শত্রু চলচ্চিত্র হল ১৯৮৪ সালে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র। ১৯৮৬ সালের হিন্দি ভাষায় এই চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়, যেটিতে রাজেশ খান্না ও শাবানা মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। গীতিকার ছিলেন আরডি বর্মণ। ১৯৮৪ সালে বাংলায় চলচ্চিত্র পুনঃনির্মাণ হয়েছিল যেটিতে রঞ্জিত মল্লিক অভিনয় করেছিলেন। পুনঃনির্মিত হওয়া চলচ্চিত্রটির মুখ্য নারী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বাংলাদেশের বিখ্যাত অভিনেত্রী শাবানা। চলচ্চিত্রটি ১.৭০ কোটি রুপি আয় করেছিল।

শত্রু চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা—রবীন্দ্র আগরওয়াল।
- কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা – অঞ্জন চৌধুরী।
- চিত্রগ্রহণ — বিজয় ঘোষ।
- শিল্প নির্দেশনা – সূর্য চট্টোপাধ্যায়।
- শব্দ ও সংগীত গ্রহণ-রঞ্জিত দত্ত, দুর্গা মিত্র, সত্যেন চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়, অনুপ মুখোপাধ্যায়।
- নৃত্য – হাবিবা রহমান।
- সংগীত পরিচালনা — দিলীপ দিলীপ।
- সম্পাদনা – বৈদ্যনাথ চট্টোপাধ্যায়।
- গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, অঞ্জন চৌধুরী।
- নেপথ্য সংগীত – অমিতকুমার, আরতি মুখোপাধ্যায়, হৈমন্তী শুক্লা।
অভিনয়
রঞ্জিত মল্লিক, মাষ্টার তপু, মনোজ মিত্র, বিকাশ রায়, শকুন্তলা বড়ুয়া, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, অনুপকুমার, চিরঞ্জিত, প্রসেনজিৎ, মহুয়া রায়চৌধুরী, নির্মল ঘোষ।

কাহিনি—
হিন্দি ভার্ষনে ছিল – হরিদাসপুর নামে একটি গ্রাম রয়েছে, যেখানে অশোক শর্মা (রাজেশ খান্না)কে পরিদর্শক হিসাবে পাঠানো হয়। যখন তিনি প্রত্যন্ত গ্রামে আসেন, তখন তিনি একজন অন্ধ ও বিধবাকে উদ্ধারের জন্য আসেন, এবং নিশিকান্ত শাহ ও তার লোকদের সাথে লড়াই করেন। পরের দিন নিশিকান্ত শাহ জানতে পারলেন যে, যার সাথে তার মারামারি হয়েছিল, তিনি ছিলেন অশোক। তারপর অশোকের সাথে বন্ধুত্ব করার জন্য তিনি তোহফা নিবেদন করেন, কিন্তু অশোক সেই তোহফা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। সংঘর্ষের ঘটনার পর, নিশিকান্ত শাহ ও এমপি গোপাল চৌধুরী (ওম শিবপুরী) কর্তৃক পরিচালিত সকল খারাপ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অশোক জানতে পারেন। তখন অশোক বুঝতে পেরেছিলেন যে, গ্রামের মানুষকে এই ধনী ব্যক্তিদের শোষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।
এদিকে, তিনি গ্রামের একটি মেয়ে আশা (শাবানা) এর বাড়িতে অতিথি হিসাবে গ্রামে বাস করতে শুরু করেন এবং এছাড়াও ছোটু নামে গ্রাম থেকে একটি অনাথ সন্তানের কাছের মানুষে পরিণত হন। তখন অশোক জানতে পারল যে, ছোটুর বাবা একজন সৎ কৃষক ছিলেন যাকে নিশিকান্তের লোকজন হত্যা করেছিল। তখন তিনি ছোটুর বাবার হত্যার বদলা নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।
একদিন থানায় কাস্টডিতে এক ব্যক্তি মারা গেলে অশোক তার চাকরি ও সম্মান হারান। এভাবেই এগিয়ে যায় চলচ্চিত্রটির কাহিনি।
বাংলা ভার্ষনে – হরিদেবপুর অঞ্চলের ব্যবসায়ী এবং জোতদার নিশিকান্ত সাহা (মনোজ)। এলাকার পুলিস প্রধান হারাধন (অনুপ) এবং এম. এল. এ. নীহার চৌধুরীর (বিকাশ) সহযোগিতায় নিশিকান্ত সব ধরনের খারাপ কাজের সাথে যুক্ত থানার নতুন অফিসার শুভঙ্কর সান্যাল (রঞ্জিত) সং মানুষ হিসাবেই পুলিস মহলে পরিচিত।
শুভঙ্কর নিশিকান্তর অবৈধ কার্যকলাপ চলতে দিতে রাজি নয়। নীহার চৌধুরীর মাধ্যমে নিশিকান্ত জেলার পুলিস সুপারের কাছে শুভঙ্করের বিরুদ্ধে নালিশ জানালেও শেষ পর্যন্ত পর্যুদস্ত হয়। থানার সব কর্মীদের সহযোগিতায় শুভঙ্কর ছোটুর বাবাকে হত্যার অভিযোগে নিশিকান্তকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়।
ছবিটি ঐ সময়ে অসাধারণ জনসমাদর লাভ করেছিল।
