সতীনাথ মুখোপাধ্যায় একজন খ্যাতিমান বাঙালি কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। তিনি আধুনিক বাংলা গান, নজরুল সংগীত ও গজল শিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সতীনাথ মুখোপাধ্যায়
জন্ম কলকাতায় হলেও শিক্ষাজীবন কাটে হুগলী জেলায়। চুঁচুড়ায় শিবচন্দ্র সোম এ্যাকাডেমি থেকে প্রবেশিকা এবং হুগলী মহসিন কলেজ থেকে স্নাতক হন। ছোটবেলা থেকেই সংগীত শিক্ষাও শুরু করেন মোহিতকুমার চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। ১৯৪৮ সালে আকাশবাণী থেকে তাঁর গান প্রথম প্রচারিত হয়।

সতীনাথ এক সময় গ্রামোফোন কোম্পানির সংগীত শিক্ষক হিসাবেও কাজ করেছেন। বিভিন্ন রেকর্ড কোম্পানি থেকে তাঁর বহু বেসিক রেকর্ডও প্রকাশিত হয়েছে।
চলচ্চিত্রে প্রথম কাজ নেপথ্য গায়ক হিসাবে অমর মল্লিক পরিচালিত স্বামীজী (১৯৪৯) ছবিতে। এই ছবির সংগীত পরিচালক ছিলেন রাইচাঁদ বড়াল। সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে প্রায় তিরিশটি ছবিতে নেপথ্য সংগীত শিল্পী হিসাবে কাজ করেছেন পবিত্র চট্টোপাধ্যায়, নচিকেতা ঘোষ, রাজেন সরকার, রবীন চট্টোপাধ্যায়, সলিল চৌধুরী, কালীপদ সেন, আলী আকবর খাঁ।

সুধীন দাশগুপ্ত প্রভৃতি সংগীত পরিচালকের সাথে।। সংগীত পরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন তিনটি ছবিতে। ছবিগুলি হল অনুরাগ (১৯৫১. পরিচালনা যতীন দাস); ভাগ্যচক্র (১৯৮০, পরিচালনা অজয় বিশ্বাস) এবং উত্তমকুমার পরিচালিত বনপলাশির পদাবলী (১৯৭৩)। এই ছবিতে তিনি দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, নচিকেতা ঘোষের সাথে যৌথভাবে সংগীত পরিচালনার কাজ করেছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য স্বনামধন্য সংগীতশিল্পী উৎপলা সেন তাঁর স্ত্রী।
চলচ্চিত্র পঞ্জি —
- ১৯৪৯ স্বামীজী
- ১৯৫১ অনুরাগ
- ১৯৫৩ শ্রীকৃষ্ণলীলা:
- ১৯৫৪- নীল শাড়ি, জয়দেব:
- ১৯৫৫ শ্রীকৃষ্ণ সুদামা, ঝড়ের পরে, গোধূলি, দেবী মালিনী, রাতভোর, কালিন্দী:
- ১৯৫৬ সাগরিকা, অসমাপ্ত, ফল্গু, টাকা আনা পাই, সিথির সিঁদুর:
- ১৯৫৭ রাত্রিশেষে, মাথুর
- ১৯৫৮ পুরীর মন্দির
- ১৯৫৯ মৃতের মর্ত্যে আগমন:
- ১৯৬০ প্রবেশ নিষেধ, সুরের পিয়াসা
- ১৯৬৪ রাধাকৃষ্ণ মরুতৃষ্ণা
- ১৯৬৫ ও কে:
- ১৯৬৬ মায়াবিনী লেন, হারানো প্রেম:
- ১৯৬৭ কেনার রাজা
- ১৯৭০ নল দময়ন্তী:
- ১৯৭৩ বনপলাশির পদাবলী-
- ১৯৮০ ভাগ্যচক্র।
