সুব্রত সেন একজন বাঙালি ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, ঔপন্যাসিক এবং প্রযোজক।

সুব্রত সেন । বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক
জন্ম কলকাতায়। সাউথ পয়েন্ট স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও প্রেসিডেন্সি থেকে স্নাতক হওয়ার পর কিছুদিন একটি ব্যাঙ্কে কর্মরত ছিলেন। চাকরি ছেড়ে সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হন। প্রথমে আনন্দবাজার ও পরে দ স্টেটসম্যান পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন। ছেলেবেলায় সত্যজিৎ রায় সম্পাদিত ‘সন্দেশ’ পত্রিকাতে লেখালেখিও করেছেন।

পরিচালক হিসাবে প্রথম ছবি এক যে আছে কন্যা (২০০১), এই ছবির কাহিনি ও চিত্রনাট্যও তাঁর নিজের।এটি ব্যাপকভাবে সমালোচকদের প্রশংসা জিতেছিল এবং একই সাথে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্যের গল্প ছিল। এই চলচ্চিত্রটি হলিউড চলচ্চিত্র দ্য ক্রাশ অভিনীত অ্যালিসিয়া সিলভারস্টোন দ্বারা প্রভাবিত বলে বলা হয়।
২০১৪ পর্যন্ত পরিচালক হিসাবে আটটি ছবি তৈরি করেছেন, যার কয়েকটি নিজের গল্প অবলম্বনে তৈরি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাহিনি অবলম্বনে হঠাৎ নীরার জন্য (২০০৫) এবং সমরেশ বসুর কাহিনি অবলম্বনে বিবর (২০০৬) পরিচালনা করেন। প্রথম ছবি এক যে আছে কন্যা কার্লো ভি ভ্যারি চলচ্চিত্র উৎসবে পরিচালকের প্রথম ছবি হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে কঙ্কনা সেনশর্মারও এটিই প্রথম ছবি।

সুব্রতর তৃতীয় ছবি নীল নির্জনে (২০০৩) অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ পরীক্ষামূলক ছবি হিসাবে পুরস্কৃত হয়। এটি ভারতে নির্মিত প্রথম ডিজিটাল কাহিনিচিত্র। তাঁর তৈরি হঠাৎ নীরার জন্য (২০০৫) সেন্সর সার্টিফিকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হয়। সুন্নত কিছু দৃশ্য বাদ দিতে বাধ্য হন। পরের ছবি বিবর (২০০৬) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ওসিয়ান সিনেফ্যান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেতা ও সেরা অভিনেত্রীর জন্য পুরস্কৃত হয়।
চলচ্চিত্র পরিচালনা ছাড়াও তিনি টেলিভিশনের জন্য ছবি বানানোর পাশাপাশি লেখক হিসাবেও পরিচিতি লাভ করেছেন, তাঁর প্রকাশিত দুটি উপন্যাস যৌবন যাপন এবং ডাকবাক্সে নীল খাম।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ২০০১ এক যে আছে কন্যা,
- ২০০২ স্বপ্নের ফেরিওয়ালা, নীল নির্জনে,
- ২০০৪ হঠাৎ নীরার জন্য,
- ২০০৬ বিবর,
- ২০০৮ নন্দিনী।
