শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম হুগলীর দেবানন্দপুরে হলেও ছোটবেলা থেকে যৌবনের কিছুটা সময় কেটেছে ভাগলপুরে মামার বাড়িতে। সেখান থেকেই প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান নি। পিতার মৃত্যুর পর কাজের সন্ধানে বার্মায় যান। কিছুদিন সেখানে এ.জি. অফিসে চাকরিও করেন।

 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

 

অল্পবয়সেই সাহিত্য রচনায় হাতেখড়ি। যমুনা পত্রিকায় তাঁর লেখা রামের সুমতি, বিন্দুর ছেলে, পথনির্দেশ ইত্যাদি প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে ভারতবর্ষে প্রকাশিত বিরাজ বৌ, পণ্ডিতমশাই, পল্লী সমাজ ইত্যাদি তাকে সাহিত্যিক হিসাবে প্রতিষ্ঠা এনে দেয়।

বার্মা থেকে ফিরে কিছুদিন হাওড়ার বাজেশিবপুরে এবং পরে পানিত্রাসে বসবাস শুরু করেন। শেষ জীবনে দক্ষিণ কলকাতার অশ্বিনী দত্ত রোডে বাস করতেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সমর্থনে হাওড়া জেলা কংগ্রেসের সাথে যুক্ত হন, কিছুদিন জেলা কংগ্রেসের সভাপতিও ছিলেন।

 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লববাদী ধারার পক্ষে তাঁর লেখা পথের দাবী গ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে। অনিলা দেবী ছদ্মনামেও তাঁর কিছু লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁর লেখা কাহিনি অবলম্বনে প্রথম ছবি আঁধারে আলো (১৯২২) তাজমহল ফিল্ম কোম্পানির প্রযোজনায় নির্মিত হয়। নির্বাক যুগে তৈরি এই ছবি যৌথ ভাবে পরিচালনা করেন শিশিরকুমার ভাদুড়ী এবং নরেশচন্দ্র মিত্র। নির্বাক যুগে তাঁর লেখা কাহিনি অবলম্বনে ৬টি ছবি তৈরি হয়েছিল।

 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

নিউ থিয়েটার্স প্রযোজিত এবং প্রেমাঙ্কুর আতর্থী পরিচালিত দেনাপাওনা (১৯৩১) তাঁর লেখা কাহিনি অবলম্বনে প্রথম সবাক চিত্র। সবাক যুগে তাঁর কাহিনি অবলম্বনে পঞ্চাশটি বাংলা ছবি তৈরি হয়েছে। যে সব উল্লেখযোগ্য পরিচালক তাঁর লেখা কাহিনি অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তাঁরা হলেন প্রমথেশচন্দ্র বড়ুয়া, সতু সেন, দীনেশরঞ্জন দাস, অমর মল্লিক, নীতিন বসু, অজয় কর, পশুপতি চট্টোপাধ্যায়, নীরেন লাহিড়ী, চিত্ত বসু, হরিসাধন দাশগুপ্ত, শক্তি সামস্ত প্রভৃতি।

কানন দেবীর শ্রীমতী পিকচার্সের প্রযোজনায় নির্মিত এগারোটি কাহিনিচিত্রের মধ্যে আটটিই শরৎচন্দ্রের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত। একক কাহিনি হিসাবে তাঁর লেখা দেবদাস অবলম্বনে এখনও পর্যন্ত বাংলা ভাষায় পাঁচটি ছবি তৈরি হয়েছে। এই কাহিনি অবলম্বনে বাংলা ছাড়াও হিন্দী, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম ইত্যাদি ভাষায় ছবি নির্মিত হয়েছে। হিন্দীতে এই কাহিনি অবলম্বনে তিনটি ছবি নির্মিত হয়।

 

চলচ্চিত্রপঞ্জি —
  • ১৯২২ আধারে আলো,
  • ১৯২৪ চন্দ্রনাথ;
  • ১৯২৮ দেবদাস,
  • ১৯৩০ শ্রীকান্ত:
  • ১৯৩১ চরিত্রহীন, স্বামী, দেনাপাওনা,
  • ১৯৩২ পল্লী সমাজ:
  • ১৯৩৫ দেবদাস,
  • ১৯৩৬ গৃহদাহ, বিজয়া, পণ্ডিতমশাই,
  • ১৯৩৯ বড়দিদি:
  • ১৯৪২ পরিণীতা:
  • ১৯৪৩ কাশীনাথ,
  • ১৯৪৬ বিরাজ বৌ,
  • ১৯৪৭ পথের দাবী, রামের সুমতি।
  • ১৯৪৮ শেষ নিবেদন, অরক্ষণীয়া:
  • ১৯৪৯ অনুরাধা, স্বামী, বামুনের মেয়ে
  • ১৯৫০ বৈকুণ্ঠের উইল, মেজদিদি।
  • ১৯৫১ দত্তা, পণ্ডিতমশাই,
  • ১৯৫২ পল্লী সমাজ, বিন্দুর ছেলে, শুভদা, দর্পচূর্ণ,
  • ১৯৫৩ পথনির্দেশ, হরিলক্ষ্মী, নিষ্কৃতি,
  • ১৯৫৪ নববিধান, সতী, ষোড়শী,
  • ১৯৫৫ পরেশ ১৯৫৬ মামলার ফল;
  • ১৯৫৭ বড়দিদি, আঁধারে আলো, চন্দ্রনাথ,
  • ১৯৫৮ রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত,
  • ১৯৫৯ ছবি, ইন্দ্রনাথ শ্রীকান্ত ও অন্নদাদি।
  • ১৯৬৫ জয়া, অভয়া ও শ্রীকান্ত,
  • ১৯৬৭ গৃহদাহ,
  • ১৯৬৯ পরিণীতা, কমললতা, মা ও মেয়ে,
  • ১৯৭২ বিরাজ বৌ;
  • ১৯৭৩ বিন্দুর ছেলে,
  • ১৯৭৭ সব্যসাচী,
  • ২০০১ দেবদাস।

Leave a Comment