লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জন্ম পরগণা জেলার মুরাতিপুর গ্রামে। বাল্য ও কৈশোর দারিদ্র্যের মধ্যে কাটলেও প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক এবং আই.এ. পাস করেন। ১৯১৮ সালে ডিস্টিংশন সহ বি.এ. পাস করে এম.এ. এবং আইন পড়তে ভর্তি হলেও অর্থনৈতিক কারণে প্রথাগত শিক্ষা অসম্পূর্ণ রেখেই শিক্ষকতাকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন।

লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
কর্ম জীবনের প্রথম দিকে জঙ্গিপাড়া এবং হরিনাভি স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। মাঝখানে কিছুদিন ভাগলপুরে জমিদারি এস্টেটে কাজ (খেলাত ঘোষ এস্টেটের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার) করলেও আবার শিক্ষকতার জীবনে ফিরে আসেন।
তাঁর লেখা প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রবাসী পত্রিকায় ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। প্রথম উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’ ১৯২৮ সাল থেকে ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। মাত্র ২১ বছরের সাহিত্য জীবনে ছোটগল্প, উপন্যাস ছাড়াও ভ্রমণকাহিনি, প্রবন্ধ ইত্যাদি রচনা করেছেন।
নিজের ছোটবেলার গ্রাম, পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যজমানি ও কথকতার পেশা, দারিদ্র্য এবং ছাত্র জীবনের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে লক্ষ করা যায়। ভাগলপুর বাসের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ ‘আরণ্যক’ উপন্যাসে তাঁর প্রকৃতি প্রেমিক জীবনের প্রতিফলন মেলে।

সত্যজিৎ রায়ের প্রথম ছবি পথের পাঁচালী’ (১৯৫৫) সত্যজিৎকে একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত করে। পথের পাঁচালী ও অপরাজিত (১৯৫৬) ছবির কাহিনিকার বিভূতিভূষণের সাথেও আন্তর্জাতিক দর্শকের পরিচয় হয়। ইউনেস্কোর উদ্যোগে পথের পাঁচালী ইংরাজি এবং ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়।
তাঁর লেখা কাহিনি অবলম্বনে মোট ১৬টি কাহিনিচিত্র তৈরি হয়েছে। সত্যজিৎ অপুত্রয়ী ছাড়াও করেছেন অশনি সংকেত (১৯৭৩)। সত্যজিতের চিত্রনাট্য অবলম্বনে বাক্সবদল (১৯৬৫) ছবিটি তৈরি হয়েছে। সত্যজিৎ ছাড়াও অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়, তরুণ মজুমদার, অজিত লাহিড়ী, জ্যোতির্ময় রায় প্রভৃতি চলচ্চিত্রকারেরা তাঁর কাহিনি অবলম্বনে ছবি তৈরি করেছেন।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯৫৫ পথের পাঁচালী
- ১৯৫৬ অপরাজিত, কীর্তিগড়
- ১৯৫৭ আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- ১৯৫৯ অপুর সংসার
- ১৯৬১ আহ্বান
- ১৯৬৫ বাক্সবদল
- ১৯৬৭ কেদার রাজা
- ১৯৭০ নিশিপদ্ম
- ১৯৭২ নিমন্ত্রণ
- ১৯৭৩ নিশিকন্যা, আরণ্যক, অশনি সংকেত:
- ২০০৩ আলো;
- ২০০৬ ভালোবাসার অনেক নাম:
- ২০০৯ তালনবমী।
