হীরক রাজার দেশে চলচ্চিত্র

হীরক রাজার দেশে চলচ্চিত্রটি ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় পরিচালিত একটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। রুপকের আশ্রয় নিয়ে চলচ্চিত্রটিতে কিছু ধ্রুব সত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি গুপী গাইন বাঘা বাইন সিরিজের একটি চলচ্চিত্র। এর একটি বিশেষ দিক হচ্ছে মূল শিল্পীদের সকল সংলাপ ছড়ার আকারে করা হয়েছে। তবে কেবল একটি চরিত্র ছড়ার ভাষায় কথা বলেননি। তিনি হলেন শিক্ষক। এ দ্বারা বোঝানো হয়েছে একমাত্র শিক্ষক মুক্ত চিন্তার অধিকারী, বাদবাকি সবার চিন্তাই নির্দিষ্ট পরিসরে আবদ্ধ।

 

হীরক রাজার দেশে চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

 

হীরক রাজার দেশে চলচ্চিত্র

 

  • প্রযোজনা — তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
  • কাহিনি, চিত্রনাট্য, সাজসজ্জা, গীত রচনা, সংগীত ও পরিচালনা – সত্যজিৎ রায়।
  • চিত্রগ্রহণ – সৌমেন্দু রায়।
  • শিল্প নির্দেশনা— অশোক বসু।
  • সম্পাদনা— দুলাল দত্ত।
  • শব্দগ্রহণ—রবীন সেনগুপ্ত, দুর্গাদাস মিত্র, সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, সমীর মজুমদার, মঙ্গেশ দেশাই।
  • কণ্ঠ সংগীত — অনুপ ঘোষাল, অমর পাল।

 

অভিনয় –

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, উৎপল দত্ত, রবি ঘোষ, তপেন চট্টোপাধ্যায়, সন্তোষ দত্ত, হরিধন মুখোপাধ্যায়, রবীন মজুমদার, অজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, বিমল দেব, তরুণ মিত্র, গোপাল দে. শৈলেন গঙ্গোপাধ্যায়, সমীর মুখোপাধ্যায়, কার্তিক চট্টোপাধ্যায়, সুনীল সরকার, ননী গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রমোদ গঙ্গোপাধ্যায়, আলপনা গুপ্তা, কানু মুখোপাধ্যায়, বিমল চট্টোপাধ্যায় ও আরও অনেকে।

 

হীরক রাজার দেশে চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

 

কাহিনি—

গুপী ও বাঘার কাহিনি অবলম্বনে সত্যজিতের দ্বিতীয় ছবি। গুপী (তপেন) ও বাঘা (রবি) ইতিমধ্যে গুণ্ডি ও হাল্লা রাজার (সন্তোষ) দুই মেয়েকে বিয়ে করেছে, তাদের একটি করে ছোট ছেলেও আছে কিন্তু দীর্ঘদিন রাজসুখে থেকে তারা ক্লান্ত।

হীরক রাজা (উৎপল) তাঁর মূর্তি প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে অন্যান্য রাজাদের সাথে শুণ্ডির রাজাকেও আমন্ত্রণ করেছেন, গুণী ও বাঘা গুতি রাজার অনুমতি নিয়ে হীরক রাজ্যে যায়। তারা লক্ষ করে হীরের খনির দৌলতে যখন রাজার ধনসম্পত্তির শেষ নেই তখনই দেশের কৃষক, মজুরদের পেটে ভাত নেই। দেশে কোনো পাঠশালা নেই, দেশে রাজার অত্যাচারের কোনো প্রতিবাদ করলে তাকে যন্তর মন্তর ঘরে ঢুকিয়ে মগজ ধোলাই করে রাজার গুণগান করতে বাধ্য করা হয়।

সে দেশের পাঠশালার পণ্ডিত উদয়ন (সৌমিত্র) রাজ পেয়াদার ভয়ে জঙ্গলে পালিয়ে গিয়েছে। গুপী ও বাঘার সাথে পণ্ডিতের সাক্ষাৎ হয় এবং পণ্ডিতের কাছ থেকে তারা দেশের মানুষের দুর্দশার সঠিক খবর পায়।

 

হীরক রাজার দেশে চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

 

ভূতের রাজার দেওয়া বরের জোরে গুপী বাঘা গান গেয়ে প্রহরীদের জব্দ করে রাজার তোষাখানা থেকে হীরে চুরি করে।

হীরে উৎকোচ দিয়ে রাজপ্রহরীদের বশ করে গুপী ও বাঘা কৌশলে রাজা ও তার পারিষদদের যন্তর মন্তর ঘরে ঢুকিয়ে দেয় এবং তাদের রাজবিরোধী মন্ত্র পড়তে বাধ্য করে। শেষ পর্যন্ত দেশের মানুষদের সহযোগিতায় উদয়নের নেতৃত্বে রাজার মূর্তি উৎপাটন করা হয়, রাজা নিজেও এই কাজে অংশ নেন।

চলচ্চিত্র পরিচালক উৎপলেন্দু চক্রবর্তী ছবিটিকে একটি সময়োপযোগী পলিটিক্যাল ফ্যান্টাসি’ হিসাবে বর্ণনা করেন। কিছু চলচ্চিত্র সমালোচক এই ছবিকে জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে সত্যজিতের প্রতিবাদ বলে চিহ্নিত করলেও রাজতন্ত্র উচ্ছেদের কাজে রাজার সহায়তার বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন নি।

ছোটদের ছবি হিসাবে এটি বক্স অফিসে সাফল্য পায় এবং ছবিটির সংগীতাংশও খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। পুরস্কার বাংলা ভাষায় নির্মিত বছরের সেরা ছবি হিসাবে ১৯৮০ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতির সম্মানের পাশাপাশি সত্যজিৎ রায় সেরা সংগীত পরিচালকের এবং অনুপ ঘোষ সেরা নেপথ্য সংগীতশিল্পীর (পুরুষ) সম্মান লাভ করেন। প্রকাশনা ছবির চিত্রনাট্য এক্ষণ পত্রিকায় ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

Leave a Comment