সন্দীপ রায়, জন্ম কলকাতায়। বাবা স্বনামধন্য চিত্রপরিচালক সত্যজিৎ রায়। পাঠভবন স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে প্রথাগত শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

সন্দীপ রায় । বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক
সত্যজিৎ রায় পরিচালিত শতরঞ্জ কে খিলাড়ী (১৯৭৭) ছবি থেকেই বাবার সাথে সহ-পরিচালক হিসাবে কাজ শুরু করেন। স্বাধীন ভাবে প্রথম চিত্র পরিচালনা সত্যজিতের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংগীত অবলম্বনে ফটিকচাদ (১৯৮৩)। ছবিটি চলচ্চিত্র সমালোচকদের সাথে সাথে দর্শকদেরও প্রশংসা অর্জন করে এবং ভ্যাঙ্কুবারে অনুষ্ঠিত শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়।
পরবর্তী ১০ বছরে স্বাধীন ভাবে কাহিনিচিত্র নির্মাণে আগ্রহী না হলেও সত্যজিৎ রায় প্রেজেন্টস’ (১৯৮৬) শিরোনামে যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে অবলম্বনে দূরদর্শনের জন্য ধারাবাহিক নির্মাণ করেন এবং জিন্দেগী এক সফর (১৯৮৮) নামে কিশোরকুমারের উপর একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেন।

গুপী, বাঘার কাহিনি অবলম্বনে সন্দীপের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি গুপী বাঘা ফিরে এলো (১৯৯২) সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে শিশু ও কিশোরদের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত বারোটি কাহিনিচিত্র নির্মাণ করেছেন যার মধ্যে পাঁচটি কাহিনিচিত্র ফেলুদা কাহিনি অবলম্বনে।
১৯৯২ সালে বাবার মৃত্যুর পর থেকে সন্দীপ রায় ২০০৩ সাল পর্যন্ত যৌথভাবে ও পরবর্তী কালে একক ভাবে ছোটদের পত্রিকা ‘সন্দেশ’-এর সম্পাদনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।

সুখী গৃহকোণ পত্রিকায় ধারাবাহিক হিসাবে প্রকাশিত হয় ফেলুদা কাহিনি অবলম্বনে করা ছবিগুলি নিয়ে আত্মজীবনী মূলক লেখা “আমি আর ফেলুদা”। লেখাটি পরবর্তীকালে দীপ প্রকাশন থেকে পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয় এবং বইটি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সন্দীপ রায় বর্তমানে নন্দনের উপেদষ্টা মণ্ডলীর সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ফটিকচাদ (১৯৮৩),
- জিন্দেগী এক সফর (তথ্যচিত্র, ১৯৮৮),
- গুপী বাঘা ফিরে এলো (১৯৯২),
- উত্তরণ (১৯৯৪),
- টার্গেট (১৯৯৫),
- বোম্বায়ের বোম্বেটে (২০০০),
- নিশিযাপন (২০০৫),
- কৈলাসে কেলেঙ্কারী (২০০৭),
- টিনটরেটোর যীশু (২০০৮),
- হিটলিস্ট (২০০৯),
- গোরস্থানে সাবধান (২০১০),
- রয়েল বেঙ্গল রহস্য (২০১১)।
প্রকাশনা –
সন্দ্বীপ রায় টেক ওয়ান (ইংরাজি) প্রদীপ বিশ্বাস। কলকাতা, প্রদীপ বিশ্বাস, ২০০০।
