সলিল চৌধুরী

সলিল চৌধুরী, জন্ম আসামের শিবসাগরে, ছেলেবেলা কেটেছে আসামের চা-বাগান অঞ্চলে। বাবার সংগ্রহ করা পশ্চিমি ধ্রুপদী সংগীত শোনার অভ্যাস ছিল ছোটবেলা থেকেই। মাত্র চার বছর বয়সে পিয়ানো শেখায় হাতেখড়ি।

 

সলিল চৌধুরী

 

সলিল চৌধুরী

 

উচ্চশিক্ষার জন্য ২৪ পরগণার কোদালিয়ায় মামার বাড়িতে চলে আসেন এবং বঙ্গবাসী কলেজ/বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে স্নাতক হয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও শিক্ষা অসম্পূর্ণ রেখেই ভারতীয় গণনাট্য সংঘের সাথে যুক্ত হন। গণনাট্যের হয়ে বাংলার বহু গ্রামেই অনুষ্ঠান করেছেন। নাটকে সংগীত যোজনার পাশাপাশি গানের দলেও অংশ নিয়েছেন।

১৯৪৪ সালে ছাত্র ফেডারেশনের স্কোয়াডের সাথে আসামেও গিয়েছিলেন, শিক্ষক আন্দোলনের ওপর লেখা নাটক ‘সংকেত’ মঞ্চস্থ হয়েছিল। সংকেত ছাড়াও ‘জনান্তিক’ এবং ‘অরুণোদয়ের পথে’ (অনুবাদ) এবং তাঁর লেখা নাটক ‘আপনি কে? আপনি কি করছেন? আপনি কি করতে চান?’ থিয়েটার ইউনিট মঞ্চস্থ করে।

 

সলিল চৌধুরী

 

চলচ্চিত্রের সাথে প্রথম যোগাযোগ সত্যেন বসু পরিচালিত পরিবর্তন (১৯৪৯) ছবিতে সংগীত পরিচালনার কাজে। যে সব উল্লেখযোগ্য পরিচালকের সাথে কাজ করেছেন তাঁরা হলেন সুধীর মুখোপাধ্যায়, বিনু বর্ধন, মৃণাল সেন, শম্ভু মিত্র, অমিত মৈত্র, ঋত্বিক ঘটক, রাজেন তরফদার, অর্দ্ধেন্দু মুখোপাধ্যায়, সুশীল মজুমদার, পীযূষ বসু, দীনেন গুপ্ত, অসিত সেন প্রভৃতি। নিজের সংগীত পরিচালনায় নির্মিত বহু ছবিতেই তিনি গান রচনা করেছেন।

নিজের ছবি ছাড়াও গান লিখেছেন কোমল গান্ধার (১৯৬১), কবিতা (১৯৭৭), বন্দী (১৯৭৮), আশ্রিতা (১৯৯০) এবং অনু (১৯৯৯) ছবিতে।

সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে ২৯টি বাংলা ছবির সংগীত পরিচালনার পাশাপাশি ২৫টি ছবির জন্য গান রচনাও করেছেন। সত্যেন বসু পরিচালিত রিক্সাওয়ালা (১৯৫৫) ছবির কাহিনিও তাঁর রচনা। এই রিক্সাওয়ালার হিন্দী বিমল রায় পরিচালিত ‘দো বিঘা জমিন’ (১৯৫৩) চলচ্চিত্র সমালোচকদের পাশাপাশি সচেতন দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে। ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃতও হয়।

 

সলিল চৌধুরী

 

বাংলা ছাড়াও হিন্দী, তামিল, তেলুগু, ঝাড়, অসমিয়া ভাষায় নির্মিত ছবিতেও সংগীত পরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন। ছবিতে সংগীত পরিচালক হিসাবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংগীতের সফল মেলবন্ধনে তৈরি তাঁর সুর শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। পঞ্চাশের থেকে আশির দশক পর্যন্ত যে সব সংগীত পরিচালক কাজ করেছেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিভাসম্পন্ন সংগীত পরিচালক বোধহয় সলিল চৌধুরী।

এখনও হিন্দী ছবির জগতে সংগীত বিষয়ক আলোচনায় তাঁকে একজন পথপ্রদর্শক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। আজকের জীবনমুখী গানও তার হাত ধরেই যাত্রা শুরু করেছিল। তাঁর আত্মজীবনীমূলক একটি লেখা আশির দশকে শারদীয় যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

 

চলচ্চিত্রপঞ্জি —
  • ১৯৪১ পরিবর্তন:
  • ১৯৫০ বরযাত্রী:
  • ১৯৫২ পাশের বাড়ী:
  • ১৯৫৩ বাঁশের কেল্লা, ভোর হয়ে এলো;
  • ১৯৫৪ আজ সন্ধ্যায়, মহিলা মহল,
  • ১৯৫৫ রাতভোর, রিক্সাওয়ালা (গল্প, সংগীত, গীত রচনা) ,
  • ১৯৫৬ একদিন রাত্রে
  • ১৯৫৯ বাড়ী থেকে পালিয়ে,
  • ১৯৬০ গঙ্গা,
  • ১৯৬১ রায়বাহাদুর;
  • ১৯৬৪ কিনু গোয়ালার গলি : অয়নান্ত, লাল পাথর,
  • ১৯৬৬ পাড়ি;
  • ১৯৭৩ মর্জিনা আবদাল্লা,
  • ১৯৭৭ সিস্টার;
  • ১৯৭৯ জীবন যে রকম, শ্রীকান্তের উইল;
  • ১৯৮০ ব্যাপিকা বিদায় পরবেশ,
  • ১৯৮৫ প্রতিজ্ঞা’,
  • ১৯৮৬ জীবন
  • ১৯৮৭ দেবিকা
  • ১৯৯০ স্বর্ণতৃষ্ণা
  • ১৯৯৪ মহাভারতী
  • ২০০৪ আততায়ী।
 গীতিকার —
  • ১৯৬১ কোমল গান্ধার:
  • ১৯৭৭ কবিতা:
  • ১৯৭৮ বন্দী,
  • ১৯৯০ আশ্রিতা
  • ১৯৯৯ অনু
প্রকাশিত গ্রন্থ

সলিল চৌধুরী, জীবন উজ্জীবন। কলকাতা, প্রতিক্ষণ ১৯৯৬

Leave a Comment