবর আসে একটি দুর্ঘটনায় অরুণ অন্ধ হয়ে গিয়েছে, বাসন্তী ও তার বাবা অন্ধ অরুণের সাথে বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করেন। অন্ধ অরুণ দেশে ফিরে আসে। সাগরিকা বাসন্তীর পরিচয়ে তার সাথে দেখা করে এবং সহপাঠী ও অরুণের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কেদারের (জীবেন) সাহায্যে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। এবং অক্লান্ত সেবায় তাকে সুস্থ করে তোলে।
একটি জটিল অপারেশনের পর অরুণ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায় এবং নায়ক নায়িকার মিলনে ছবির সমাপ্তি।
উত্তম-সুচিত্রা জুটির এই ছবি তৎকালীন সময়ে অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ছবিটির সংগীতাংশও জনপ্রিয়তা পায়। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা শ্যামল মিত্রর কণ্ঠে “আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে এবং নিতাই ভট্টাচার্যের লেখা সমবেত কণ্ঠে ‘আমরা মেডিক্যাল কলেজে পড়ি’ গান দুটি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
