হাঁসুলী বাঁকের উপকথা চলচ্চিত্র

হাঁসুলী বাঁকের উপকথা চলচ্চিত্রটি হল তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। প্রকাশ কাল ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দ। উপন্যাসটি গ্রামীণ বাংলার জীবন, জমিদারী ব্যবস্থার বাস্তবতা (যা বাংলার সামাজিক বৈষম্যের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী ছিল) ও পাশাপাশি সময়ের সাথে সামাজিক ধারণার পরিবর্তনগুলিকে অন্বেষণ করে।

 

হাঁসুলী বাঁকের উপকথা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

 

হাঁসুলী বাঁকের উপকথা চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা — জালান প্রোডাকসন্স।
  • প্রযোজক শ্যামলাল জালান।
  • কাহিনি ও গীত রচনা— তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • চিত্রনাট্য ও পরিচালনা- তপন সিংহ।
  • সংগীত পরিচালনা — হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।
  • চিত্রগ্রহণ – বিমল মুখোপাধ্যায়।
  • শিল্প নির্দেশনা – সুনীতি মিত্র।
  • সম্পাদনা- – সুবোধ রায়।
  • শব্দগ্রহণ – অতুল চট্টোপাধ্যায়, দেবেশ ঘোষ, মৃণাল গুহঠাকুরতা, শচীন চক্রবর্তী।
অভিনয় –

কালী বন্দ্যোপাধ্যায়, দিলীপ রায়, নিভাননী দেবী, অনুভা গুপ্তা, রঞ্জনা বন্দ্যোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, রবি ঘোষ, প্রশান্তকুমার, দেবী নিয়োগী, চন্দন রায়, বীরেশ্বর সেন, রবীন বন্দ্যোপাধ্যায়, রথীন ঘোষ, সুখেন দাস, কেষ্ট দাস, মাতৃপ্রসাদ, শিবশঙ্কর মুখোপাধ্যায়, সত্ব মজুমদার, রসরাজ চক্রবর্তী, লালু বর্মণ, ভোলা বসু, দীপ্তি বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

হাঁসুলী বাঁকের উপকথা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

 

কাহিনি—

কোপাই নদীর তীরে হাঁসুলী বাঁকের কাছে বাঁশবাদি মৌজায় বাস করে কাহার, বাউরি সম্প্রদায়ের মানুষেরা। দীর্ঘদিন এই কাহার, বাউরি সম্প্রদায় তাদের আজন্ম লালিত সংস্কার, বিচিত্র রীতিনীতি এবং তাদের অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে এখানে বাস করছে। তাদের প্রধান জীবিকা পাল্কি বওয়া এবং বাঁশ থেকে চাচের বেড়া ও চাটাই বোনা। যদিও এরই পাশাপাশি চাষবাসের কাজও তারা করে।

বর্তমানে এই সম্প্রদায়ের মাতব্বর বনোয়ারী (কালী)। সবাই তাকে মেনে চললেও গ্রামের যুবক করালী (দিলীপ) তার নিষেধ অমান্য করে চন্দনপুরে রেলকারখানায় কুলির কাজ করতে যায়। সে গ্রামের অন্য যুবকদেরও তার সাথে যাওয়ার জন্য খেপাতে থাকে।

 

হাঁসুলী বাঁকের উপকথা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

 

হাঁপানির রুগি নয়ানের বৌ পাখি (লিলি) এবং করালী পরস্পরকে ভালোবাসে। বনোয়ারী তাদের ভালোবাসার কথা জানত। গ্রামের সম্প্রীতি রক্ষার জন্য বনোয়ারী করালীর সাথে পাখির বিয়ে দেয়। বনোয়ারী নিজেও এক সময় পাশের গ্রামের কালো-বৌকে (অনুভা) ভালোবেসেছিল।

যুদ্ধ লাগল, কালো টাকার স্রোতে বদলে যায় দুনিয়া, বদলে যায় কাহারদের জীবনের পরিচিত ছক, করালীর চন্দনপুরে কাজের আহ্বানে কাহাররা দোদুল্যমান।

বন্যায় কাহার পাড়ায় জল ঢোকে, করালী গ্রামের মানুষদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যায়। কিন্তু অসুস্থ বনোয়ারী গ্রাম ছেড়ে যেতে রাজি নয়। গ্রামেই তার মৃত্যু হয়। জল কমে। যাওয়ার পর মানুষরা আবার গ্রামে ফিরে আসে। আবার তারা ঘর বাঁধে, ফিরে আসে কাহার পাড়ার পরিচিত ছন্দ।

পুরস্কার

ছবিটি ১৯৬২ সালে সানফ্রান্সিসকো চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়।

Leave a Comment