সুব্রত মিত্র

সুব্রত মিত্র, জন্ম কলকাতায় একটি বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারে। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ছবি দেখার অভ্যাস। গড়ে ওঠে। কলেজে ছাত্রাবস্থায় ভবিষ্যতে চিত্রগ্রাহক হবার সিদ্ধান্ত নেন। সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসাবে কাজ শেখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

 

সুব্রত মিত্র

 

সুব্রত মিত্র

 

১৯৫০ সালে ফরাসি চিত্রপরিচালক রেনোয়ার ‘দি রিভার’ ছবির শুটিং দেখার অনুমতি পান। প্রতিদিন শুটিং-এর বিস্তারিত নোট – আলোর ব্যবহার, ক্যামেরার অবস্থান এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মুভমেন্টের স্কেচ করে রাখতেন। এই বিস্তারিত নোট পরিচালক জ রেনোয়া এবং ছবির চিত্রগ্রাহক কুদ রেনোয়াকে বিস্মিত করে। কোনো একটি দৃশ্যের Re-shoot করার ক্ষেত্রে এই নোট ব্যবহৃত হয়।

দি রিভার ছবির শুটিং-এ সত্যজিৎ রায়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এই ঘনিষ্ঠতা মাত্র ২১ বছর বয়সে পথের পাঁচালী ছবির চিত্রগ্রাহক হবার সুযোগ এনে দেয়। তাঁর নিজের ভাষায় “And so, at 21. I become a director of photography. without ever having touched a movie camera before.”

 

সুব্রত মিত্র

 

১৯৫১-৬৬ সাল এই পনেরো বছরে সত্যজিতের দশটি ছবির চিত্রগ্রহণ করেন। সত্যজিৎ রায়, বংশী চন্দ্রগুপ্ত, এবং সুব্রত মিত্রর একত্র কাজ ভারতীয় চলচ্চিত্রকে একটি অসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে যায়। বাস্তববাদী চলচ্চিত্রের যে ধারা সত্যজিৎ রায় শুরু করেন তা সুব্রত মিত্রর চিত্রগ্রহণ। এবং বংশী চন্দ্রগুপ্তর দৃশ্য পরিকল্পনা ভিন্ন বোধহয় সম্ভব হত না।

অপরাজিত (১৯৫৬) ছবিতে অন্তর্দৃশ্যের শুটিংয়ে ছায়াবিহীন নরম (soft) আলো তৈরির জন্য বাউন্স লাইটের ব্যবহার করে বাস্তববাদী চিত্রগ্রহণের কৌশল তিনিই প্রথম প্রয়োগ করেন। আবার চারুলতা (১৯৬৪) ছবিতে অন্তর্দৃশ্যের শুটিংএ বাউন্স লাইট ব্যবহার না করেই কীভাবে ছায়াবিহীন নরম আলো তৈরি করা যায় তা সুব্রত মিত্রর কাজ থেকেই আমরা জানতে পারি। দ শুরু (১৯৬৮) ছবিতে আলো তৈরির ক্ষেত্রে হ্যালোজেন লাইটের ব্যবহারও তিনিই প্রথম করেন।

চিত্রগ্রহণের পাশাপাশি তিনি দি রিভার (১৯৫০) ছবির টাইটেল মিউজিক এবং পদের পাঁচালী ছবির মিঠাইওয়ালার দৃশ্যর সংগীতাংশ সেতারে কম্পোজ করেন।

 

সুব্রত মিত্র

 

ভারতীয় চলচ্চিত্রে চিত্রগ্রহণের ক্ষেত্রে বোধহয় সবচেয়ে প্রতিভাসম্পন্ন চিত্রগ্রাহক সুব্রত মিত্র স্পল্পদৈর্ঘ্য এবং তথ্যচিত্র সমেত মাত্র ২১টি ছবির চিত্রগ্রহণ করেন। পুনায় অবস্থিত ভারতের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট-এ অতিথি অধ্যাপক এবং এ্যাকাডেমিক কাউনসিলের সদস্য ছিলেন এবং শেষ জীবনে কলকাতায় অবস্থিত সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে এ্যাকাডেমিক কনসালটেন্ট ছিলেন। কিছুদিন কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে টেকনিক্যাল কমিটির সাথেও যুক্ত ছিলেন।

সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন, তার মধ্যে ইস্টম্যান কোডাকের, সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনের জন্য, ১৯৯২ সালে Excellence of Cinematography’ পুরস্কার এবং ভারত সরকারের পদ্মশ্রী উল্লেখ্য।

 

চলচ্চিত্রপঞ্জি —
  • পথের পাঁচালী (বাংলা, ১৯৫৫),
  • অপরাজিত (বাংলা, ১৯৫৬),
  • পরশপাথর (বাংলা, ১৯৫৭),
  • জলসাঘর (বাংলা, ১৯৫৮),
  • অপুর সংসার (বাংলা, ১৯৫১),
  • দেবী (বাংলা, ১৯৬০),
  • কাঞ্চনজঙ্ঘা (বাংলা, ১৯৬২),
  • দ হাউসহোল্ডার (ইংরাজি/হিন্দী, ১৯৬২),
  • মহানগর (বাংলা, ১৯৬৩),
  • চারুলতা (বাংলা, ১৯৬৪),
  • শেক্সপিয়রওয়ালা (ইংরাজি, ১৯৬৪),
  • তিসরি কসম (হিন্দী, ১৯৬৫),
  • নায়ক (বাংলা, ১৯৬৬),
  • দি আর্চ (কেনটনিজ, ১৯৬৭),
  • দ শুরু (ইংরাজি, ১৯৬৮),
  • বোম্বে টকী (ইংরাজি, ১৯৭০),
  • মহাত্মা এ্যান্ড দি ম্যাড বয় (ইংরাজি, ১৯৭১),
  • রুমটেক (ইংরাজি, ১৯৭৮),
  • অ্যান আগস্ট রেকোয়াম (ইংরাজি, ১৯৮০),
  • নেহরু (১৯৮৪),
  • নিউ দিল্লি টাইমস (হিন্দী, ১৯৮৫)।

Leave a Comment