লতা মঙ্গেশকর

লতা মঙ্গেশকর: জন্ম তৎকালীন সেন্ট্রাল প্রভিন্সের (বর্তমান মধ্যপ্রদেশ) অন্তর্গত ইন্দোর শহরে। বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন সংগীতজ্ঞ এবং অভিনেতা। লতার প্রাথমিক সংগীতশিক্ষা শুরু হয় বাবার কাছে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবার তৈরি গীতিনাট্যে মঞ্চাবতরণ। ১৯৪২ সাল থেকেই তিনি মারাঠী এবং হিন্দী ছবিতে নেপথ্য সংগীত শিল্পী হিসাবে কাজ শুরু করেন। বাবার কাছে ছাড়াও লতা বিভিন্ন সময়ে আমানত আলী খান এবং পণ্ডিত তুলসীদাস শর্মার কাছেও সংগীতে তালিম নিয়েছিলেন।

 

লতা মঙ্গেশকর । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

লতা মঙ্গেশকর

 

বাংলা ছবিতে নেপথ্য সংগীত শিল্পী হিসাবে প্রথম কাজ নরেশ মিত্র পরিচালিত বউ- ঠাকুরাণীর হাট (১৯৫৩) ছবিতে। এই ছবিতে তিনি রবীন্দ্রনাথের লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন এবং ছবিটির সংগীত পরিচালক ছিলেন বিজেন চৌধুরী। এই ছবিতে লতার সহশিল্পী হিসাবে কাজ করেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, উৎপলা সেন এবং প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

লতা মঙ্গেশকর । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

৮০টিরও বেশি বাংলা ছবিতে নেপথ্য শিল্পী হিসাবে কাজ করেছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সলিল চৌধুরী, পবিত্র চট্টোপাধ্যায়, ভূপেন হাজারিকা, অপরেশ লাহিড়ী, নচিকেতা ঘোষ, শচীন দেববর্মণ, রাহুল দেববর্মণ, বাপী লাহিড়ী, সুধীন দাশগুপ্ত প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য সংগীত পরিচালকের সাথে। শুধু হেমস্ত মুখোপাধ্যায়ের সংগীত পরিচালনায় কাজ করেছেন কুড়িটিরও বেশি ছবিতে।

রবীন্দ্রসংগীত ছাড়াও বিমল চন্দ্র ঘোষ, প্রণব রায়, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, মুকুল দত্ত, মিন্টু ঘোষ, স্বপন চক্রবর্তী প্রভৃতি গীতিকারের লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।

 

লতা মঙ্গেশকর । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

সমগ্র জীবনে লতা কুড়িটির বেশি দেশি এবং বিদেশি ভাষায় গান করেছেন। তাঁর গাওয়া বহু গান জনপ্রিয়তার শীর্ষ ছুঁয়েছে। অন্যান্য বহু পুরস্কারের সাথে ১৯৬৯ সালে পদ্মভূষণ, ১৯৮৯ সালে দাদাসাহেব ফালকে, ১৯৯৯ সালে পদ্মবিভূষণ এবং ২০০১ সালে ভারতরত্ন লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে পরিচয় (হিন্দী), ১৯৭৫ সালে কোরা কাগজ (হিন্দী) এবং ১৯৯১ সালে লেকিন (হিন্দী) ছবিতে গান করার সুবাদে তিনবার শ্রেষ্ঠ নেপথ্য সংগীত শিল্পীর (মহিলা) জাতীয় সম্মান লাভ করেন।

 

চলচ্চিত্রপঞ্জি —

  • ১৯৫৩ বউঠাকুরাণীর হাট
  • ১৯৫৬ অসমাপ্ত, একদিন রাত্রে:
  • ১৯৫৭ শেষ পরিচয়, বড়ো মা, কড়ি ও কোমল, জীবনতৃষ্ণা,
  • ১৯৫৮ ও আমার দেশের মাটি, জোনাকির আলো, যৌতুক,
  • ১৯৫৯ মরুতীর্থ হিংলাজ, দীপ জ্বেলে যাই,
  • ১৯৬১ পঙ্কতিলক,
  • ১৯৬৫ আলোর পিপাসা, দোলনা,
  • ১৯৬৬ মণিহার, রামধাক্কা, সুভাষচন্দ্র, শঙ্খবেলা, বাঘিনী,
  • ১৯৬৮ অদ্বিতীয়া;
  • ১৯৬৯ মন নিয়ে,
  • ১৯৭০ স্বর্ণশিখর প্রাঙ্গণে
  • ১৯৭১ চৈতালী, কুহেলি,
  • ১৯৭২ অনিন্দিতা,
  • ১৯৭৩ মর্জিনা আবদাল্লা, সোনার খাঁচা, শ্রীমান পৃথ্বীরাজ,
  • ১৯৭৫ রাগ অনুরাগ;
  • ১৯৭৭ প্রক্সি, সানাই, কবিতা,
  • ১৯৭৮ আরাধনা:
  • ১৯৭৯ মাদার;
  • ১৯৮১ অনুসন্ধান, কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী,
  • ১৯৮৩ প্রতিদান
  • ১৯৮৪ তিন মূর্তি;
  • ১৯৮৬ অনুরাগের ছোঁয়া,
  • ১৯৮৭ অমরসঙ্গী, দোলনচাপা,
  • ১৯৮৮ পরশমণি, প্রতীক, তুমি কত সুন্দর,
  • ১৯৮৯ আমার শপথ, আমার তুমি, আক্রোশ, আমানত, বন্দিনী, প্রণমি তোমায়, সংসার, শতরূপা, তুফান,
  • ১৯৯০ অঙ্গীকার, আশ্রিতা, ভাঙাগড়া, লড়াই, মানসী, মানদণ্ড, মন্দিরা, রক্তঋণ, স্বর্ণতৃষ্ণা, আমার সাথী, অহংকার, অন্তরের ভালবাসা, বৌরাণী, এক পশলা বৃষ্টি, নবাব, রাজনর্তকী,
  • ১৯৯২ অনন্যা, মা, মণিকাঞ্চন, শ্বেত পাথরের থালা:
  • ১৯৯৩ শ্রদ্ধাঞ্জলি,
  • ১৯৯৫ দৃষ্টি,
  • ১৯৯৭ মান অপমান;
  • ২০০৩ বিশ্বাসঘাতক:
  • ২০০৯ আমার ভাললাগা আমার ভালবাসা।

Leave a Comment