শৈলেন রায়

শৈলেন রায়, ১৯০৫ সালে কুচবিহারে জন্ম। স্কুল শিক্ষা সমাপ্ত করে কুচবিহার কলেজে ভর্তি হন। স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন কবিতা লেখা শুরু করেন। কলেজে পড়ার সময় কাজী নজরুলের সাথে যোগাযোগের ফলে কুচবিহার ছেড়ে কলকাতার সিটি কলেজে ভর্তি হন। তাঁর লেখা গান অবলম্বনে প্রথম রেকর্ড মুক্তি পায় ১৯২৭ সালে। ১৯৩০ সালে তাঁর লেখা ‘কাজরী’ গীতিনাট্য সাধারণ রঙ্গালয়ে মঞ্চস্থ হয়।

 

শৈলেন রায় । বাংলা চলচ্চিত্র

 

শৈলেন রায়

 

চলচ্চিত্রে গীতিকার হিসাবে তাঁর প্রথম কাজ বিদ্রোহী (১৯০৫) ছবিতে। ছবিটি পরিচালনা করেন ধীরেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলী। সত্ত্ব সেন পরিচালিত মন্ত্রশক্তি (১৯৩৫) ছবিরও গীতিকার ছিলেন শৈলেনবাবু। চলচ্চিত্রে তাঁর লেখা বহু গানই ছবিকে বক্স অফিস সাফল্য পেতে সাহায্য করেছে।

চল্লিশের দশকের প্রথমার্ধে স্বামী স্ত্রী (১৯৪০) ছবির তোমারি পথ পানে চেয়ে এবং শেষ উত্তর (১৯৪২) ছবির যদি আপনার মনে মাধুরী মিশায়ে এঁকে থাকো কোন ছবি’ এবং ‘তুফান মেল’ গানগুলি জনপ্রিয় হয়েছিল, বিশেষ করে কানন দেবীর কণ্ঠে ‘তুফান মেলা’ গানটি জনপ্রিয়তার শিখরে উঠেছিল।

 

শৈলেন রায় । বাংলা চলচ্চিত্র

 

চলচ্চিত্রে তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গান হল যোগাযোগ (১৯৪৩) ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘বিষ্ণুপ্রিয়া গো আমি চলে যাই উদয়ের পথে (১৯৪৪) ছবিতে রেখা মল্লিকের গলায় গেয়ে যাই, গান গেয়ে যাই’, বিদ্যাসাগর (১৯৫০) চলচ্চিত্রে রঞ্জিত রায়ের কণ্ঠে ‘বেঁচে থাক বিদ্যাসাগর’, বাবলা (১৯৫১) ছবিতে উৎপলা সেনের গলায় ‘দুখের কাছে হার মেনে তোর’, ইত্যাদি। ছায়াছবি এবং নাটকের প্রয়োজনে রোমান্টিক গান এবং বিরহের গানের সঙ্গে অন্য গানও তিনি লিখেছেন।

শৈলেন রায় ৮৮টি ছবির জন্য গান লেখার পাশাপাশি সংগীত পরিচালনা করেন তথাপি (১৯৫০), শেষবেশ (১৯৫০), আজ কাল পরশু (১৯৬১) ইত্যাদি ছবির গল্প লেখেন তুমি আর আমি (১৯৪৬), আভিজাত্য (১৯৪৯), সঙ্কল্প (১৯৪৯), সহযাত্রী (১৯৫১) ছবির এবং চিত্রনাট্য করেন তুমি আর আমি (১৯৪৬), আত্মদর্শন (১৯৫৫), লালু ভুলু (১৯৫৯) ছবির।

চলচ্চিত্রে তার শেষ কাজ গীতিকার হিসাবে উত্তরায়ণ (১৯৬৩) ছবিতে। চলচ্চিত্র ছাড়াও তাঁর লেখা বহু গানই জনপ্রিয় হয়েছিল। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি বহু নাটকের জন্যও গান লিখেছেন।

 

চলচ্চিত্রপঞ্জি —
  • ১৯৩৫ বিদ্রোহী, মন্ত্রশক্তি,
  • ১৯৩৬ কাল পরিণয়, আবর্তন, পরপারে, সরলা, সোনার সংসার, আমার দেশ, পণ্ডিতমশাই,
  • ১৯৩৭ ধূমকেতু
  • ১৯৩৮ সৰ্ব্বজনীন বিবাহোৎসব:
  • ১৯৩৯ পরশমণি,
  • ১৯৪০ স্বামী স্ত্রী, পথ ভুলে, শুকতারা, ঠিকাদার:
  • ১৯৪১ বিজয়িনী, অবতার,
  • ১৯৪২ নারী, শেষ উত্তর, জীবন সঙ্গিনী:
  • ১৯৪৫ দুই পুরুষ, জীর্ণ:
  • ১৯৪৬ পথের সাথী, নতুন বউ, মাতৃহারা, তুমি আর আমি
  • ১৯৪৭ তপোভঙ্গ, নার্স সিসি, চোরাবালি, স্বপ্ন ও সাধনা,
  • ১৯৪৮ পুরবী, অনির্বাণ, বঞ্চিতা, অঞ্জনগড়, নন্দরাণীর সংসার, নারীর রূপ, বাঁকা লেখা, সমাপিকা
  • ১৯৪৯ অনন্যা, বিদুষী-ভার্যা, আভিজাত্য, বিষের ধোঁয়া, সিংহদ্বার, সংকল্প, পরশপাথর, সমর্পণ
  • ১৯৫০ ইন্দ্রনাথ, তথাপি, মহাসম্পদ, শেষবেশ, বিদ্যাসাগর, সহোদর।
  • ১৯৫১ অপরাজিতা, সহযাত্রী, গাঁয়ের মেয়ে, প্রত্যাবর্তন, নষ্টনীড়
  • ১৯৫২ সঞ্জীবনী বসুপরিবার, কার পাপে, আধি:
  • ১৯৫৩ সাড়ে চুয়াত্তর
  • ১৯৫৪, মাও ছেলে, কল্যাণী,
  • ১৯৫৫ রাইকমল, আত্মদর্শন:
  • ১৯৫৬ লক্ষ হীরা, রাজপথ:
  • ১৯৫৭ পরের ছেলে, তাসের ঘর, আমি বড় হবো:
  • ১৯৫৮ শ্রীশ্রীতারকেশ্বর:
  • ১৯৫৯ লালু ভুলু, সাগর সঙ্গমে, কিছুক্ষণ:
  • ১৯৬০ কুহক, মীরাবাই, নতুন ফসল
  • ১৯৬১ আজ কাল পরশু
  • ১৯৬২ কান্না
  • ১৯৬৩ উত্তরায়ণ
  • ১৯৭২ জনতার আদালত।

Leave a Comment