সব চরিত্র কাল্পনিক চলচ্চিত্র

সব চরিত্র কাল্পনিক চলচ্চিত্র (ইংরেজি: Sob Charitro Kalponik “All Characters are Imaginary”) ২০০৯ সালে ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র, যেটি পরিচালনা করেন ঋতুপর্ণ ঘোষ. এই চলচ্চিত্রে মুল চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিপাশা বসু এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়. এই চলচ্চিত্রটি ৩০তম ডারবান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য নির্বাচিত হয় এবং ২০০৯ সালে সেরা বাংলা চলচ্চিত্র হিসাবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। এই চলচ্চিত্রটি ২০০৯ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়।

 

সব চরিত্র কাল্পনিক চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

 

সব চরিত্র কাল্পনিক চলচ্চিত্র

  •  প্রযোজনা — বিগ পিকচার্স।
  • কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা – ঋতুপর্ণ ঘোষ।
  • চিত্রগ্রহণ — সৌমিক হালদার।
  • সম্পাদনা — অর্থকমল মিত্র।
অভিনয় –

প্রসেনজিৎ, বিপাশা বসু, পাওলি দাম, যীশু সেনগুপ্ত, তাথৈ দেব, সোহাগ সেন।

 

সব চরিত্র কাল্পনিক চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

 

কাহিনি—

রাধিকা (বিপাশা) বিদেশে বড় হলেও বিয়ে করে ইন্দ্রনীল মিত্র (প্রসেনজিৎ) নামে এক কবিকে এবং কলকাতায় বাস করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিয়ের পরও ইন্দ্রনীল তার অধিবাস্তববাদের জগতে এবং কল্পনার জগতে বিচরণ করে। রাধিকা একাকী সংসারের দায়িত্ব এবং সংসার প্রতিপালনের জন্য অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা নেয়। রাধিকার কাজে কিছুটা সহায়তা করে বাড়ির সবসময়ের কাজের লোক প্রিয়বালা দাস (নন্দর মা নামেই বেশি পরিচিত)।

স্বভাবে অন্তর্মুখী ইন্দ্রনীল বিয়ের পরও তার অসংযত জীবন ছাড়তে পারে নি এমনকী সংসারের আর্থিক অসুবিধার কথা না ভেবেই একটা পুরস্কার পাবার পর হঠাৎই চাকরি ছেড়ে দেয়। রাধিকা কষ্ট পায় এবং ধীরে ধীরে তার অফিসের সহকর্মী শেখরের (যীশু) প্রতি আকৃষ্ট হয়।

 

সব চরিত্র কাল্পনিক চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

 

শেখর আবার ইন্দ্রনীলের কবিতার বিশেষ অনুরাগী। শেখরের প্রতি আগ্রহী হলেও রাধিকার সাংসারিক কর্তব্যবোধ প্রবল। রাধিকা মায়ের দেখাশোনার জন্য টাটায় যায় এবং সেখানে থাকাকালীন খবর পায় ইন্দ্রনীল মারা গিয়েছে। মৃত কবির পত্নী হিসাবে ইন্দ্রনীলের স্মরণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সুবাদে সে জানতে পারে ইন্দ্রনীলের কবিতার প্রেরণা কাজরী রায়কে (পাওলি)।

বুঝতে পারে ইন্দ্রনীল আপাত ভাবে সংসার সম্বন্ধে উদাসীন হলেও তার কবিতায় নন্দর মার সুখ দুঃখের ইতিহাস লুকিয়ে আছে। রাধিকা বুঝতে পারে তার স্বপ্ন তার মানসিক অবস্থাও ইন্দ্রনীলের কাছে গোপন ছিল না, সেসবই তার কবিতার বিষয়বস্তু হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে, এমনকী রাধিকার লেখা একটি কবিতার বিষয়বস্তু অবলম্বনে ইন্দ্রনীল নিজেও কবিতা লিখেছে। রাধিকা বোঝে ইন্দ্রনীল তার সম্বন্ধে উদাসীন ছিল না কিন্তু তার প্রকাশভঙ্গি ছিল অন্যরকম, সে সবকিছুই কবিতার ভাষায় ব্যক্ত করত।

শেখরের সাথে রাধিকার সম্পর্ক অসম্পূর্ণ থেকে যায়, জীবিত ইন্দ্রনীলের থেকেও মৃত কবি ইন্দ্রনীল রাধিকার সমস্ত অন্তর জুড়ে বিরাজ করে। ছবিটি ৩০ তম ডারবান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের জন্য, এবং ২০০৯ সালে ইন্ডিয়ান প্যানোরামায় নির্বাচিত হয়েছিল।

প্রকাশনা –

ছবির চিত্রনাট্য ২০১০ সালে শারদীয় প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

পুরস্কার

২০০৯ সালে বাংলা ভাষায় নির্মিত শ্রেষ্ঠ ছবি হিসাবে ভারতের রাষ্ট্রপতির জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

Leave a Comment