রাস্তার ছেলে চলচ্চিত্রটি রঞ্জন পিকচার্স প্রাঃ লিঃ এর প্রযোজনায়, বিজন ভট্টাচার্যর কাহিনি, চিত্রনাট্য ও গীত রচনায়, চিত্ত বসু পরিচালিত একটি ছায়াছবি।

রাস্তার ছেলে চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা — রঞ্জন পিকচার্স প্রাঃ লিঃ ।
- কাহিনি, চিত্রনাট্য ও গীত রচনা —বিজন ভট্টাচার্য।
- পরিচালনা — চিত্ত বসু।
- সংগীত পরিচালনা — নচিকেতা ঘোষ।
- চিত্রগ্রহণ – রামানন্দ সেনগুপ্ত।
- শব্দগ্রহণ—শ্যামসুন্দর ঘোষ, সত্যেন চট্টোপাধ্যায়।
- শিল্প নির্দেশনা – কার্তিক বসু।
- সম্পাদনা— বৈদ্যনাথ চট্টোপাধ্যায়।
অভিনয় –
বাবুয়া, অনুপকুমার, ছবি বিশ্বাস, গৌর শী, আশীষ মুখোপাধ্যায়, তরুণকুমার, তুলসী চক্রবর্তী, পঞ্চানন ভট্টাচার্য, শোভা সেন, সাথী দত্ত, ছবি রায়, ঊষা দেবী, শান্তি ভট্টাচার্য, প্রীতি মজুমদার, সুখেন, শম্ভু, সতু, সুভাষ।

নেপথ্য সংগীত-
আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়, আরতি মিত্র, বাণী ঘোষাল, ইলা চক্রবর্তী, মিন্টু দাশগুপ্ত, জানকী দত্ত, মৃণাল চক্রবর্তী, রবীনচাদ বড়াল।
কাহিনি—
সমাজের অবহেলিত রাস্তার ছেলের দল বাপ-মায়ের স্নেহ পায় নি কখনও। সমাজের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই কারণ সমাজও কোনো সময় তাদের প্রতি কোনো দাক্ষিণ্য, সহানুভূতি দেখায় নি। এই রাস্তার ছেলের দল রাজার (সুখেন) নেতৃত্ব মেনে নেয়। কোনো রকম খারাপ কাজকেই এরা খারাপ বলে মনে করে না।
অন্যদিকে মান্না (বাবুয়া) তার মার (শোভা) সাথে বস্তিতে বাস করে। মার স্নেহ উপেক্ষা করেই সে রাজা ও তার দলবলের সাথে ভিড়ে যায় এবং নানারকম দুষ্কর্মে জড়িয়ে পড়ে। মান্নার মা ছেলের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। একটি খুনের ঘটনায় অংশ না নিয়েও রাজার চক্রান্তে মান্না অভিযুক্ত হয়, মান্নার মা ছেলেকে আশ্রয় দিতে অস্বীকার করেন। পুলিস মান্নাকে ধরে নিয়ে যায়।
মান্নার মায়ের স্নেহশীল ব্যবহারে রাজা অনুতপ্ত হয়ে পুলিসের কাছে আত্মসমর্পণ করে। কোর্টে রাজার জবানবন্দি শুনে সমাজের সচেতন মানুষ শিউরে ওঠে। সমাজের অবহেলা এবং সহানুভূতির অভাবেই রাজার মতো রাস্তার ছেলেরা গুণ্ডা তৈরি হয়, একটু ভালোবাসা এবং স্নেহ পেলেই তারা সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসতে পারত।
শ্রেণিবিভক্ত সমাজে সামাজিক অবহেলায় কত শিশু শিক্ষার অভাবে ক্রমশ সমাজবিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়ে তার নিদর্শন এই ছবি তৎকালীন সময়ে চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছিল।
