হেমন্ত মুখোপাধ্যায়

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, জন্ম বারাণসীতে, আদিবাড়ি চব্বিশ পরগণা জেলার বহড়ু গ্রামে। ছেলেবেলায় গ্রামে থাকলেও বাবার চাকরির কারণে পরিবারের সকলের সাথে কলকাতায় চলে আসেন। ভবানীপুর মিত্র। ইনস্টিটিউশন থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করে যাদবপুরে ভর্তি হন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য, শিক্ষা অসম্পূর্ণ রেখেই শর্টহ্যান্ড ও টাইপ শিখতে ভর্তি হন।

 

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়

 

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়

 

১৯৩৫ সালে কলকাতা বেতার কেন্দ্রে সংগীত পরিবেশন করেন এবং ১৯৩৭ সালে কলম্বিয়া রেকর্ডস থেকে তাঁর গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়। ঐ বছরই তাঁর লেখা গল্প ‘একটি দিন’ দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

চলচ্চিত্রে নেপথ্য গায়ক হিসাবে প্রথম কাজ মতিমহল থিয়েটার্স প্রযোজিত এবং ফণী বর্মা পরিচালিত নিমাই সন্ন্যাস (১৯৪১) ছবিতে। এই ছবির সংগীত পরিচালক ছিলেন হরিপ্রসন্ন দাস। এই ছবিতে তিনি অজয় ভট্টাচার্যের লেখা ‘প্রভু দেখা দাও’ এবং ‘কাঁহা কানু কই’ গান দুটি গেয়েছিলেন।

 

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়

 

সংগীত পরিচালক হিসাবে প্রথম কাজ হেমেন গুপ্ত পরিচালিত অভিযাত্রী (১৯৪৭)। এই ছবিতে তিনি সংগীত পরিচালনার পাশাপাশি নেপথ্য সংগীত পরিবেশন করেছিলেন। সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে শুধুমাত্র বাংলা ছবির ক্ষেত্রেই তিনি ১৪২টি ছবির সংগীত পরিচালনার পাশাপাশি ৩১৫টি ছবিতে গান গেয়েছেন।

তাঁর সংগীত পরিচালনায় কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছবি হল শাপমোচন (১৯৫৫), হারানো সুর (১৯৫৭), লুকোচুরি (১৯৫৮), মরুতীর্থ হিংলাজ (১৯৫৯), নীল আকাশের নীচে (১৯৫৯), দীপ জ্বেলে যাই (১৯৫৯), শেষ পর্যন্ত (১৯৬০), কুহক (১৯৬০), সপ্তপদী (১৯৬১), স্বরলিপি (১৯৬১), দাদাঠাকুর (১৯৬২), পলাতক (১৯৬৩), একটুকু ছোঁয়া লাগে (১৯৬৫), বালিকা বধু (১৯৬৭), পরিণীতা (১৯৬৯), রাগ অনুরাগ (১৯৭৫), মোহনবাগানের মেয়ে (১৯৭৫), প্রক্সি (১৯৭৭), দাদার কীর্তি (১৯৮০) ইত্যাদি। তিনি বহু হিন্দী ছবির সংগীত পরিচালনাও করেছেন এবং বহু হিন্দী ছবিতে নেপথ্য গায়ক হিসাবেও কাজ করেছেন।

 

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়

 

বাংলা হিন্দী ছাড়াও মারাঠী ছবিতে এবং একটি ইংরাজি ছবিতে (সিদ্ধার্থ, ১৯৭২) সংগীত পরিচালনা করেছেন। অনেকগুলি হিন্দী ছবি প্রযোজনার পাশাপাশি মৃণাল সেন পরিচালিত নীল আকাশের নীচে (১৯৫৯) এবং নিজের পরিচালনায় তৈরি অনিন্দিতা (১৯৭২) ছবি প্রযোজনা করেন।

বাংলা ও হিন্দী ছবির গান ছাড়াও আধুনিক বাংলা গান, রবীন্দ্রসংগীত, ভজন ইত্যাদিতেও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন, এক সময়ে গণনাট্য সংঘের সাথে যুক্ত হেমন্তবাবুর সলিল চৌধুরীর সুরে পাত্তির গান ও রানার যুগ যুগ ধরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। পাঁচ হাজারেরও বেশি রেকর্ড করা এই শিল্পীকে রবীন্দ্রভারতী (১৯৮৫) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৮৮) ডি. লিট দিয়ে সম্মান জানায়।

 

 

লালন ফকির (১৯৮৭) ছবির নেপথ্য গায়ক হিসাবে তিনি রজত কমল সম্মান লাভ করেন এবং সংগীত নাটক আকাদেমিও এই ছবির নেপথ্য গায়ক তাকে সম্মান জানিয়েছিল।

প্রকাশনা:

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, আনন্দধারা, কলকাতা, দেব সাহিত্য কুটীর, ১৯৭০। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, আমার গানের স্বরলিপি, কলকাতা, এ. মুখার্জী, ১৯৮৮।

চলচ্চিত্রপঞ্জি —
  • ১৯৪০ নিমাই সন্ন্যাস:
  • ১৯৪৭ অভিযাত্রী, পূর্বরাগ
  • ১৯৪৮ প্রিয়তমা, ভুলি নাই পদ্মা প্রমত্তা নদী
  • ১৯৪৯ সন্দীপন পাঠশালা দিনের পর দিন, স্বামী:
  • ১৯৫১ পরিত্রাণ• জিঘাংসা বিয়াল্লিশ
  • ১৯৫৩ বউঠাকুরাণীর হাট:
  • ১৯৫৫ ছোট বৌ, শাপমোচন, আত্মদর্শন;
  • ১৯৫৬ চিরকুমার সভা, সূর্যমুখী অসমাপ্ত, দানের মর্য্যাদা, না
  • ১৯৫৭ শেষ পরিচয় বড় মা, পৃথিবী আমারে চায়, তাসের ঘর হারানো সুর, মাথুর, কড়ি ও কোমল, চন্দ্রনাথ, তমসা, জীবনতৃষ্ণা
  • ১৯৫৮ সোনার কাঠি, বন্ধু, বৃন্দাবনলীলা, শিকার, লুকোচুরি ও আমার দেশের মাটি, ইন্দ্রাণী, যৌতুক সূর্যতোরণ• রাজধানী থেকে:
  • ১৯৫৯ জন্মান্তর, নীল আকাশের নীচে মরুতীর্থ হিংলাজা, চাওয়া পাওয়া, ঠাকুর হরিদাস, বিচারক, শ্রীরাধা, দেড়শো খোকার কাণ্ড, ক্ষণিকের অতিথি, দীপ জ্বেলে যাই’, জলজঙ্গল, বাড়ী থেকে পালিয়ে, কিছুক্ষণ, নির্ধারিত শিল্পীর অনুপস্থিতিতে, খেলাঘর সোনার হরিণ, রাতের অন্ধকারে, অবাক পৃথিবী, পার্সোনাল এ্যাসিস্ট্যান্ট
  • ১৯৬০ কুহক, হাত বাড়ালেই বন্ধু, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’, ক্ষুধা, বাইশে শ্রাবণ গরিবের মেয়ে। ত্রৈলঙ্গস্বামী, শেষ পর্যন্ত, অজানা কাহিনী, নদের নিমাই, বিয়ের খাতা, নতুন ফসল, শুন বরনারী
  • ১৯৬১ সাধক কমলাকান্ত, সাথীহারা, বিষকন্যা, স্বরলিপি, অগ্নিসংস্কার, মধ্যরাতের তারা”, স্বয়ম্বরা, পঙ্কতিলক, কাঞ্চনমূল্য, আশায় বাঁধিনু ঘর, সপ্তপদী, দুই ভাই,
  • ১৯৬২ হাঁসুলী বাঁকের উপকথা অতল জলের আহ্বান, অগ্নিশিখা, আগুন, মায়ার সংসার, শেষ চিহ্ন, অভিসারিকা, দাদাঠাকুর, নবদিগন্ত”, দর্পচূর্ণ,
  • ১৯৬৩ অবশেষে, পলাতক এক টুকরো আগুন শেষ অঙ্ক, দুই বাড়ী, বর্ণচোরা, সাত ভাই, হাই হিল”, শেষ প্রহর*: ছায়াসূর্য, ত্রিধারা, হাসি শুধু হাসি নয়, সূৰ্য্যশিখা, কাঞ্চনকন্যা, বাদশা, সাত পাকে বাঁধা,
  • ১৯৬৪ প্রতিনিধি বিভাস, জীবন কাহিনী, স্বর্গ হতে বিদায়, অগ্নিকন্যা, আরোহী, সিঁদুরে মেঘ, কষ্টিপাথর, প্রভাতের রঙ, অশান্ত ঘূর্ণী, কাঁটাতার, দীপ নেভে নাই, নতুন তীর্থ,
  • ১৯৬৫ একটুকু বাসা, তৃষ্ণা, আলোর পিপাসা, মহালগ্ন, প্রথম প্রেম, জয়া, নিনাস্তের আলো, অভয়া ও শ্রীকান্ত, সূর্যতপাত, গুলমোহর, তাপসী, একটুকু ছোঁয়া লাগে
  • ১৯৬৬ সুশান্ত সা, গৃহ সন্ধানে, মণিহার, কাঁচকাটা হীরে, শুধু একটি বছর, সুভাষচন্দ্র, মায়াবিনী লেন, পাড়ি, নতুন জীবন, অশ্রু দিয়ে লেখা, লবকুশ, ফিরে চলো, কাল তুমি আলেয়া, নায়িকা সংবাদ’,
  • ১৯৬৭ গৃহদাহ, বালিকা বন্ধু”, খেয়া, মহাশ্বেতা, দুই প্রজাপতি”, হাটে বাজারে, অজানা শপথ কেদার রাজা
  • ১৯৬৮ পঞ্চশর পথে হল দেখা, ছোট্ট জিজ্ঞাসা, হংসমিথুন, পরিশোষণ বাঘিনী চৌরঙ্গী, বালুচরী, অদ্বিতীয়া জীবন সংগীত”,
  • ১৯৬৯ : সাবরমতী, বিবাহ বিন্নাটি, পিতাপুত্র, শুকসারী পরিণীতা”, চেনা অচেনা” তীরভূমি, কমললতা, মন নিয়ে”, মায়া, আরোগ্য নিকেতন, প্রতিদান
  • ১৯৭০ আলেয়ার আলো, মুক্তিস্নান, শীলা, দুটি মন”, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন”, স্বর্ণশিখর প্রাঙ্গণে,
  • ১৯৭১ নবরাগ ধন্যি মেয়ে, মাল্যদান নিমন্ত্রণ, কুহেলি, খুঁজে বেড়াই, মহাবিপ্লবী অরবিন্দ• সংসার”
  • ১৯৭২ অনিন্দিতা, অৰ্চনা, ছায়াতীর,
  • ১৯৭৩ নকল সোনা, শেষ পৃষ্ঠায় দেখুন, সোনার খাঁচা, শ্রীমান পৃথ্বীরাজ, অগ্নিভ্রমর:
  • ১৯৭৪ বিকেলে ভোরের ফুল, ছন্দপতন, দাবী, হারায়ে খুঁজি, ফুলেশ্বরী, সঙ্গিনী, শজারুর কাঁটা, ঠগিনী’,
  • ১৯৭৫ রানুর প্রথম ভাগ, নিশিমৃগয়া, মন যারে চায়, অগ্নীশ্বর, রাগ অনুরাগ, প্রিয় বান্ধবী, সংসার সীমান্তে
  • ১৯৭৬ সুদূর নীহারিকা, বহ্নিশিখা দত্তা ছুটির ঘণ্টা, মোহনবাগানের মেয়ে, হারমোনিয়াম
  • ১৯৭৭ নয়ন, অসাধারণ, সানাই, রামের সুমতি, একবিন্দু সুখ, স্বাতী, প্রক্সি, প্রতিমা, শাস্তি, হাতে রইল তিন, শ্রীশ্রী মালক্ষ্মী, এই পৃথিবীর পান্থনিবাস, মন্ত্রমুগ্ধ, তীর ভাঙা ঢেউ, জাল সন্ন্যাসী, বেহুলা লখীন্দর, দিন আমাদের প্রাণের ঠাকুর রামকৃষ্ণ, প্রতিশ্রুতি, হারানো প্রাপ্তি নিরুদ্দেশ, জীবনমরুর প্রান্তে, শেষ রক্ষা ভোলা ময়রা, অমৃতের স্বাদ, নানারঙের দিনগুলি,
  • ১৯৭৮ রজনী, ময়না, জয় মা তারা, প্রণয় পাশাপ, বরবধূ, ডাক দিয়ে যাই, গোলাপ বউ, বালক শরৎচন্দ্র, তুষারতীর্থ অমরনাথ, ধনরাজ তামাং, করুণাময়ী, নদী থেকে সাগরে
  • ১৯৭৯ চামেলী মেমসাহেব, ভাগ্যলিপি, ঘটকালী, অরুণ বরুণ কিরণমালা, গণদেবতা”, নৌকাডুবি, চম্পা, সমাধান, ডুব দে মন কালী বলে, নন্দন, কৃষ্ণ সুদামা, আমি রতন,
  • ১৯৮০ অভি, বন্ধন, দর্পচূর্ণ, জয় মা মঙ্গলচণ্ডী, পথ্বীরাজ’, পাকা দেখা, শেষ বিচার, সীতা, দাদার কীর্তি,
  • ১৯৮১ দুর্গা দুর্গতিনাশিনী, ফাদার, কপালকুণ্ডলা, খনাবরাহ, উপলব্ধি, প্রতিশোধ, শহর থেকে দূরে সুবর্ণ গোলক, সুবর্ণলতা,
  • ১৯৮২ বোধন, ছুট, দূরের নদী, খেলার পুতুল*, মা ভবানী মা আমার, মা কল্যাণেশ্বরী, মেঘমুক্তি, প্রহরী, প্রতীক্ষা, রাজবধূ, সোনার বাংলা, শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত, উত্তর মেলেনি :
  • ১৯৮৩ অভিনয় নয়, বনশ্রী, চেনা অচেনা, ছোট মা, শ্রীরাধার মানভঞ্জন, তনয়া:
  • ১৯৮৪ অগ্নিশুদ্ধি, অমরগীতি”, বাগদীপাড়া দিয়ে, বিষবৃক্ষ জয় পরাজয়, প্রার্থনা, রাজেশ্বরী শিলালিপি, সোরগোল, সূর্য কৃষ্ণা,
  • ১৯৮৫ ভালবাসা ভালবাসা, অজান্তে দিদি, টগরী, তিল থেকে তাল;
  • ১৯৮৬: আশীর্বাদশ, পথ ভোলা,
  • ১৯৮৭ লালন ফকির, মন্দির, প্রতিভা, টুনিবউ, আগমন,
  • ১৯৮৮ বোবা সানাই”, মধুবন, পরশমণি, মধুগঞ্জের সুমতি, মহাকবি কালিদাস, রাতের কুহেলি, সুরের সাথী,
  • ১৯৯০ কলঙ্ক,
  • ১৯৯১ রাজনর্তকী:
  • ১৯৯২ পিতৃঋণ,
  • ১৯৯৫ বৌমণি, দাগী।

Leave a Comment