সুবর্ণরেখা চলচ্চিত্র ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত একটি ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি ১৯৬২ সালে তৈরি হলেও এটি মুক্তি পায় ১৯৬৫ সালে। এই চলচ্চিত্রটি মেঘে ঢাকা তারা এবং কোমল গান্ধার সহ একটি চলচ্চিত্র-ত্রয়ীর অংশ। অন্য দুটির মতো এই চলচ্চিত্রটির বিষয় হলো ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পর শরণার্থী সমস্যা।

সুবর্ণরেখা চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা – জে. জে. ফিল্মস কর্পোরেশন।
- কাহিনি – রাধেশ্যাম।
- চিত্রনাট্য ও পরিচালনা – ঋত্বিককুমার ঘটক।
- সংগীত—ওস্তাদ বাহাদুর খান।
- চিত্রগ্রহণ দিলীপ রঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- শিল্প নির্দেশনা – রবি চট্টোপাধ্যায়।
- শব্দগ্রহণ – সত্যেন চট্টোপাধ্যায়, শ্যামসুন্দর ঘোষ।
- সম্পাদনা— রমেশ যোশী।
- গীতিকার—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- কণ্ঠ সংগীত — আরতি মুখোপাধ্যায়, রখেন রায়চৌধুরী।
অভিনয়
মাধবী মুখোপাধ্যায়, অভি ভট্টাচার্য, সতীর ভট্টাচার্য, জহর রায়, শ্যামল ঘোষাল, অবনীশ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহাদুর খান, সেকেন্দার আজম, অরুণ চৌধুরী, নারায়ণ ধর, রবি চট্টোপাধ্যায়, রমেন রায়চৌধুরী, উমানাথ ভট্টাচার্য, রাধাগোবিন্দ ঘোষ, ভানু ঘোষ, অর্জিত লাহিড়ী, পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়, গুণী বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীমান অরুণ, শ্রীমান অশোক,গীতা দে, সীতা মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রাণী চক্রবর্তী, কল্পনা জানা, রুবি মিত্র, বিজন ভট্টাচার্য।

কাহিনি —
১৯৪৮ এর বাংলাদেশ, দলে দলে উদ্বাস্তু জমি জবরদখল করে কলোনি গড়ে তোলে, এই রকম একটি জবরদখল কলোনিতে আশ্রয় নেয় ঈশ্বর চক্রবর্তী (অভি) এবং তার বোন সীতা। বাগদি বৌ কৌশল্যা তার একমাত্র পুত্র অভিরামকে নিয়ে ঐ কলোনিতে আশ্রয় নেয়।
কলোনির নাম রাখা হয় নবজীবন কলোনি, ঈশ্বর এই কলোনির নেতা। এখানে আরও আছেন আদর্শবাদী স্কুলশিক্ষক হরপ্রসাদ (বিজন) ও তার পরিবার। হঠাৎ একদিন জমিদার ও পুলিসের যৌথ অভিযানে কৌশল্যা সহ কিছু উষান্তকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঈশ্বর অভিরামকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেয়।
ঘটনাক্রমে ঈশ্বরের সাথে তার মাড়োয়ারি বন্ধু রামবিলাস-এর দেখা হয় এবং বন্ধুর অনুরোধে সুবর্ণরেখা নদীর তীরে ছাতিমপুরে তাদের কারখানায় ঈশ্বর চাকরি নেয়। ঈশ্বর সীতা ও অভিরামকে নিয়ে ছাতিমপুরে আসে। সীতা (মাধবী) মার্গ সংগীত শিখছে এবং অভিরাম (সতীন্দ্র) স্কুলে ভর্তি হয়।

কয়েক বছর পর ঈশ্বর এখন কারখানায় ম্যানেজার এবং অভিরাম হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে পাস করে। ঈশ্বর অভিরামকে জার্মানী পাঠাতে চায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য কিন্তু অভিরাম লেখক হতে চায়।
সীতা এবং অভিরাম পরস্পরকে ভালোবাসে। সীতার বিয়ে অন্যত্র ঠিক হয়, বিয়ের রাতে সীতা ও অভিরাম গৃহত্যাগ করে কলকাতায় একটি বস্তিতে এসে ওঠে। তাদের একটি ছেলে হয়, নাম বিনু। সংসার চালানোর জন্য অভিরাম বাসের ড্রাইভারের কাজ নেয়। হঠাৎ একদিন একটি অ্যাকসিডেন্টে এবং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় অভিরাম মারা যায়। সীতার জীবনে দেহ ব্যবসায়ে নামা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
অপর দিকে ঈশ্বরের জীবনে শূন্যতা, সীতা চলে গিয়েছে, হঠাৎ তার সাথে হরপ্রসাদের দেখা হয়। হরপ্রসাদের প্ররোচনায় ঈশ্বর তার সাথে রাতের কলকাতা দেখতে বের হয়।
সীতা প্রথম দিন খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে দেখে ঈশ্বর মত্ত অবস্থায় তার ঘরে ঢুকেছে। সীতা আত্মহত্যা করে। ঈশ্বর বিনুকে নিয়ে ছাতিমপুরে যায়, দেখে তার জায়গায় অন্য লোক কাজ করছে, সে আবার নতুন করে জীবন শুরু করার জন্য বিনুর হাত ধরে পথে নামে।
পুরস্কার
১৯৬৫ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতির সম্মান (সার্টিফিকেট অফ মেরিট) লাভ করে। প্রকাশনা রজত রায় সম্পাদিত ঋত্বিক ও তাঁর ছবি গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে এই ছবির উপর গুরুদাস ভট্টাচার্য ও সুমিত মিত্রর দুটি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।
