শিশিরকুমার ভাদুড়ী একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা এবং পরিচালক, প্রধানত নাট্যজগতের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব, জন্ম হাতিয়ায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজি সাহিত্যে এম.এ. পাস করে অধ্যাপনায় যোগ দেন। (১৯১৪-২১) প্রথমে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউট ও পরবর্তী কালে বিদ্যাসাগর কলেজে অধ্যাপনা করেন।

শিশিরকুমার ভাদুড়ী (ড়ি) । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা
ছাত্রাবস্থায় ও অধ্যাপনার সময়ে ইউনিভারসিটি ইনস্টিটিউট হলে অভিনেতা হিসাবে বহু বাংলা ও ইংরাজি নাটকে অংশ নেন। রবীন্দ্রনাথও তাঁর অভিনয়ের গুণগ্রাহী ছিলেন। অধ্যাপনা ছেড়ে অভিনয়কে সর্বসময়ের পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন এবং ১৯২৯ সালে ম্যাডান থিয়েটার্সে ‘আলমগীর’ নাটকে নামভূমিকায় অভিনয় করেন। শিশিরকুমারকে বাংলা রঙ্গমঞ্চের নব যুগের প্রবর্তক হিসাবে বর্ণনা করা হয়।
মূলত, তাঁর হাত ধরেই বাংলা রঙ্গমঞ্চে ঊনবিংশ শতাব্দীর আধুনিক নাট্যধারার প্রবেশ ঘটে। চলচ্চিত্রে প্রথম অংশগ্রহণ ১৯২২ সালে মোহিনী বা একাদশী ছবিতে। পরিচালনার পাশাপাশি ছবিটিতে অভিনয়ও করেছিলেন। ১৯২২ সালে শিশিরকুমার তাজমহল ফিল্ম কোম্পানির প্রযোজনায় তৈরি করেন আঁধারে আলো ছবি। ছবিটি সমঝদার দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছিল।

পরের বছর ম্যাডান থিয়েটার্সের ব্যানারে তৈরি করেন কমলে কামিনী (১৯২৩)। এই ছবি তিনি পরিচালনা করা ছাড়াও অভিনয়ও করেন। ১৯২৩ সালে তিনি তাঁর নিজস্ব নাট্যসংস্থা “নাট্যমন্দির” প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯২৪ সাল থেকে যোগেশ চৌধুরীর লেখা ‘সীতা’ নাটক দিয়ে নাট্যমন্দিরের যাত্রা শুরু হয়।
১৯২৯ সালে ইষ্টার্ন ফিল্ম সিন্ডিকেট-এর প্রযোজনায় তৈরি করেন রবীন্দ্রনাথের কাহিনি অবলম্বনে বিচারক, ছবিটিতে তিনি অভিনয়ও করেন। সবাক যুগে তাঁর প্রথম ছবি নিউ থিয়েটার্সের ব্যানারে তৈরি সীতা (১৯৩০), পরে নিউ থিয়েটার্সের পল্লী সমাজ (১৯৩২) ছবিও পরিচালনা করেন।
১৯৩৭ সালে কালী ফিল্মস্-এর ব্যানারে তৈরি করেন দারমত টকী এবং ১৯৩৯ সালে তাঁর পরিচালনায় শেষ ছবি চাণক্য মুক্তি পায়। নিজের পরিচালনা ছাড়া শুধু সতীশ দাশগুপ্ত পরিচালিত পোষ্যপুত্র (১৯৪৩) ছবিতে অভিনয় করেছেন।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯২২ মোহিনী, আঁধারে আলো
- ১৯২৩ খোকাবাবু,
- ১৯২৪ কমলে – কামিনী,
- ১৯২৯ বিচারক:
- ১৯৩২ পল্লী সমাজ
- ১৯৩৩ সীতা
- ১৯৩৭ দস্তুরমত টকী:
- ১৯৩৯ চাণক্য,
- ১৯৪৩ পোষ্যপুত্র
