রাধামোহন ভট্টাচার্য । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা

রাধামোহন ভট্টাচার্য: জন্ম বিষ্ণুপুরে, আসল নাম শংকর ভট্টাচার্য। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন । বিষ্ণুপুর বয়েজ স্কুল। থেকে ম্যাট্রিক পাস করে বাঁকুড়া ক্রিশ্চান কলেজে ভর্তি হন। আই.এ. পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে সাম্মানিক সহ বি.এ. পাস করে এম.এ.তে ভর্তি হলেও পিতার মৃত্যুর কারণে পরীক্ষা দিতে পারেন নি। পরে পাটনায় আইন পড়তে ভর্তি হন এবং পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। কিছুদিন ওকালতি করেছেন। একাধিক ভাষা জানতেন। ইংরাজি ছাড়াও ফরাসী, জার্মান, রাশিয়ান এবং সংস্কৃত ভাষায় তাঁর দখল ছিল।

 

রাধামোহন ভট্টাচার্য । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

রাধামোহন ভট্টাচার্য । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা

 

প্রথম চলচ্চিত্রাভিনয় নিউ থিয়েটার্স প্রযোজিত এবং বিমল রায় পরিচালিত উদয়ের পথে (১৯৪৪) ছবিতে নায়ক অনুপের ভূমিকায়। চলচ্চিত্র জীবনে প্রায় ২৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

বিমল রায় ছাড়াও কাজ করেছেন হেমেন গুপ্ত, জ্যোতির্ময় রায়, অগ্রদূত, তপন সিংহ, অগ্রগামী, মঙ্গল চক্রবর্তী, পার্থপ্রতিম চৌধুরী, মৃণাল সেন প্রভৃতি পরিচালকের সাথে। অভিনীত কয়েকটি চরিত্র মাষ্টারদা (ভুলি নাই, ১৯৪৮); হিরণ্য (মানদণ্ড, ১৯৫০); ভবানীচরণ (শঙ্খবাণী, ১৯৫১); নরেন (দর্পচূর্ণ, ১৯৫২)।

 

রাধামোহন ভট্টাচার্য । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

অভয়শঙ্কর (আঁধি, ১৯৫২) মিনির বাবা (কাবুলিওয়ালা, ১৯৫৭); করিম খান (ক্ষুধিত পাষাণ, ১৯৬০), ধনঞ্জয় (ঝিন্দের বন্দী, ১৯৬১) ইত্যাদি।

স্টেটসম্যান পত্রিকায় চলচ্চিত্র এবং সংগীত সমালোচক হিসাবে সুনাম ও সম্মানের সাথে কাজ করেছেন। পেশাদার মঞ্চে অভিনয়ের সাথে সাথে হিন্দী ছবিতেও অভিনয় করেছেন। তাঁর লেখা প্রবন্ধের নির্বাচিত সংকলন গ্রন্থ ‘নাট্য, চলচ্চিত্র ও অন্যান্য প্রসঙ্গ ২০০৪ সালে ধীমা থেকে প্রকাশিত হয়।

 

চলচ্চিত্রপঞ্জি—
  • ১৯৪৪ উদয়ের পথে:
  • ১৯৪৭ অভিযাত্রী:
  • ১৯৪৮ স্বর্ণসীতা, ভুলি নাই,
  • ১৯৫০ মানদণ্ড, জীবন সৈকতে, এই তো সংসার
  • ১৯৫১ শঙ্খবাণী:
  • ১৯৫২ রাণী ভবানী, আঁধি, দর্পচূর্ণ,
  • ১৯৫৭ কাবুলিওয়ালা
  • ১৯৫১ ক্ষণিকের অতিথি,
  • ১৯৬০ ক্ষুধিত পাষাণ,
  • ১৯৬১ ঝিন্দের বন্দী
  • ১৯৬২ কান্না, আমার দেশ।
  • ১৯৬৩ নিশীথে, ন্যায়দণ্ড;
  • ১৯৬৫ সুরের আগুন, দোলনা,
  • ১৯৭০ আলেয়ার আলো
  • ১৯৮২ আকালের সন্ধানে।

Leave a Comment