লেখক নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ২৪ জেলার ফুটিগোদা অঞ্চলে। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় গ্রামের স্কুলে। পরবর্তীকালে বেলেঘাটায় চলে আসেন। বঙ্গবাসী স্কুল থেকে ১৯২২ সালে ম্যাট্রিক পাস করে সিটি কলেজে ভর্তি হন, কিন্তু শিক্ষা অসম্পূর্ণ রেখে কলেজ ছাড়তে বাধ্য হন।
গল্প, উপন্যাস ছাড়াও, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞান, ধর্ম, ইতিহাস ইত্যাদি বিষয়ে লেখালেখি করেছেন। গল্পভারতী মাসিক পত্রিকার তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৪৫-৫২)। বাংলা অনুবাদ সাহিত্যেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান আছে। ‘মা’, ‘কুলী’, ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ ইত্যাদি অনুবাদগুলি তাঁর অনুবাদ কর্মের অন্যতম দৃষ্টান্ত হিসাবে বিবেচিত হয়।

লেখক নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান
চলচ্চিত্রে অভিনয় ও সংলাপ, কাহিনি, চিত্রনাট্য রচনা, এমনকী গীতিকার হিসাবেও, বিভিন্ন ছবির সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৪২ সালে নীরেন লাহিড়ী পরিচালিত মহাকবি কালিদাস ছবিতে অভিনয় করেন। ৩৭টি ছবির চিত্রনাট্য রচনার পাশাপাশি, ১৬টি ছবির কাহিনি, ১৭টি ছবির ছবিগুলি হল নীরেন লাহিড়ী পরিচালিত (১৯৪২), জয়যাত্রা (১৯৪৮), অশ্বিনী মি সংলাপ এবং দুটি ছবির জন্য গান রচনাও করেছেন।
নৃপেন্দ্রকৃষ্ণের কাহিনি অবলম্বনে উল্লেখযোগ্য পরিচালিত নিশির ডাক (১৯৪৯), যাত্রিক পরিচালিত চাওয়া পাওয়া (১৯৫৯) ইত্যাদি। তাঁর লেখা চিত্রনাট্য অবলম্বনে বিভিন্ন পরিচালক যে সব চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মধু বসুর শেষের কবিতা (১৯৫৩), সুধীর মুখার্জীর শাপমোচন (১৯৫৫), শশীবাবুর সংসার (১৯৫৯), শেষ পর্যন্ত (১৯৬০), দাদাঠাকুর (১৯৬২) ইত্যাদি।

চি পরিচালিত কঙ্কাবতীর ঘাট (১৯৫৫), যাত্রিক পরিচালিত চাওয়া পাওয়া (১৯৫৯), নীরেন লাহিড়ী পরিচালিত ইন্দ্রাণী (১৯৫৮), বিজয় বসুর ভগিনী নিবেদিতা (১৯৬২) এবং অসিত সেনের উত্তর ফাল্গুনী (১৯৬৩) ছবির চিত্রনাট্যও নৃপেন্দ্রকৃষ্ণের রচনা।
এছাড়াও অজয় করের বড়দিদি (১৯৫৭), হারানো সুর (১৯৫৭), অতল জলের আহ্বান সাত পাকে বাঁধা ইত্যাদি ছবির জন্য তিনি চিত্রনাট্য রচনা করেছেন। ধীরেশ ঘোষ পরিচালিত মহাকাল (১৯৪৮) এবং অশ্বিনী মিত্র পরিচালিত নিশির ডাক ছবির জন্য তিনি গানও লিখেছেন।
সাহিত্য, চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণের সাথে সাথে কলকাতা বেতার কেন্দ্রের বিদ্যার্থী মণ্ডলী ও পল্লীমঙ্গল আসরের প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘদিন গল্পদাদুর আসর পরিচালনার কাজও করেছেন।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯৪২ মহাকবি কালিদাস, গরমিল;
- ১৯৪৩ কাশীনাথ, বিচার
- ১৯৪৬ নিবেদিতা, বিরাজ বৌ:
- ১৯৪৭ রামপ্রসাদ
- ১৯৪৮ জয়যাত্রা
- ১৯৪৯ নিশির ডাক, সিংহ- দ্বার, স্বামীজী;
- ১৯৫০ সুধার প্রেম,
- ১৯৫১ দত্তা
- ১৯৫৩ শেষের কবিতা
- ১৯৫৪ সতী, শিবশক্তি
- ১৯৫৫ রাণী রাসমণি, শাপমোচন, কঙ্কাবতীর ঘাট
- ১৯৫৬ একটি রাত:
- ১৯৫৭ বড়দিদি, বড়মা, সিঁদুর, নীলাচলে মহাপ্রভু, পরের ছেলে, বসন্ত বাহার, হারানো সুর, চন্দ্রনাথ:
- ১৯৫৮ ইন্দ্রাণী, শ্রীশ্রীতারকেশ্বর
- ১৯৫৯ নৌকাবিলাস, চাওয়া পাওয়া, শশীবাবুর সংসার
- ১৯৬০ – ইন্দ্ৰধনু, শেষ পর্যন্ত
- ১৯৬১ কাঞ্চনমূলা, দুই ভাই,
- ১৯৬২ ভগিনী নিবেদিতা, অতল জলের আহ্বান, দাদাঠাকুর;
- ১৯৬৩ এক টুকরো আগুন, সাত পাকে বাঁধা, ত্রিধারা, উত্তর ফাল্গুনী,
- ১৯৬৪ বিভাস,
- ১৯৭৩ বিজ্ঞান ও বিধাতা
- ১৯৯৩ শক্তি।
