সোনার কেল্লা চলচ্চিত্র

সোনার কেল্লা চলচ্চিত্রটি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় নির্মিত একটি রহস্য রোমাঞ্চ চলচ্চিত্র । সত্যজিৎ রায় নিজের কাহিনী নিয়েই চলচ্চিত্রটি তৈরি করেছিলেন । তিনি সোনার কেল্লা উপন্যাসটি রচনা করেন ১৯৭১ সালে । সোনার কেল্লা মুক্তি পায় ১৯৭৪ সালে চলচ্চিত্রটির শুটিং হয়েছিল রাজস্থানে ।

 

সোনার কেল্লা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

 

সোনার কেল্লা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

  •  প্রযোজনা— তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
  • কাহিনি, সংগীত, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা – সত্যজিৎ রায়।
  • চিত্রগ্রহণ – সৌমেন্দু রায়।
  • শিল্প নির্দেশনা – অশোক বসু।
  • সম্পাদনা— দুলাল দত্ত।
  • শব্দগ্রহণ – জে. ডি. ইরানী, অনিল তালুকদার, মঙ্গেশ দেশাই, সমীর মজুমদার।
  • হিন্দী সংলাপ- হৃদয়েশ পাণ্ডে।
  • কণ্ঠসংগীত — সোহিনী দেবী (বিকানীর), রমজান অম্মু, সিদ্দিকি৷
অভিনয়—

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়, কুশল চক্রবর্তী, কামু মুখোপাধ্যায়, শৈলেন মুখোপাধ্যায়, অজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্তোষ দত্ত, শান্তনু বাগচী, হারীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, দেবী সিং রাঠোর, দিব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায়, অশোক মুখোপাধ্যায়, নিমাই ঘোষ, হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রদীপ পারেখ, শিউলি মুখোপাধ্যায়, সর্দার জার্নেল সিং, কেয়া চট্টোপাধ্যায়, মঞ্জুলা কর ও আরও অনেকে।

 

সোনার কেল্লা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

 

কাহিনি—

মুকুলের (কুশল) বয়স এখন ৬ বছর। তার ধারণা তার ছোটবেলা কেটেছে সোনার কেল্লার দেশে। তাদের বাড়িতে অনেক দামি মণিমুক্তো দেখেছে। ডঃ হেমাঙ্গ হাজরা (শৈলেন) জন্মান্তর নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর ধারণা মুকুল পূর্বজন্মের কথা বলছে, তিনি মুকুলের বাবা-মার সম্মতিক্রমে মুকুলকে সাথে নিয়ে যোধপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

খবরের কাগজ মারফত মন্দার বোস (কাম) এবং অমিয়নাথ বর্মণ (অজয়), দুই দুর্বৃত্ত বিষয়টি জানতে পারে, তারাও গুপ্তধনের লোভে রাজস্থান যাত্রা করে। অন্যদিকে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে। মুকুলের বাবা প্রাইভেট ডিটেকটিভ প্রদোষ মিত্র ওরফে ফেলুদাকে (সৌমিত্র) নিযুক্ত করেন ছেলের নিরাপত্তা বিধানে।

 

সোনার কেল্লা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

 

ফেলুদা তার খুড়তুতো ভাই তোপসে (সিদ্ধার্থ) এবং লেখক লালমোহন গাঙ্গুলীকে (সন্তোষ) সাথে নিয়ে যোধপুর রওনা হয়। অমিয়নাথ ও মন্দার কৌশলে মুকুলের সাথে ভাব জমায় এবং ডঃ হাজরাকে আহত করে মুকুলকে নিয়ে পালিয়ে যায়, অমিয়নাথের ধারণা ছিল ডঃ হাজরা মারা গিয়েছেন, সে ডঃ হাজরা রূপে নিজের পরিচয় দেয়।

সোনার কেল্লার সন্ধানে তারা জয়শলমীর যায়, ফেলুদাও গিয়ে সেখানে হাজির হয়, মুকুল জয়শলমীরের কেল্লাকে সোনার কেল্লা হিসাবে সনাক্ত করে, এদিকে ফেলুদার সাথে আসল ডঃ হাজরার সাক্ষাৎ হয়, ফেলুদা অমিয়নাথ ও মন্দারের চক্রান্ত বুঝতে পারে। মন্দার নানা ভাবে ফেলুদাকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়, শেষ পর্যন্ত জয়শলমীরের কেল্লায় অমিয়নাথকে ধরাশায়ী করে ফেলুদা মুকুলকে উদ্ধার করে।

ছোটদের জন্য লেখা সত্যজিতের ফেলুদা কাহিনি অবলম্বনে প্রথম ছবি। গল্পের মতোই এই ছবিতেও তিনি শেষ পর্যন্ত দর্শকদের উৎকণ্ঠা বজায় রেখেছেন।

পুরস্কার

ছবিটি ১৯৭৪ সালে সেরা বাংলা ছবির পুরস্কার ছাড়াও শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক (সৌমেন্দু রায়) এবং শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেতার (কুশল চক্রবর্তী) জাতীয় সম্মান লাভ করে।

Leave a Comment