স্বপ্নের সন্ধানে চলচ্চিত্রটি পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং জাতীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন নিগম এর যৌথ প্রযোজনায়, অশোক বিশ্বনাথন এর কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় তৈরি হয়েছিল।

স্বপ্নের সন্ধানে চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা- – পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং জাতীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন নিগম।
- কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা — অশোক বিশ্বনাথন।
- সংগীত পরিচালনা – দেবজ্যোতি মিশ্র।
- চিত্রগ্রহণ – বিবেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- শিল্প নির্দেশনা – রূপচাঁদ কুণ্ডু।
- শব্দগ্রহণ – রবীন অধিকারী।
- সম্পাদনা – মহাদেব শী।
অভিনয়
ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, নন্দিতা দাস, বাদশা মৈত্র, মমতাশঙ্কর।

কাহিনি —
বেকার যুবক স্বপন স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। একদিন রাত্রিতে সে একটি ভয়ংকর দুর্ঘটনা দেখতে পায়। সেই দুর্ঘটনায় বরেন ঘোষ নামে এক বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা মারা যায়। সত্যদর্শী সেনের নেতৃত্বে পুলিসের লোকেরা বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে, তাদের ধারণা হয় এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরেন ঘোষ খুন হয়েছেন।
সত্যদর্শী স্বপনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কিন্তু খুনের পরিষ্কার একটা ধারণা তৈরি করা সম্ভব হয় না, বার বার জেরার উত্তরে স্বপনের বক্তব্য কিছুটা করে বদলে যায়। অমৃতা এক সাংবাদিক, সে তার পুরুষবন্ধুর সাহায্যে স্বপনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, এবং বারংবার বদলে যাওয়া বয়ানের কারণে ধাঁধার মধ্যে পড়ে। স্বপনের প্রতি তার একটা ভালোবাসার বোধ তৈরি হয়। স্বপনের জন্য একটা অদ্ভুত টান অনুভব করে অমৃতা।

স্বপন স্বপ্নের জগতে বাস করে। সে এবং তার কাল্পনিক বন্ধুরা পৃথিবীর বর্তমান অবস্থাটা পরিবর্তন করার কথা ভাবে। জ্যোতিষ্ক, অরুন্ধতী, স্বাতী, ধ্রুব, নীহারিকাদের সাথে স্বপনের কথোপকথন থেকে মনে হয় এই রক্ত মাংসের পৃথিবীতে তারা সত্যিই বিরাজ করছে।
সত্যদর্শী এবং তার সহকারী অরুণাভ যখন তদন্ত প্রায় গুটিয়ে এনেছে সেই সময় স্বপন অন্তর্ধান করে। সত্যদর্শী ও অমৃতার মনে হয় স্বপনকে অপহরণ করা হয়েছে, বা তাকে মেরে ফেলাও হতে পারে। পুলিশ কমিশনার অসন্তুষ্ট হন, সত্যদর্শী ও অমৃতা বুঝে উঠতে পারে না কিভাবে আরও অগ্রসর হওয়া যায়।
স্বপনের কল্পনার বন্ধু জ্যোতিষ্ক, ধ্রুব, নীহারিকা, স্বাতী, অরুন্ধতীর মতো সত্যদর্শী এবং অমৃতা বিশ্বাস করতে শুরু করে স্বপন একদিন ফিরে আসবে। স্বপনের চিন্তা, বিশ্বাস, ইচ্ছাগুলিকে তারাও মর্যাদা নিতে শুরু করে।
এই ছবি ২০০১ সালে ইন্ডিয়ান প্যানোরামায় নির্বাচিত হয়েছিল।
