শ্রীমান পৃথ্বীরাজ চলচ্চিত্র

শ্রীমান পৃথ্বীরাজ চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা – কে এল কাপুর ফিল্মস প্রযোজক আর এন মালহোত্রা, রাজ কাপুর ।
- চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনা – তরুণ মজুমদার।
- কাহিনি – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়।
- সংগীত পরিচালনা—হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।
- চিত্রগ্রহণ শক্তি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- শিল্প নির্দেশনা – সুনীতি মিত্র।
- সম্পাদনা – দুলাল দত্ত শব্দগ্রহণ বাণী দত্ত, ইন্দু অধিকারী, দুর্গা মিত্র।
- গীতিকার— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার।
অভিনয় –
অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া রায়চৌধুরী, ইন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল দত্ত, সত্যজিৎ বসু, তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, হিরণ্ময় মিশ্র, বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, উৎপল দত্ত, সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, চিন্ময় রায়, সন্তোষ দত্ত, রীণা ঘোষ, পুরোধা বসু, পদ্মা দেবী, নিভাননী দেবী, তপেন চট্টোপাধ্যায়, হরিধন মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা রায়, বিশ্বজিৎ, ছবি বন্দ্যোপাধ্যায়, গীতা নাগ।

নেপথ্য সংগীত —
লতা মঙ্গেশকর, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, আরতি মুখোপাধ্যায়, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
কাহিনি—
বনমালী মুখার্জীর (সত্য) ছেলে রসিকলাল (অয়ন) অত্যন্ত দুরন্ত, তার দুষ্টামির কারণে প্রতিদিনই বনমালীর কাছে গ্রামের বিভিন্ন লোক নালিশ করে। কিন্তু রসিকের মা, ঠাকুরমার অত্যধিক স্নেহে রসিকের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। তার আদর্শ ইতিহাসের বিখ্যাত বীর পৃথ্বীরাজ’।
পৃথ্বীরাজের বিরুদ্ধ পক্ষ অস্তার নেতৃত্বাধীন আলেকজান্দার। অন্তার মিথ্যা অভিযোগে স্কুলের হেডমাস্টার রসিককে স্কুল থেকে বিতাড়ন করেন। বাবার মারের ভয়ে রসিক বাড়ি থেকে পালালেও শেষরক্ষা হয় না। মা এবং ঠাকুরমার অনুরোধে এবং জেদে শেষ পর্যন্ত রসিকের বিয়ে হয় রায়সাহেব পান্নালাল চৌধুরীর (উৎপল) কন্যা অমলার (মহুয়া) সাথে। রসিক ও অমলা দুজন দুজনকে ভালোবেসে ফেললেও পান্নালালের সাহেবদের তেল দিয়ে রায়বাহাদুর হওয়ার চেষ্টা রসিকের পছন্দ হয় না।

একটার পর একটা অঘটনে পান্নালাল জামাইয়ের উপর খাহস্ত। জামাইও বাড়ি থেকে পালায়, পান্নালাল ঘোষণা করেন তার মেয়ে বিধবা, আর বনমালী ঘোষণা করেন ছেলের আবার বিয়ে দেবেন। রসিক ও অমলা দুজনেই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিচ্ছিন্ন হলেও তাদের নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক অটুট, এই সম্পর্ককে দাম্পত্য বা সখ্য যে কোনো নামেই অভিহিত করা যেতে পারে।
রসিক অমলাকে খবর পাঠায় সে পৃথ্বীরাজের মতো তাকে তাদের বাড়ি থেকে হরণ করে নিয়ে আসবে। কথামতো অমলাও তৈরি থাকে, রসিক গাড়ি চালাতে না জানলেও শ্বশুরের গাড়ি নিয়ে অমলাকে নিয়ে বাড়ির পথে যাত্রা করে, পান্নালালও অন্য একটি গাড়ি নিয়ে তার পেছনে ধাওয়া করেন। গাড়ি চালানোর এবং তাকে তাড়া করার একটি অসাধারণ দৃশ্যায়নের শেষে, রসিক অমলাকে নিয়ে অক্ষত শরীরে বাড়ি পৌঁছায়, পিছনে পিছনে সপুত্র পান্নালালও সেখানে উপস্থিত হন এবং শেষ পর্যন্ত সকলের মিলনে ছবি শেষ হয়।
ছবিটি তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে। তরুণবাবুর ঘরানার ছবি হিসাবে এটি বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি রুচিশীল দর্শকদের প্রশংসা অর্জনে সমর্থ হয়।
প্রকাশনা –
ছবির চিত্রনাট্য ‘বৈশাখী’ পত্রিকার তরুণ মজুমদার বিশেষ সংখ্যায় ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়।
