রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জন্ম কলকাতায় জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের সন্তান ভারত তথা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কবি ও মনীষী। অল্প বয়সে প্রথাগত শিক্ষার জন্য কয়েকটি স্কুলে ভর্তি হলেও শিক্ষা অসম্পূর্ণ রেখেই স্কুল পরিত্যাগ করেন। বাড়িতে গৃহশিক্ষকদের কাছে বিদ্যা এবং সংগীত শিক্ষা নিয়েছিলেন। ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য লন্ডনে গেলেও শিক্ষা অসম্পূর্ণ রেখে ফিরে আসেন।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অল্প বয়সে সাহিত্য সাধনায় হাতেখড়ি হয়েছিল। ঠাকুর বাড়ি থেকে প্রকাশিত ভারতী এবং বালক পত্রিকায় নিয়মিত তার লেখা প্রকাশিত হত। দাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ রচিত মানময়ী এবং স্বরচিত বাল্মীকি প্রতিভা নাটকে অভিনয় করে প্রশংসা অর্জন করেন। মাত্র তেইশ বছর বয়সে পিতার আদেশে পারিবারিক বিষয় কর্মের এবং জমিদারি দেখার দায়িত্বও গ্রহণ করেন। সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তাঁর অনায়াস বিচরণ বাংলা সাহিত্যকে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যের মর্যাদা এনে দিয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলির জন্য ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। বিভিন্ন সময়ে বিদেশে ভ্রমণ করার সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মনীষীদের সঙ্গে পরিচিত হন।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

পারিবারিক কাজ এবং সাহিত্য সাধনার পাশাপাশি সামাজিক কাজ কর্মেও অংশ নিয়েছেন। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে পথে নেমে রাখীবন্ধন উৎসব শুরু করেন। ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ এই সময় কালের রচনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাখীবন্ধন উৎসব এবং সমাজে এর প্রতিক্রিয়া লক্ষ করে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হয়।

১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে নিরীহ মানুষের উপর পুলিসের গুলি চালনার এবং হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সরকার প্রদত্ত নাইট উপাধি পরিত্যাগ করেন। ১৯০১ সালে কবি বোলপুরে ব্রহ্মচর্য আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী কালে ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

রবীন্দ্র রচনার প্রথম চলচ্চিত্রায়ণ হয় নির্বাক যুগে। তাজমহল ফিল্ম কোম্পানি প্রযোজিত এবং নরেশ মিত্র পরিচালিত মানভঞ্জন (১৯২৩) রবীন্দ্র কাহিনি অবলম্বনে প্রথম চলচ্চিত্র। নির্বাক যুগে তাঁর কাহিনি অবলম্বনে মোট ৬টি ছবি নির্মিত হয় মধু বসু, শিশির ভাদুড়ী এবং নরেশ মিত্রর পরিচালনায়।

সবাক যুগে প্রথম ছবি কবির নিজের পরিচালনায় নির্মিত নটীর পূজা (১৯৩২)। গীতিনাট্যের ধাঁচে তৈরি এই ছবিতে কবি নিজে অভিনয়েও অংশ নিয়েছিলেন। ছবিটি আশানুরূপ জনপ্রিয়তা না পেলেও শুধু কবির অংশগ্রহণের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন চলচ্চিত্র সংগ্রহশালায় এই ছবির খণ্ডিত অংশ সংগ্রহযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। যদিও তৎকালীন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছবিটির কিছুটা বিরূপ সমালোচনাই প্রকাশিত হয়েছিল।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কাহিনি অবলম্বনে সবাক যুগে তৈরি হয়েছে ৪৩টি চলচ্চিত্র। উল্লেখযোগ্য যে সব পরিচালক কবির কাহিনি অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তাঁরা হলেন সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, দেবকী বসু, মধু বসু, নীতিন বসু, তপন সিংহ, পূর্ণেন্দু পত্রী, অজয় কর, অগ্রদূত, অগ্রগামী, পার্থপ্রতিম চৌধুরী, নীতীশ মুখোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণ ঘোষ, অরুন্ধতী দেবী, সুমন মুখোপাধ্যায় প্রভৃতি।

১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকীতে সত্যজিৎ রায় তাঁর তিনটি ছোটগল্প অবলম্বনে তিন কন্যা (১৯৬১)র পাশাপাশি ভারত সরকারের জন্য তাকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও নির্মাণ করেন। দেবকী বসু কবির চারটি কবিতা (পূজারিণী, দুই বিঘা জমি, অভিসার এবং পুরাতন ভৃত্য) অবলম্বনে নির্মাণ করেন অর্থ (১৯৬১)। কবির লেখা গান ব্যবহাত হয়েছে ২০০টিরও বেশি ছবিতে।

বাংলা ছবিতে রবীন্দ্র সংগীতের ব্যবহার শুরু হয় মুক্তি (১৯৩৫) ছবির মধ্য দিয়ে। প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত এবং পঙ্কজ মল্লিক সুরারোপিত এই ছবিতে রবীন্দ্র সংগীতের সফল প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ, মৃণাল সেন, প্রমথেশ বড়ুয়া, ঋত্বিক ঘটক, দেবকী বসু, তরুণ মজুমদার, পার্থপ্রতিম চৌধুরী পূর্ণেন্দু পত্রী, অজয় কর সহ বহু পরিচালকই তাঁদের ছবিতে কবির গান ব্যবহার করেছেন।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

কবির কাহিনি অবলম্বনে বাংলা ছাড়াও হিন্দী সহ অন্যান্য ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। কবির গান কখনও সরাসরি আবার কখনও অনুবাদ করে ভারতীয় ছবির পাশাপাশি বিদেশি ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯২৯ সালে জার্মানীর উফা কোম্পানির অনুরোধে কবি ‘দি চাইল্ড’ নামে একটি মৌলিক চিত্রনাট্য রচনা করেছিলেন। ওই চিত্রনাট্য অবলম্বনে কোনো ছবি তৈরি না হলেও পরে তার বাংলা অনুবাদ শিশুতীর্থ নামে প্রকাশিত হয়েছিল। ঐ সময় কালেই শিশির ভাদুড়ীর ছোট ভাই মুরারী ভাদুড়ীকে লেখা কবির চিঠির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র সম্বন্ধে তাঁর চিন্তা ভাবনার কিছুটা পরিচয় পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় রবীন্দ্রনাথ ও চলচ্চিত্র বিষয়ে প্রথম গ্রন্থ রচনা করেন অরুণকুমার রায়। গ্রন্থটি ১৯৮৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল এবং ঐ সালে চলচ্চিত্র বিষয়ক শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসাবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। পরে ঐ বিষয় নিয়ে কমল সাহা এবং ইংরাজি ভাষায় নিরুপমা শেঠ এবং অজিত শেঠ টেগোর ইন্ডিয়ান ফিল্ম এন্ড ফিল্ম মিউজিক’ নামে আরও একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এই গ্রন্থটি প্রথমে ফোল্ডার হিসাবে ১৯৮৬ সালে এবং গ্রন্থ রূপে ১৯৯৬ সালে সংগীত ভবন ট্রাস্ট, বোম্বে থেকে প্রকাশিত হয়। এছাড়াও রবীন্দ্রনাথ ও চলচ্চিত্র বিষয়ে বহু প্রবন্ধও প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্র প্রতিভার বিভিন্ন দিক নিয়ে অনেকগুলি তথ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছে।

 

চলচ্চিত্রপঞ্জি —
  • ১৯২৩ মানভঞ্জন।
  • ১৯২৮ বিসর্জন’
  • ১৯২৯ বিচারক
  • ১৯৩০ গিরিবালা, দালিয়া
  • ১৯৩২ নৌকাডুবি, নটীর পূজা চিরকুমার সভা’
  • ১৯৩৭ মুক্তি;
  • ১৯৩৮ হাল বাংলা, শখের শ্রমিক. চোখের বালি, গোরা
  • ১৯৩৯ অধিকার, পথিক, জীবন মরণ:
  • ১৯৪০ পরাজয়, আলোছায়া, ডাক্তার
  • ১৯৪১ রাসপূর্ণিমা, পরিচয়, আহুতি, উত্তরায়ণ:
  • ১৯৪২ অপরাধ, গরমিল, পরিণীতা, শোধবোধ”:
  • ১৯৪৩ প্রিয় বান্ধবী, সহধর্মিণী, দম্পতি:
  • ১৯৪৪ গোঁজামিল, উদয়ের পথে, প্রতিকার, শেষ রক্ষা*
  • ১৯৪৫ পথ বেঁধে দিল।
  • ১৯৪৬ শান্তি, নিবেদিতা, দুঃখে যাদের জীবন গড়া, পরিণীতা,
  • ১৯৪৭ অভিযাত্রী, নৌকাডুবি * অলকানন্দা, ঘরোয়া
  • ১৯৪৮ প্ৰতিবাদ, দৃষ্টিদান’, ভুলি নাই, অনির্বাণ, অঞ্জনগড়, ধাত্রী দেবতা, শ্যামলের স্বপ্ন:
  • ১৯৪৯ মন্ত্রমুগ্ধ, রাঙামাটি, কামনা, অনন্যা, বিষের ধোঁয়া, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার পৃষ্ঠন:
  • ১৯৫০ তথাপি, পিভ্রোন্ত,
  • ১৯৫১ অপরাজিতা, দর্পচূর্ণ, দত্তা
  • ১৯৫২ সহস্রা
  • ১৯৫৩ মালঞ্চ, বউঠাকুরাণীর হাট শেষের কবিতা
  • ১৯৫৪ অসুখ, সতী, যদুভট্ট, ভাঙাগড়া,
  • ১৯৫৫ সাজঘর, চিত্রাঙ্গদা’, ভালোবাসা:
  • ১৯৫৬ শুভযাত্রী, চিরকুমার সভা* পানের মর্যাদা
  • ১৯৫৭ কাবুলিওয়ালা,
  • ১৯৫৮ যোগাযোগ কালামাটি, লুকোচুরি।
  • ১৯৫৯ বিচারক, পুষ্পধনু, নৃত্যেরই তালে তালে:
  • ১৯৬০ মেঘে ঢাকা তারা, ক্ষুধিত পাষাণ খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন শুন বরনারী
  • ১৯৬১ কোমল গান্ধার, তিনকন্যা (মণিহারা, সমাপ্তি, পোষ্টমাষ্টার)”, নেকলেস, আহ্বান, সন্ধ্যার, অর্থ (পুরাতন ভৃত্য, পূজারিণী, দুই বিঘা জমি, অভিসার),
  • ১৯৬২ কাচের স্বর্গ, সূর্যস্নান, সাথী, কান্না, কাঞ্চনজঙ্ঘা, কুমারী মন,
  • ১৯৬৩ নিশীথে, নির্জন সৈকতে, ছায়াসুর্য, বর্ণালী:
  • ১৯৬৪ কালস্রোত, প্রতিনিধি, বিভাস, জতুগৃহ, চারুলতা, সিঁদুরে মেঘ, আয়নাও, নতুন তীর্থ, মোমের আলো, সন্ধ্যা দীপের শিখা, অনুষ্টুপ ছন্দ, সুভা ও দেবতার গ্রাস *
  • ১৯৬৫ আলোর পিপাসা, বাক্সবদল, অতিথি, প্রথম প্রেম, সুবর্ণরেখা, একটুকু ছোঁয়া লাগে, একই অঙ্গে এত রূপ,
  • ১৯৬৬ সুভাষচন্দ্র, স্বপ্ন নিয়ে
  • ১৯৬৭ ছুটি, গৃহদাহ, বালিকা বসু, আকাশ ছোঁয়া, মহাশ্বেতা, হাটে বাজারে,
  • ১৯৬৮ পঞ্চশর, চারণকবি মুকুন্দদাস, চৌরঙ্গী, আপনজন,
  • ১৯৬৯ দুরন্ত চড়াই, তিন ভুবনের পারে, অগ্নিযুগের কাহিনী, আরোগ্য নিকেতন:
  • ১৯৭০ দিবারাত্রির কাব্য, শান্তি, মেঘ ও রৌদ্র, ইচ্ছাপূরণ, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন,
  • ১৯৭১ নবরাগ, মাল্যদান নিমন্ত্রণ, কুহেলি, জয় বাংলা, খুঁজে বেড়াই, মহাবিপ্লবী অরবিন্দ;
  • ১৯৭২ আলো আমার আলো, অনিন্দিতা, শপথ নিলাম, বিগলিত করুণা জাহ্নবী যমুনা, মেম সাহেব:
  • ১৯৭৩ বনপলাশির পদাবলী, শ্রীমান পৃথ্বীরাজ, স্ত্রীর পত্র,
  • ১৯৭৪ বিকেলে ভোরের ফুল, বিসর্জন’ ছন্দপতন, ছেঁড়া তমসুক, একদিন সূর্য, যদি জানতেম, যদুবংশ, যে যেখানে দাঁড়িয়ে, সুজাতা, ঠগিনী:
  • ১৯৭৫ অগ্নীশ্বর, নতুন সূর্য, কাজললতা,
  • ১৯৭৬ জন- অরণ্য, দত্তা, অসময়, অর্জুন,
  • ১৯৭৭ স্বাতী এই পৃথিবীর পান্থনিবাস, যুক্তি তক্কো আর গপ্পো, প্রতিশ্রুতি, শেষ রক্ষা,
  • ১৯৭৮ সৃষ্টিছাড়া, অবতার;
  • ১৯৭৯ দৌড়, পরিচয়, নৌকাডুবি,
  • ১৯৮০ দাদার কীর্তি;
  • ১৯৮১ সাহেব
  • ১৯৮২ বিজয়িনী, মেঘমুক্তি, মালঞ্চ,
  • ১৯৮৪ দীপার প্রেম, পারাবত প্রিয়া,
  • ১৯৮৫ দিদি, অন্বেষণ, ভালবাসা ভালবাসা, ঘরে বাইরে হুলুস্থুল,
  • ১৯৮৬ জীবন, কোনি, পরিণতি, পথভোলা, ছেলেটা, রবিবার
  • ১৯৮৭ অর্পণ, চপার, মহামিলন, রুদ্রবীণা:
  • ১৯৯০ একটি জীবন,
  • ১৯৯২ আগন্তুক, অনন্যা, অন্তর্ধান, শাখা- প্রশাখা, শ্বেত পাথরের থালা,
  • ১৯৯৩ পাষণ্ড পণ্ডিত, পৃথিবীর শেষ স্টেশন:
  • ১৯৯৪ লাঠি, রবিবার, সন্ধ্যাতারা, হুইল চেয়ার
  • ১৯৯৭ কালরাত্রি, নয়নতারা, নির্জন দ্বীপ:
  • ১৯৯৮ অরণ্যের অধিকার, মিশ্ররাগ, শেষের কবিতা,
  • ১৯৯৯ অনু,
  • ২০০০ পারমিতার একদিন, চল লেটস গো,
  • ২০০১ তিতলি
  • ২০০৩ আলো, চোখের বালি,
  • ২০০৬ পিতা- চিরসখা হে,
  • ২০০৮ ছুটি, চতুরঙ্গ রঙীন গোধুলি,
  • ২০০৯ স্মৃতিমেদুর, জীনা, হাসি খুশি ক্লাব।
হিন্দী —
  • ১৯৪৭ মিলন,
  • ১৯৫১ জ্বলজ্বলা, ফুলওয়ারী,
  • ১৯৬২ কাবুলিওয়ালা,
  • ১৯৭১ উপহার
  • ১৯৯১ লেকিন।

Leave a Comment