শূন্য থেকে শুরু চলচ্চিত্র

শূন্য থেকে শুরু চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা — হিল্লোল দাস, মধুবন্তী মৈত্র, মণিকাঞ্চনা দাস।
- কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা— অশোক বিশ্বনাথন।
- সংগীত – দীপক চৌধুরী।
- শিল্প নির্দেশনা – বুদ্ধদেব ঘোষ, মধুবন্তী মৈত্র।
- চিত্রগ্রহণ — বিবেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- সম্পাদনা – মহাদেব শী।
- শব্দগ্রহণ—চিন্ময় নাথ, সুদীপ্ত বসু।
অভিনয় –
ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, মমতাশঙ্কর, এন. বিশ্বনাথন, লিলি চক্রবর্তী, অঞ্জন দত্ত।

কাহিনি—
ষাটের দশকের শেষ দিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় ডঃ ভীষ্মদেব শর্মা (ধুতিমান) এবং সত্যজিৎ পাইন নামে দুই অধ্যাপক বিপ্লবের পক্ষে কাজ করার জন্য আত্মগোপন করেন। আন্দোলন ব্যর্থ হয়, ডঃ শর্মা পুলিসের হাতে ধরা পড়েন এবং তাঁর জেল হয়।
জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ডঃ শর্মা ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াতেন। একদিন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু সমর গুপ্তর (বিশ্বনাথন) সাথে শর্মার দেখা হয়, সমর শর্মাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে আছেন তাঁর স্ত্রী (লিলি) এবং কন্যা প্রজ্ঞা (মমতাশঙ্কর)। তাদের নিরলস সেবা এবং সাহচর্যে শর্মা সুস্থ হয়ে ওঠেন।
অন্যদিকে সমর তাঁর নিজের তৈরি করা কর্পোরেট সাম্রাজ্যে নিজেই হাঁফিয়ে উঠেছিলেন, বর্তমানে শর্মার সাহচর্যে তিনি তাঁর কৃত্রিম জীবনযাপন থেকে কিছুটা মুক্তি পান।প্রজ্ঞা শর্মার প্রতি একটা অদ্ভুত টান অনুভব করে। শর্মার বিপ্লবী জীবনকে সে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করে।
সমর গুপ্ত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান। শর্মা ঐ বাড়ি ছেড়ে একটি এক কামরার ফ্ল্যাটে উঠে যান। শর্মা তাঁর পূর্ববর্তী জীবনের কাজকর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বর্তমান গতানুগতিক জীবন সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। শর্মা ও প্রজ্ঞা তাদের প্রাত্যহিক দেখাশোনার এই জীবন শেষ হয়ে যাওয়ায় দুঃখিত হয়।
শর্মা চলে যাওয়ার পর তাঁর শূন্য ঘরে দাঁড়িয়ে প্রজ্ঞা অনুভব করে শর্মা সব সময় তার সাথেই আছেন।
ছবিটি ১৯৯৩ সালে ইন্ডিয়ান প্যানোরামায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
