শক্তি সামন্ত ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক। তিনি ১৯৫৭ সালে শক্তি ফিল্মস নামে একটি প্রযোজনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তার পরিচালিত হাওড়া ব্রিজ, চায়না টাউন, কাশ্মীর কী কলি, অ্যান ইভেনিং ইন প্যারিস, কাটি পতঙ্গ, এবং অমর প্রেম চলচ্চিত্রের জন্য প্রসিদ্ধ।

শক্তি সামন্ত । বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক
জন্ম বর্ধমানে। প্রথাগত শিক্ষা বর্ধমানে শুরু হলেও কিছুদিন দেরাদুনে কাকার কাছে থাকার কারণে সেখানেও পড়াশোনা করেছেন। বিজ্ঞানের ছাত্র শক্তিবাবু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন। চলচ্চিত্র জীবন শুরু হয় সহপরিচালক হিসাবে। রাজ কাপুর, জ্ঞান মুখোপাধ্যায়, ফণী মজুমদার প্রভৃতি পরিচালকের সাথে সহকারী হিসাবে কাজ করেছেন।
স্বাধীন পরিচালক হিসাবে প্রথম ছবি বহু (হিন্দী, ১৯৫৪)। ১৯৫৭ সালে নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা শক্তি ফিল্মস-এর প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংস্থার প্রথম হিন্দী ছবি হাওড়া ব্রীজ ১৯৫৮ সালে মুক্তি পায়। সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে মোট ৪৩টি ছবি পরিচালনা করেছেন। প্রধানত হিন্দী ছবির পরিচালক হিসাবে পরিচিত হলেও ছয়টি বাংলা ছবিও পরিচালনা করেছেন। বাংলা ছবির কয়েকটি বাংলা ও হিন্দী দুটি ভাষাতেই তৈরি হয়েছিল।

বাংলা ভাষায় প্রথম ছবি অমানুষ (১৯৭৪)। উত্তমকুমার, শর্মিলা ঠাকুর, উৎপল দত্ত এবং অনিল চট্টোপাধ্যায় অভিনীত এই ছবিটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরবর্তী সময়ে নির্মিত আনন্দ আশ্রম (১৯৭৭), অনুসন্ধান (১৯৮১) ইত্যাদি ছবিগুলিও বক্স অফিসে সাফল্য পেয়েছিল। এই ছবিগুলি বাংলা এবং হিন্দী দুটি ভাষাতেই তৈরি। তাঁর শেষ বাংলা ছবি প্রসেনজিৎ, অর্পিতা পাল ও ইন্দ্রাণী হালদার অভিনীত দেবদাস (২০০২)।
চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনার সাথে সাথে চলচ্চিত্র সংক্রান্ত বহু সংগঠনের সাথেও যুক্ত ছিলেন। সভাপতি হিসাবে ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার্স প্রোডিউসার্স এ্যাসোসিয়েশন, চেয়ারম্যান ভারতীয় সেন্সার বোর্ড এবং পরবর্তী সময়ে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম এ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন।
চলচ্চিত্রপঞ্জি (বাংলা) –
- ১৯৭৪ অমানুষ:
- ১৯৭৭ আনন্দ আশ্রম:
- ১৯৮১ অনুসন্ধান,
- ১৯৮৫ অন্যায় অবিচার
- ১৯৯০ অন্ধ বিচার:
- ২০০২ দেবদাস।
