শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, জন্ম বর্ধমান জেলার অভালে। কল্লোল গোষ্ঠীর অন্যতম লেখক শৈলজানন্দ সাহিত্যিক হিসাবে পরিচিত হওয়ার আগে বেশ কিছুদিন কয়লাখনি অঞ্চলে কাজ করেছেন, ফলে তাঁর লেখায় ঐ অঞ্চলের গরিব খেটে খাওয়া মানুষদের জীবনযাত্রার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রথম দিকের সাহিত্যকর্মগুলির অন্যতম কয়লাকুঠি বসুমতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় । বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক
চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ কাহিনিকার/চিত্রনাট্যকার হিসাবে। প্রথম ছবি কালী ফিল্মস প্রযোজিত এবং প্রিয়নাথ গাঙ্গুলী পরিচালিত পাতালপুরী (১৯৩৫)। এই ছবির জন্য তিনি এবং কাজী নজরুল ইসলাম গান রচনাও করেছিলেন। পরবর্তী কালে নিউ থিয়েটার্সে বিনয় চট্টোপাধ্যায়ের সাথে যৌথ ভাবে নীতিন বসু পরিচালিত দেশের মাটি (১৯৩৮), জীবনমরণ (১৯৩৯) এবং একক ভাবে ফণী মজুমদার পরিচালিত ডাক্তার (১৯৪০) ছবিগুলির কাহিনি রচনা করেন।
চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবে প্রথম ছবি নিজের লেখা কাহিনি এবং চিত্রনাট্য অবলম্বনে নন্দিনী (১৯৪১)। সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে ১৬টি ছবি পরিচালনা করেছেন।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বন্দী (১৯৪২), শহর থেকে দূরে (১৯৪৩), অভিনয় নয় (১৯৪৫), মানে-না-মানা (১৯৪৫), ঘুমিয়ে আছে গ্রাম (১৯৪৮) ইত্যাদি। নিজের পরিচালনার ছবিগুলি ছাড়াও পাতালপুরী (১৯৩৫- প্রিয়নাথ গঙ্গোপাধ্যায়), এই তো জীবন (১৯৪৬, পরিচালনা বিনু বর্ধন ও মানু সেন), দুই পর্ব (১৯৬৪, পরিচালনা বিনু বর্ধন), রূপ সনাতন (১৯৬৫, পরিচালনা সুনীলবরণ), মামলার ফল (১৯৬৫, পরিচালনা পশুপতি চট্টোপাধ্যায়) ইত্যাদি ছবিগুলির চিত্রনাট্য রচনা করেন।
শৈলজানন্দ চিত্র প্রতিষ্ঠান তৈরি করে প্রযোজনা করেন ঘুমিয়ে আছে গ্রাম। নিজের কাহিনি, চিত্রনাট্য এবং পরিচালনায় তৈরি কথা কও (১৯৫৫) ছবিতে একটি ছোট ভূমিকায় অভিনয়ও করেছিলেন।
শৈলজানন্দর লেখা কাহিনি অবলম্বনে সুকুমার দাশগুপ্তর চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় তৈরি হয় নন্দিতা (১৯৪৪), ধীরেন গঙ্গোপাধ্যায়ের শৃঙ্খল (১৯৪৭), তপন সিংহর উপহার (১৯৫৫), শক্তি সামস্তর আনন্দ আশ্রম (১৯৭৭) এবং তরুণ মজুমদার পরিচালিত শহর থেকে ঘুরে (১৯৮১)। তাঁর লেখা কাহিনি এবং দেবকী বসুর লেখা চিত্রনাট্যে তৈরি হয় সন্ধি (১৯৪৪),ছবিটি পরিচালনা করেন অপূর্ব মিত্র। তাঁর আত্মজীবনীমূলক লেখা যে কথা বলা হয় নি’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৮ সালে।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯৩৫ পাতালপুরী
- ১৯৩৮ দেশের মাটি।
- ১৯৩৯ জীবনমরণ:
- ১৯৪০ ডাক্তার
- ১৯৪১ নন্দিনী
- ১৯৪২ বন্দী
- ১৯৪৩ শহর থেকে দূরে
- ১৯৪৪ নন্দিতা, সন্ধি:
- ১৯৪৫ অভিনয় নয়, মানে- না-মানা, শ্রীদুর্গা,
- ১৯৪৬ শাস্তি, এই তো জীবন, প্রতিমা:
- ১৯৪৭ শৃঙ্খল, রায় চৌধুরী, রং বেরং
- ১৯৪৮ ঘুমিয়ে আছে গ্রাম,
- ১৯৫০ সন্ধ্যা বেলার রূপকথা, একই গ্রামের ছেলে
- ১৯৫৩ ব্লাইন্ড লেন
- ১৯৫৪ বাংলার নারী মণি আর মানিক
- ১৯৫৫ কতদূর, উপহার:
- ১৯৫৭ আমি বড় হবো,
- ১৯৬৪ দুই পর্ব
- ১৯৬৫ রূপ সনাতন, মামলার ফল;
- ১৯৭৭ আনন্দ আশ্রম
- ১৯৮০ বড় ভাই, সন্ধি:
- ১৯৮১ শহর থেকে দূরে
- ১৯৮২ খেলার পুতুল।
