সাথী চলচ্চিত্র ১৯৩৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নিউ থিয়েটার্স এর প্রযোজনায়, ফণী মজুমদার এর কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত একটি বাংলা ছায়াছবি।

সাথী চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা — নিউ থিয়েটার্স।
- কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা ফণী মজুমদার।
- সংগীত পরিচালনা — রাইচাঁদ বড়াল
- চিত্রগ্রহণ – দিলীপ গুপ্ত, সুধীশ ঘটক।
- শিল্প নির্দেশনা – সৌরেন সেন, অনাথ মৈত্র।
- শব্দগ্রহণ — লোকেন বসু।
- সম্পাদনা—কালী রাহা।
- গীতিকার — অজয় ভট্টাচার্য।
অভিনয় —
কুন্দনলাল সায়গল, কানন দেবী, অমর মল্লিক, শৈলেন চৌধুরী, কমলা – ঝরিয়া, অহি সান্যাল, নরেশ বসু, পরেশ চট্টোপাধ্যায়, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় (বড়), নির্মল বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রজ পাল, সত্য মুখোপাধ্যায়, বিনয় গোস্বামী, খগেন পাঠক, সুধীর মিত্র, সুকুমার পাল, পূর্ণিমা দেবী।

নেপথ্য সংগীত —
কুন্দনলাল সায়গল, কানন দেবী।
কাহিনি—
পিতৃপরিচয়হীন ভবঘুরে যুবক ভুলুয়া (সায়গল) কাজ করত গ্র্যান্ড ট্র্যাভলিং থিয়েটারে। ম্যানেজারের সাথে মতবিরোধের কারণে ভুলুয়া কাজ ছেড়ে দেয়। একদিন ঘুরতে ঘুরতে একটি অনাথ আশ্রমের সামনে খুঁজে পায় অনাথ বালিকা মঞ্জুকে (কানন)। ভুলুয়া মঞ্জুকে নাচ, গান শেখায় এবং দুজনে রাস্তায় নেচে, গেয়ে নিজেদের খরচ চালানোর চেষ্টা করে।
ভুলুয়া মঞ্জুকে নিয়ে কলকাতায় আসে। মঞ্জুর গান শুনে ডায়মণ্ড থিয়েটারের ম্যানেজার অমরচাদ (শৈলেন) এবং মালিক ত্রিলোকনাথ (অমর) তাকে থিয়েটারের নায়িকা হিসাবে মনোনীত করেন।
নায়িকা হিসাবে মঞ্জুর নাম হয় এবং অমরচাদের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ত্রিলোক ভুলুয়াকে ভুল বোঝায়। অন্যদিকে মঞ্জুও তার ক্রম উন্নতির ফলে নিজের শ্রেণিচরিত্র বিস্তৃত হয় এবং ভুল বুঝে ভুলুয়াকে অসম্মান করার জন্য তার পছন্দের গান বিকৃত করে গাইতেও রাজি হয়ে যায়।
ইতিমধ্যেই ভুলুয়া রেডিওতে গায়ক হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছিল, মঞ্জুর এই আচরণ ভুলুয়া সহ্য করতে পারে না, মঞ্জুকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। মঞ্জু নিজের ভুল বুঝতে পারে, থিয়েটারের চাকরি ছেড়ে ভুলুয়ার সঙ্গ নেয়। এই ছবির সংগীতাংশ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল, বিশেষ করে সায়গলের কণ্ঠে ‘বাবুল মোরা নৈহার ছুট যায়’ গানটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠেছিল।
ছবিটির হিন্দী ভার্সন স্ট্রীট সিংগার’ কে.এল. সায়গল ও কানন দেবীকে গায়ক ও গায়িকা হিসাবে সর্বভারতীয় পরিচিতি এনে দিয়েছিল। ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি চলচ্চিত্র সমালোচকদেরও প্রশংসা অর্জন করে।
