শেষের কবিতা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

শেষের কবিতা চলচ্চিত্র

 

শেষের কবিতা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

শেষের কবিতা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা প্রদীপ প্রোডাকসন
  • কাহিনি ও গীত রচনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • চিত্রনাট্য নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, মধু বসু।
  • পরিচালনা মধু বসু।
  • চিত্রগ্রহণ – জি.কে. মেহতা।
  • শিল্প নির্দেশনা-কার্তিক বসু।
  • সম্পাদনা – শ্যাম দাস, শিব ভট্টাচার্য।
  • সংগীত পরিচালনা — কালীপদ সেন।
  • রবীন্দ্রসংগীত পরিচালনা — অনাদিকুমার দস্তিদার।
অভিনয় —

দীপ্তি রায়, নির্মলকুমার, সাধনা বসু, চন্দ্রাবতী দেবী, বনানী চৌধুরী, ধীরেন চট্টোপাধ্যায়, উৎপল দত্ত, রমলা চৌধুরী, প্রীতি মজুমদার, চিত্রা মণ্ডল, অনিলকুমার সমর রায়, ছবি বিশ্বাস, কালী সরকার, নীলিমা দাস, শোভা সেন, রেবা দেবী, রেণুকা রায়, রাজিয়া, আদিত্য ঘোষ, মিহির ভট্টাচার্য, হরেন মুখোপাধ্যায়।

 

শেষের কবিতা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

কাহিনি—

অমিত রায় (নির্মলকুমার) বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার, পারিবারিক সূত্রে প্রচুর সম্পত্তির মালিক, কিছুটা বেহিসাবি এবং উড়নচণ্ডী। তার সমস্ত আগ্রহ জীবনের রসাস্বাদনে। উলটো কথা বলা, উলটো কাজ করাতেই তার আগ্রহ, একটি সাহিত্যসভায় সে মন্তব্য করে ‘রবীন্দ্রনাথের উচিত তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের আসন কোনো নতুন কবির জন্য খালি করে যাওয়া।

নিবারণ চক্রবর্তী ছদ্মনামে সে কবিতা লেখে এবং রবীন্দ্রনাথ শ্রেষ্ঠত্বের আসন খালি করলে সেটি নিবারণ চক্রবর্তীর প্রাপ্য বলেও সে মনে করে। এক কথায় সে অসাধারণ, মহিলাদের সম্পর্কে তার উৎসাহ থাকলেও আগ্রহ ছিল না। মনে মনে সে এক অনন্যা নারীর মূর্তি কল্পনায় সৃষ্টি করেছিল এবং অনন্যার খোঁজ করাই ছিল তার সাধনা।

অক্সফোর্ডে সে কেটি মিত্তিরের (সাধনা) দেখা পায় কিন্তু অন্তরঙ্গ পরিচয়ের পর কেটিকে তার অনন্যা বলে মনে হয় নি, যদিও অমিত সম্পর্কে কেটির যথেষ্টই উৎসাহ ছিল। এইভাবে বিনি বোস (রাজিয়া), লিলি গাঙ্গুলী (নীলিমা) ও আরও অনেক নারীর সাথে মিশেও সে তার অনন্যার খোঁজ পায় না।

 

শেষের কবিতা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

হঠাৎই সে তার অনন্যার সাক্ষাৎ পায় শিলং পাহাড়ে গিয়ে। একটি অ্যাকসিডেন্টের মধ্য দিয়ে লাবণ্যর (দীপ্তি) সাথে তার দেখা। অমিত তাকে ডাকে বন্যা এবং লাবণ্য অমিতের নতুন নাম দেয় মিতা। শিলং পাহাড়ের নির্জনতা ভরে ওঠে বন্যা ও মিতার অন্তরঙ্গ আলাপে। লাবণ্যর মারফত অমিতের পরিচয় হয় যোগমায়া দেবীর (চন্দ্রাবতী) সঙ্গে। অমিত তাঁকে মাসিমা বলে প্রণাম করে। অমিত এবং লাবণ্যকে পাশাপাশি দেখে তাঁর মনে হয় দুজন যেন দুজনের জন্যই জন্মেছে। তিনি তাঁদের বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও তা ব্যর্থ হয় শোভনলালের (সমর) আবির্ভাবে।

শোভনলাল ছিল লাবণ্যর বাবার প্রিয় ছাত্র, বিদ্যার মোহে লাবণ্য ভুল বুঝে তাকে অপমান করেছিল। শোভনলাল কিছু না বলেই বাড়ি থেকে চলে যায়। ইতিহাসের ছাত্র শোভনলাল ভারতের পুরাতন ভগ্নাবশেষ খুঁজতে শিলং আসে, লাবণ্যর সাথে তার আবার দেখা হয়। লাবণ্যর জীবনে শোভনলাল তার ছেলেবেলার স্মৃতি, লাবণ্য জানত অমিত ভালোবাসতে জানলেও তার সাথে সংসার করা অসম্ভব।

শোভনলালকে সঙ্গে নিয়ে লাবণ্য অমিতের জীবন থেকে সরে যায়। অন্য দিকে কেটি কোনোদিন অমিতকে ভুলতে পারে নি, তার বিয়ের খবর পেয়ে সে অমিতের অনন্যাকে দেখার জন্য শিলং পাহাড়ে আসে, সেই সময়ই অমিত পায় বন্যার শেষ চিঠি, দেহাতীত অমর প্রেমের বাণী।

“তোমারে যা দিয়েছিনু

সে তোমারি দান

গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়

হে বন্ধু বিদায়।”

কবিগুরুর শেষের কবিতার এই চলচ্চিত্ররূপ সমালোচকদের সাথে দর্শকদেরও সমাদর পেয়েছিল।

Leave a Comment