রত্নদীপ চলচ্চিত্র

রত্নদীপ চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা — চিত্রমায়া
- কাহিনি—প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়।
- প্রযোজনা, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা – দেবকীকুমার বসু,
- সংগীত পরিচালনা — রবীন চট্টোপাধ্যায়।
- চিত্রগ্রহণ – দেওজীভাই পাধিয়ার।
- শিল্প নির্দেশনা – সত্যেন রায়চৌধুরী।
- শব্দগ্রহণ নৃপেন পাল, শচীন চক্রবর্তী।
- গীতিকার গোবিন্দ চক্রবর্তী।
- সম্পাদনা – রবীন দাস।
অভিনয়—
অনুভা গুপ্তা, বিকাশ রায়, মঞ্জু দে, ছায়া দেবী, সুপ্রভা মুখোপাধ্যায়, হরিমোহন বসু, কৃষ্ণধন মুখোপাধ্যায়, মায়া বসু, রবি রায়, নীতীশ মুখোপাধ্যায়।

কাহিনি—
রাখাল (বিকাশ) বাংলাদেশের কোনো এক অখ্যাত স্টেশনের স্টেশন মাস্টার। মিথ্যা কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়ে সে তার স্ত্রী লীলাবতীকে কর্মস্থলে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে গ্রামে যায়। গ্রামে গিয়ে জানতে পারে যে তার স্ত্রী নিরুদ্দিষ্টা। সে কর্মস্থলে ফিরে এসে জানতে পারে। মিথ্যা কারণ দেখিয়ে ছুটি নেওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে।
ভাগ্য বিপর্যস্ত রাখাল হঠাৎ পশ্চিমফেরত একটি ট্রেনের কামরায় এক যুবক সন্ন্যাসীর মৃতদেহ দেখতে পায় এবং সেই সন্ন্যাসীর সাথে তার আশ্চর্য সাদৃশ্য। মৃতদেহের সাথে অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল সন্ন্যাসীর আত্মজীবনী, সেটি পড়ে রাখাল জানতে পারে সন্ন্যাসীর আসল নাম ভবেন্দ্র, বাড়ি বাসুলীপাড়া সে অগাধ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী।
রাখাল বাসুলীপাড়ায় গিয়ে নিজেকে ভবেন্দ্র বলে পরিচয় দেয়। অন্যদিকে খগেন (নীতীশ) ভবেন্দ্রর অগাধ ঐশ্বর্য এবং তার পত্নী (অনুভার) অতুলনীয় রূপে মুগ্ধ হয়ে এসব হস্তগত করার জন্য (মঞ্জু) নামে এক অভিনেত্রীর সাহায্য নিয়ে চক্রান্ত শুরু করে। কনকলতা বাসুলীপাড়ার বৌরানীর সহচরী রূপে কাজে যোগ দেয়। রাখালের অকস্মাৎ আগমনে খগেনের উদ্দেশ্যে ব্যাঘাত ঘটে এবং সে রাখালের পূর্ব পরিচয় জানতে পারে। আবার লীলাবতীও বহু ঘাটের জল খেয়ে বৌরানীর কাছে আশ্রয় পায়।
রাখাল প্রথম থেকেই নিজের প্রতারণা সম্বন্ধে একটা দোটানার মধ্যে ছিল, সে একটি ব্রত পালনের নাম করে ৬ মাস বৌরানীর সাথে কোনো শারীরিক সম্পর্ক না রাখার কথা ঘোষণা করে। বৌরানীর তার প্রতি অগাধ আস্থা এবং ভবেন্দ্রর মায়ের ভালোবাসায় রাখালের নিজের প্রতি ধিক্কার জন্মায়। সে সকলের কাছে নিজের আত্মপরিচয় দেয় এবং ভবেন্দ্রর মৃত্যু সংবাদ ভবেন্দ্রর মা তার ১৪ বছর ধরে নিরুদ্দিষ্ট সন্তানের মৃত্যুতে শোকাহত হলেও রাখালকে নিজের সন্তান বলেই গ্রহণ করেন এবং বিধবা পুত্রবধূর সাথে তার বিয়ে দিয়ে তাকে সংসারে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ছবিটি বাংলা ছাড়াও হিন্দী ও তামিল ভাষায় নির্মিত হয়েছিল।
