রাণী রাসমণি চলচ্চিত্র

রাণী রাসমণি চলচ্চিত্র: রানী রাসমণির আবির্ভাব কাল ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের ২৮ সেপ্টেম্বর। তবে অনেকে রানীমার জন্মদিবস হিসেবে ২৮ শে সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ২৬ শে সেপ্টেম্বরের কথা বলে থাকেন ছিলেন কলকাতার জানবাজারের বাসিন্দা প্রসিদ্ধ মানবদরদি জমিদার। তিনি দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ির প্রতিষ্ঠাত্রী এবং রামকৃষ্ণ পরমহংসের অন্যতমা পৃষ্ঠপোষক। তাকে নিয়েই নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি।

 

রাণী রাসমণি চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

রাণী রাসমণি চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা — চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান।
  • কাহিনি — গোপালচন্দ্র রায়।
  • চিত্রনাট্য ও সংলাপ- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় ও কালীপ্রসাদ ঘোষ।
  • পরিচালনা — কালীপ্রসাদ ঘোষ।
  • সংগীত পরিচালনা — অনিল বাগচী।
  • চিত্রগ্রহণ — বিদ্যাপতি ঘোষ।
  • শব্দগ্রহণ — নৃপেন পাল।
  • শিল্প নির্দেশনা – কার্তিক বসু।
  • সম্পাদনা—রবীন দাস।
অভিনয় –

মলিনা দেবী, গুরুদাস – বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিতবরণ, ছবি বিশ্বাস, পাহাড়ী সান্যাল, নীতীশ মুখোপাধ্যায়, জীবেন বসু, অনুপকুমার, শিখারাণী বাগ, হরিধন মুখোপাধ্যায়, মিহির ভট্টাচার্য, নিভাননী দেবী, মণি শ্রীমানী, বেচু সিংহ, অজিতপ্রকাশ, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীমান বিভু।

নেপথ্য কণ্ঠ —

ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়।

 

রাণী রাসমণি চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

কাহিনি—

কোনা গ্রামের গরিব চাষি হরেকৃষ্ণ দাসের মেয়ে রাসমণির (মলিনা) সাথে জানবাজারের জমিদার রাজচন্দ্র দাসের (ছবি) বিয়ে হয়। বিবাহিত জীবনে রাসমণি এবং রাজচন্দ্রের চারটি কন্যা হয় এবং রাজচন্দ্র উত্তরোত্তর সম্পদশালী হন। পরবর্তী কালে কন্যাদের বিয়ে হয়। সেজ মেয়ে করুণার স্বামী মথুরামোহন (অসিতবরণ) আপন বুদ্ধি বলে রাসমণির আস্থা অর্জন করেন।

হঠাৎ করুণার মৃত্যু হওয়ার পর রাসমণি ছোট মেয়ে জগদম্বার সাথে মথুরার বিয়ে দেন। স্বামীর মৃত্যুর পর রাসমণি মথুরার সাহায্যে দক্ষতার সাথে জমিদারি পরিচালনা করতেন এবং প্রজাদের প্রয়োজনে শাসক ইংরাজদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়তেন। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রজারা বিভিন্ন সময়ে উপকৃত হয়েছিল।

ধর্মপ্রাণ রাসমণি বিয়ের পরেই বাড়িতে রঘুনাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন এবং গৃহদেবতা হিসাবে রঘুনাথ জমিদার বাড়িতে পুজিত হতেন। স্বপ্নাদেশ পেয়ে রাসমণি দক্ষিণেশ্বরে ভুবনেশ্বরী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের পুজারী রামকুমারের ছোট ভাই গদাধর দেবীর পূজায় দাদাকে সাহায্য করতেন।

 

গদাধর পরবর্তীকালে রামকৃষ্ণদেব (গুরুদাস) হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। রাণী রাসমণির জীবনী অবলম্বনে নির্মিত এই ছবি বাংলা ভাষায় নির্মিত বছরের সেরা ছবি হিসাবে ভারতের রাষ্ট্রপতির সার্টিফিকেট অফ মেরিট’ লাভ করে।

Leave a Comment