সাগর সঙ্গমে চলচ্চিত্র হল দেবকী বসু পরিচালিত ১৯৫৯ সালের একটি বাংলা চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি ১৯৫৯ সালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসাবে এবং শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেত্রীর জন্য জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। পুরস্কার প্রদান করেন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি – ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। এটি ৯ম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল।

সাগর সঙ্গমে চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা – ডিলাক্স।
- কাহিনি – প্রেমেন্দ্র মিত্র।
- চিত্রনাট্য ও পরিচালনা – দেবকীকুমার বসু।
- সংগীত পরিচালনা — রাইচাঁদ বড়াল।
- চিত্রগ্রহণ – বিমল মুখোপাধ্যায়।
- শিল্প নির্দেশনা— সৌরেন সেন।
- শব্দগ্রহণ — শ্যামসুন্দর ঘোষ।
- গীতরচনা — শৈলেন রায়।
- সম্পাদনা— গোবর্ধন অধিকারী।
অভিনয় —
ভারতী দেবী, কুমারী মঞ্জু অধিকারী, নীতীশ মুখোপাধ্যায়, মাষ্টার বিন্তু. জহর রায়, তুলসী লাহিড়ী, শৈলেন মুখোপাধ্যায়, ধীরাজ দাস, নিভাননী দেবী, মনোরমা দেবী (বড়)।
কণ্ঠ সংগীত —
গোবিন্দগোপাল মুখোপাধ্যায়, মাধুরী মুখোপাধ্যায়, ব্রজেন সেন, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়।

কাহিনি—
অর্থবান পরিবারের নিঃসন্তান বিধবা দাক্ষায়ণী (ভারতী) পরম নিষ্ঠাবতী। সনাতন হিন্দু ধর্মে তাঁর প্রবল আস্থা। দাক্ষায়ণী পুণ্য সঞ্চয় করতে গঙ্গাসাগরে মুক্তিস্নান করার সিদ্ধান্ত নেন। গ্রামের কিছু পুণ্যার্থিনী বিধবা তাঁর সঙ্গী হয়ে গঙ্গাসাগর যাত্রা করেন। নৌকার মাঝি লক্ষ্মণ পয়সার লোভে কিছু বারবনিতা ও তাদের পরিবারকে নৌকায় তোলে। ঐ বারবনিতা পরিবারের ১০ বছরের মেয়ে বাতাসীর (মঞ্জু) ব্যবহারে দাক্ষায়ণী অসন্তুষ্ট হন। বাতাসীর লঘু গুরু জ্ঞান নেই, তার উপর খুবই মুখরা।
কাকদ্বীপের কাছে ঝড়ে নৌকাডুবি হয়। দাক্ষায়ণীর একান্ত প্রচেষ্টায় বাতাসী রক্ষা পায়। দাক্ষায়ণী নিজের প্রাণ তুচ্ছ করে বাতাসীকে উদ্ধার করেন। কোনো রকমে তাঁরা গঙ্গাসাগরে এসে উপস্থিত হন, বাতাসী এখন একান্ত ভাবেই দাক্ষায়ণীর উপর নির্ভরশীল। বয়স অল্প হলেও বাতাসী বুঝতে পারে যে সে দাক্ষায়ণীর কাছে অবাঞ্ছিত।
সে প্রথমে পালিয়ে গেলেও অসুস্থ অবস্থায় দাক্ষায়ণীর আশ্রয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। দাক্ষায়ণীও তাকে সন্তান স্নেহে সেবা করেন, এবং স্থির করেন ফেরার পথে তাকে সাথে করেই নিয়ে যাবেন। অসুস্থ বাতাসীর মৃত্যু হলে পরিচয় আপন পরে মাতা হিসাবে দাক্ষায়ণী নিজের নাম এবং বাতাসীর পিতা হিসাবে নিজের প্রয়াত স্বামী যোগেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের নাম লিখে দেন। নিজের আজন্ম লালিত সংস্কারকে দাক্ষায়ণী জয় করতে পেরেছিলেন।
পুরস্কার—
১৯৫৮ সালে তৈরি শ্রেষ্ঠ ছবির জাতীয় পুরস্কার হিসাবে স্বর্ণপদক এবং ঐ সালে বাংলা ভাষায় নির্মিত শ্রেষ্ঠ ছবি হিসাবে রৌপ্য পদক লাভ করে।
