সপ্তপদী চলচ্চিত্রটি ১৯৬১ সালে তারাশংকর বন্দোপাধ্যায়ের কাহিনী অবলম্বনে তৈরি একটি জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা । এই সিনেমাটির মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন, তরুণ কুমার, ছবি বিশ্বাস প্রমুখ । সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক অজয় কর। সপ্তপদী ছবির গান অনেক জনপ্রিয় হয় সে সময়। এই ছবির সংগীত পরিচালক ছিলেন সুরকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ।এই ছবির এই পথ যদি না শেষ হয় গানটি আজও প্রবল ভাবে মানুষের মন ছুয়ে যায়।

সপ্তপদী চলচ্চিত্র
- প্রযোজক—আলোছায়া প্রোডাকসন্স।
- প্রযোজক — উত্তমকুমার।
- কাহিনি— তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- চিত্রনাট্য — বিনয় চট্টোপাধ্যায়।
- আলোকচিত্র তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা – অজয় – কর।
- সংগীত পরিচালনা – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।
- শিল্প নির্দেশনা – কার্তিক বসু।
- শব্দগ্রহণ— অতুল চট্টোপাধ্যায়, সুজিত সরকার, সত্যেন চট্টোপাধ্যায়, শ্যামসুন্দর ঘোষ।
- সম্পাদনা — অমিয় মুখোপাধ্যায়।
- চিত্রগ্রহণ—কানাই দে।
- গীতিকার — গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার।
- নাটক উপদেষ্টা (ওথেলো) — উৎপল দত্ত।
অভিনয়—
উত্তমকুমার, – সুচিত্রা সেন, ছবি বিশ্বাস, তুলসী চক্রবর্তী, তরুণকুমার, প্রীতি মজুমদার, পারিজাত বসু, ছায়া দেবী, পদ্মা দেবী, সীতা মুখোপাধ্যায়, স্বাগতা চক্রবর্তী, সবিতা রায়চৌধুরী, হেমাঙ্গিনী দেবী, ডিন গ্যাসপার, নরম্যান এলিস।

নেপথ্য সংগীত —
হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, সুজি মিলার।
কাহিনি—
কৃষ্ণেন্দু (উত্তম) মেডিক্যাল কলেজের উজ্জ্বল ছাত্র, পড়াশোনার সাথে, তর্ক, আবৃত্তি, নাটক, খেলাধুলা সর্বত্রই তার উজ্জ্বল উপস্থিতি। ফুটবল খেলার মাঠে জন ক্লেটন ও তার ইউরোপীয় বন্ধুরা গায়ের জোরে যখন তাদের সদম্ভ উপস্থিতি ঘোষণা করছে তখনও তারা কৃষ্ণেন্দুর কাছে পরাজয় স্বীকার করে। ক্লেটনের প্রিয় বান্ধবী ও সহপাঠী রীনা ব্রাউন (সুচিত্রা) কৃষ্ণেন্দুকে অপছন্দ করে। কিন্তু ওথেলোর নাট্যাভিনয়ে রীনা যেখানে ডেসডিমোনার ভূমিকায় এবং কৃষ্ণেন্দু ওথেলো তখন কি দুজনে পরস্পরের প্রতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল?

রীনা তার বাবা ডাঃ ব্রাউনের কাছ থেকে জানতে পারে সে পিতার বিবাহিত জীবনের সন্তান নয়, ডাঃ ব্রাউন তার পিতা হলেও বাড়ির আয়াই হল তার নিজের মা। ক্লেটন রীনার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করে। কৃষ্ণেন্দু রীনার ঘনিষ্ঠ হয়, রীনাকে বিয়ে করার জন্য কৃষ্ণেন্দু নিজেকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করে। কৃষ্ণেন্দুর বাবার চিঠি পেয়ে রীনা তাঁর একমাত্র সন্তানকে মুক্তি দিয়ে নিজে নিরুদ্দেশ হয়।
কৃষ্ণেন্দু বর্তমানে রেভারেন্ড কৃষ্ণস্বামী। সাঁওতাল অধ্যুষিত বাঁকুড়া জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে ছোট একটি হাসপাতালের দায়িত্বে আছেন, গরিব মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। হঠাৎই সামরিক বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ বিদেশিনী নারীর চিকিৎসা করতে গিয়ে তিনি লক্ষ করেন সেই নারী হলেন তাঁর একদা প্রিয়তমা রীনা ব্রাউন, রীনাও সুস্থ হয়ে কৃষ্ণেন্দুকে চিনতে পারে, এবং কৃষ্ণেন্দুর পিতাকে দেওয়া তার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে হাসপাতাল থেকে চলে যায়।
অসুস্থ অধঃপতিতা রীনার সাথে আবার তাঁর সাক্ষাৎ হয়, মৃত্যু পথযাত্রী অসুস্থ রীনাকে আবার তিনি সুস্থ করে তোলেন, দু’জনের ভবিষ্যৎ মিলনের সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে ছবি শেষ হয়। অসাধারণ জনপ্রিয় এই ছবি এখনও দর্শকদের সমান ভাবে আকর্ষণ করে।
পুরস্কার—
ছবিটি ১৯৬১ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতির সার্টিফিকেট অফ মেরিট লাভ করেছিল।
